ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :




ঝিনাইদহে বেড়েই চলেছে ধর্ষণ-নির্যাতন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৭:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯ ১১৪ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি;
ঝিনাইদহে ধর্ষণ, নির্যাতনসহ সহিংসতার ঘটনা প্রতিবছর বেড়েই চলেছে। এতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে জেলার মানুষের মাঝে।

ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের তথ্য বলছে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ধর্ষণ মামলার সংখ্যা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। সহিংসতার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অনেকেই। এতে মানুষের মাঝে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। পাশাপাশি দোষীদের বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে সাধারণ মানুষের।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পেত্নীপাড়া গ্রামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মামলা করেন তার বাবা। এরপর থেকে পলাতক অভিযুক্তের পরিবার। ধর্ষণ ও নির্যাতনের এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে ঝিনাইদহে। কিন্তু অপরাধীরা বরাবরই থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়রা বলছেন, ধর্ষণের ঘটনা মহামারি আকারে বেড়ে চেলেছে। ধর্ষকরা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে বারবার আইনের ফাঁক দিয়ে ছাড়া পেয়ে যায়। তাদের মধ্যে ভয় কাজ করে না। যে কারণে এসব ঘটনার বারবার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজছাত্রী বলেন, আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি, স্কুল কলেজও বর্তমানে আমাদের জন্য নিরাপদ না।

জেলা পুলিশের তথ্য বলছে, ২০১৬ সালে জেলায় ১৮টি ধর্ষণের মামলা হয়, ২০১৭ সালে ২৪টি মামলা হয়, ২০১৮ সালে ৩১টি মামলা হয়। আর চলতি বছর এ পর্যন্ত ঝিনাইদহে ধর্ষণের মামলা হয়েছে ১৪টি। যৌন সহিংসতার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৭ জন।

অবশ্য হাসপাতালের তথ্য আরও বেশি। ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে সদর হাসপাতালে ২০১৬ সালে ৪৭ জন, ২০১৭ সালে ৭৭ জন এবং ২০১৮ সালে ৯৮ জন ভর্তি হয়।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনা বাড়ার কথা স্বীকার করে পুলিশ বলছে, পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে অনেক সময় আসামিরা ছাড়া পেয়ে যায়।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস জানান, ধর্ষণ ও যৌন সন্ত্রাসের জন্য সামাজিক অবক্ষয় অনেকাংশে দায়ী। তবে এটা রাতারাতি বা জোর-জুলুম করে বন্ধ করা যাবে না, সামাজিক বিপ্লব গড়ে তুলতে হবে।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংগঠনের ঝিনাইদহ জেলাশাখার সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান টুকু বলেন, মামলার দীর্ঘসূত্রীতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতিসহ নানা কারণে ভুক্তভোগীরা বিচার পাচ্ছেন না।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. অপূর্ব কুমার জানান, এসব ঘটনায় সঠিক বিচার পেতে হলে এবং ধর্ষণ কমিয়ে আনতে হলে ধর্ষণ ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভিকটিমকে হাসপাতালে আনতে হবে। তাহলে আলামত সঠিকভাবে পাওয়া যায় এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা ও রিপোর্ট দিলে প্রকৃত আসামিদের আইনের আওতায় আনা সহজ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




ঝিনাইদহে বেড়েই চলেছে ধর্ষণ-নির্যাতন

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯

জেলা প্রতিনিধি;
ঝিনাইদহে ধর্ষণ, নির্যাতনসহ সহিংসতার ঘটনা প্রতিবছর বেড়েই চলেছে। এতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে জেলার মানুষের মাঝে।

ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের তথ্য বলছে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ধর্ষণ মামলার সংখ্যা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। সহিংসতার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অনেকেই। এতে মানুষের মাঝে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। পাশাপাশি দোষীদের বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে সাধারণ মানুষের।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পেত্নীপাড়া গ্রামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মামলা করেন তার বাবা। এরপর থেকে পলাতক অভিযুক্তের পরিবার। ধর্ষণ ও নির্যাতনের এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে ঝিনাইদহে। কিন্তু অপরাধীরা বরাবরই থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়রা বলছেন, ধর্ষণের ঘটনা মহামারি আকারে বেড়ে চেলেছে। ধর্ষকরা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে বারবার আইনের ফাঁক দিয়ে ছাড়া পেয়ে যায়। তাদের মধ্যে ভয় কাজ করে না। যে কারণে এসব ঘটনার বারবার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজছাত্রী বলেন, আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি, স্কুল কলেজও বর্তমানে আমাদের জন্য নিরাপদ না।

জেলা পুলিশের তথ্য বলছে, ২০১৬ সালে জেলায় ১৮টি ধর্ষণের মামলা হয়, ২০১৭ সালে ২৪টি মামলা হয়, ২০১৮ সালে ৩১টি মামলা হয়। আর চলতি বছর এ পর্যন্ত ঝিনাইদহে ধর্ষণের মামলা হয়েছে ১৪টি। যৌন সহিংসতার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৭ জন।

অবশ্য হাসপাতালের তথ্য আরও বেশি। ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে সদর হাসপাতালে ২০১৬ সালে ৪৭ জন, ২০১৭ সালে ৭৭ জন এবং ২০১৮ সালে ৯৮ জন ভর্তি হয়।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনা বাড়ার কথা স্বীকার করে পুলিশ বলছে, পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে অনেক সময় আসামিরা ছাড়া পেয়ে যায়।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস জানান, ধর্ষণ ও যৌন সন্ত্রাসের জন্য সামাজিক অবক্ষয় অনেকাংশে দায়ী। তবে এটা রাতারাতি বা জোর-জুলুম করে বন্ধ করা যাবে না, সামাজিক বিপ্লব গড়ে তুলতে হবে।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংগঠনের ঝিনাইদহ জেলাশাখার সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান টুকু বলেন, মামলার দীর্ঘসূত্রীতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতিসহ নানা কারণে ভুক্তভোগীরা বিচার পাচ্ছেন না।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. অপূর্ব কুমার জানান, এসব ঘটনায় সঠিক বিচার পেতে হলে এবং ধর্ষণ কমিয়ে আনতে হলে ধর্ষণ ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভিকটিমকে হাসপাতালে আনতে হবে। তাহলে আলামত সঠিকভাবে পাওয়া যায় এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা ও রিপোর্ট দিলে প্রকৃত আসামিদের আইনের আওতায় আনা সহজ হবে।