ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রূপালী ব্যাংকের ডিজিএম কর্তৃক সহকর্মী নারীকে যৌন হয়রানি: ধামাচাপা দিতে মরিয়া তদন্ত কমিটি Logo প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা হাতিয়ে বহাল তবিয়তে মাদারীপুরের দুই সহকারী সমাজসেবা অফিসারl Logo যমুনা লাইফের গ্রাহক প্রতারণায় ‘জড়িতরা’ কে কোথায় Logo ঢাকাস্থ ভোলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আহসান কামরুল, সম্পাদক জিয়াউর রহমান Logo টাটা মটরস বাংলাদেশে উদ্বোধন করলো টাটা যোদ্ধা Logo আশা শিক্ষা কর্মসূচী কর্তৃক অভিভাবক মতবিনিময় সভা Logo গণপূর্ত প্রধান প্রকৌশলীর গাড়ি চাপায় পিষ্ট সহকারী প্রকৌশলী -উত্তাল গণপূর্ত Logo শাবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ Logo সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাহিনুরের সীমাহীন সম্পদ ও অনিয়ম -পর্ব-০১ Logo তামাক সেবনের আলাদা কক্ষ বানালেন গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী: রয়েছে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ!




বরিশাল সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দুর্নীতির হাট : ঘুষের টাকা লেনদেন হয় প্রকাশ্যে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১২:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০১৯ ৯৩ বার পড়া হয়েছে

সকালের সংবাদ;

বরিশাল সাব-রেজিস্টার অফিসে ব্যাপক দুর্নীতি আর অনিয়মের মধ্য দিয়ে দলিল সম্পাদন হচ্ছে প্রকাশ্যে ঘুষের টাকার লেনদেন। এ অফিসে এসে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ সাধারন মানুষের।

সরেজমিন প্রদর্শন ও অনুসন্ধানে দেখা গেছে প্রতিটি টেবিলে টাকা দিতে হচ্ছে। টাকা না দিলে কাগজপত্রের ভুল ত্রুটি দেখিয়ে দলিল সম্পাদন না করে ফেরৎ দেয়া হচ্ছে।

বরিশাল সদর সাব রেজিষ্টার অফিসে প্রথমে দলিল দেখাতে হয় অফিস সহকারী একে এম ইব্রাহিম খলিলুল্লাহকে। তাকে প্রতি দলিল বাবদ এক হাজার দুইশত নগদ টাকা দিতে হয়। তার টেবিলের ঘুষের টাকা দিতে হয় ১নং মোহরার নাদিরা সুলতানাকে। এখানে টাকা না দিলে পরবর্তী টেবিলে যাবেনা। এভাবে অনেক টেবিল পার হয়ে সাব -রেজিষ্টারের টেবিলে দলিল সম্পাদনের জন্য উল্থাপিত হয়। বরিশালের সাব-রেজিস্টার রফিকুল ইসলাম যোগদান করার পর থেকে প্রতিনিয়ত জমির ক্রয়-বিক্রেতাদের হয়রানি করছে। সে সঙ্গে নানাবিদ অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে অফিসটি। অভিযোগ রয়েছে প্রতি দলিল সম্পাদনে প্রতি লাখে ১ হাজার থেকে ১৫ শত টাকা সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘুষ দিতে হয়। দলিল লেখকরা ঘুষের টাকা দিতে রাজি না হলে সাব-রেজিস্ট্রার কাগজের ভুলত্রুটি দেখিয়ে দলিল সম্পাদন না করে ফিরিয়ে দিলে দলিল লেখকরা ও ক্রেতা-বিক্রেতারা উভয় সংকটে পরে যান।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিসে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি অফিসে আসেন বেলা ১১টায়। সময় মত অফিসে না এসে সাধারন ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি এর আসায় বেলা ১১টায় অফিস করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলিল লেখক সমিতির একাধিক নেতারা জানান সাব-রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম কাগজপত্র সঠিক চান আবার ঘুষ ও চান। দলিল লেখকরা এ সব অনিয়ম ও দূর্নীতি প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের রোষানলে পরেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই অফিসের এক কর্মকর্তা জানান,সঠিকভাবে কাজ করলে জমি রেজিস্ট্রি খরচ অনেক কমে য়ায়। সেই সঙ্গে কমে যাবে দুর্নীতি।

এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী একে এম ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, আমি কোন টাকা নেই না। ১নং মোহরার নাদিরা সুলতানা বলেন,আমি টাকা নেইনা। সম্প্রতি প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও এ প্রতিনিধির হাতে আসলে তাতে দেখা গেছে,নাদিরা সুলতানা প্রথমে ঘুষের টাকা নিয়ে পরে টেবিলের নিচ দিয়ে অফিস সহকারী একে এম ইব্রাহিমকে দেয়া হচ্ছে। তিনি টাকা নিয়ে প্যান্টের পকেটে রেখে দিচ্ছেন। প্রকাশ্যে টাকা নেয়ার ভিডিওর বিষয়টি তাদের নজরে আনা হলে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য তদবির করেন। এ ব্যাপারে সাব -রেজিষ্টার রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে কল হলে তিনি রিসিভ করেন নি। প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের ভিডিওটি এ প্রতিনিধির হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




বরিশাল সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দুর্নীতির হাট : ঘুষের টাকা লেনদেন হয় প্রকাশ্যে

আপডেট সময় : ১২:১২:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০১৯

সকালের সংবাদ;

বরিশাল সাব-রেজিস্টার অফিসে ব্যাপক দুর্নীতি আর অনিয়মের মধ্য দিয়ে দলিল সম্পাদন হচ্ছে প্রকাশ্যে ঘুষের টাকার লেনদেন। এ অফিসে এসে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ সাধারন মানুষের।

সরেজমিন প্রদর্শন ও অনুসন্ধানে দেখা গেছে প্রতিটি টেবিলে টাকা দিতে হচ্ছে। টাকা না দিলে কাগজপত্রের ভুল ত্রুটি দেখিয়ে দলিল সম্পাদন না করে ফেরৎ দেয়া হচ্ছে।

বরিশাল সদর সাব রেজিষ্টার অফিসে প্রথমে দলিল দেখাতে হয় অফিস সহকারী একে এম ইব্রাহিম খলিলুল্লাহকে। তাকে প্রতি দলিল বাবদ এক হাজার দুইশত নগদ টাকা দিতে হয়। তার টেবিলের ঘুষের টাকা দিতে হয় ১নং মোহরার নাদিরা সুলতানাকে। এখানে টাকা না দিলে পরবর্তী টেবিলে যাবেনা। এভাবে অনেক টেবিল পার হয়ে সাব -রেজিষ্টারের টেবিলে দলিল সম্পাদনের জন্য উল্থাপিত হয়। বরিশালের সাব-রেজিস্টার রফিকুল ইসলাম যোগদান করার পর থেকে প্রতিনিয়ত জমির ক্রয়-বিক্রেতাদের হয়রানি করছে। সে সঙ্গে নানাবিদ অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে অফিসটি। অভিযোগ রয়েছে প্রতি দলিল সম্পাদনে প্রতি লাখে ১ হাজার থেকে ১৫ শত টাকা সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘুষ দিতে হয়। দলিল লেখকরা ঘুষের টাকা দিতে রাজি না হলে সাব-রেজিস্ট্রার কাগজের ভুলত্রুটি দেখিয়ে দলিল সম্পাদন না করে ফিরিয়ে দিলে দলিল লেখকরা ও ক্রেতা-বিক্রেতারা উভয় সংকটে পরে যান।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিসে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি অফিসে আসেন বেলা ১১টায়। সময় মত অফিসে না এসে সাধারন ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি এর আসায় বেলা ১১টায় অফিস করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলিল লেখক সমিতির একাধিক নেতারা জানান সাব-রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম কাগজপত্র সঠিক চান আবার ঘুষ ও চান। দলিল লেখকরা এ সব অনিয়ম ও দূর্নীতি প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের রোষানলে পরেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই অফিসের এক কর্মকর্তা জানান,সঠিকভাবে কাজ করলে জমি রেজিস্ট্রি খরচ অনেক কমে য়ায়। সেই সঙ্গে কমে যাবে দুর্নীতি।

এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী একে এম ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, আমি কোন টাকা নেই না। ১নং মোহরার নাদিরা সুলতানা বলেন,আমি টাকা নেইনা। সম্প্রতি প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও এ প্রতিনিধির হাতে আসলে তাতে দেখা গেছে,নাদিরা সুলতানা প্রথমে ঘুষের টাকা নিয়ে পরে টেবিলের নিচ দিয়ে অফিস সহকারী একে এম ইব্রাহিমকে দেয়া হচ্ছে। তিনি টাকা নিয়ে প্যান্টের পকেটে রেখে দিচ্ছেন। প্রকাশ্যে টাকা নেয়ার ভিডিওর বিষয়টি তাদের নজরে আনা হলে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য তদবির করেন। এ ব্যাপারে সাব -রেজিষ্টার রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে কল হলে তিনি রিসিভ করেন নি। প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের ভিডিওটি এ প্রতিনিধির হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।