ঢাকা ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

কাস্টমসে আওয়ামী দোসর আজাদের রাজত্ব বহাল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ৩৫৬ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি: রাজস্ব কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের সরকারের সমর্থনপুষ্ট কর্মকর্তা হিসেবেই পরিচিত। তার বিরুদ্ধে অসাধু ব্যবসায়ীদের যোগসাজসে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের ডজনখানেক অভিযোগ রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে কয়েক দফা তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে জমা পড়েছে বেশকটি অভিযোগ। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ নেতা ও ছাত্রলীগের মদদে সেই অভিযোগ আর আলোর মুখ দেখেনি।

গোপালগঞ্জের পরিচয়ে শেখ সেলিমের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্য চালানোর অভিযোগ রয়েছে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে নিজের পকেট ভারি করেছেন এই রাজস্ব কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ পণ্যর চালান আটকের পর টাকার বিনিময়ে তা পার করিয়ে দেন আবুল কালাম আজাদ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাস্টমসে বেশকজন কর্মকর্তা জানান, এই রাজস্ব কর্মকর্তার এতোটাই দাপট ছিলো যে, তার ভয়ে এআরও, আরও, এসি, ডিসি, জেসি, কমিশনার পর্যায়ের বেশিরভাগ কর্মকর্তারাই আতঙ্কে থাকতেন। চোখের সামনেই বিভিন্ন অনিময় দেখলেও, আবুল কালাম আজাদের রাজনৈতিক ক্ষমতার কাছে নতী স্বীকার করেছেন সবাই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আবুল কালাম আজাদের পিতা বাবর আলী খান গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর চরভাটাপাড়ার চামটা ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সেই সুবাদে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার আমলে নিজেও ফ্যাসিস্ট বনে যান তিনি। এনবিআরের রাজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ধনী খ্যাত আবুল কালাম আজাদ বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। যা তার বেতনের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

আবুল কালাম আজাদের এলাকায় কয়েকজনের সাথে কলা বলে জানা যায়, তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। চতুর এই কর্মকর্তা আইনগত ঝামেলা এড়ানোর জন্য তার স্ত্রী সেতু আক্তারের নামে ও নিজের নামে থাকা সম্পদ বাবার নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর মগবাজারে মারভিলার পঞ্চম তলায় এক স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন তিনি। পাশের আরেকটি গলিতে তার আরেক স্ত্রী বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। আবুল কালাম আজাদের সম্পত্তি নিয়ে দুই স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ রয়েছে বলেও জানান যায়।

অভিযোগের বিষয়ে আবুল কালাম আজাদের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন আমি ভাড়া বাসায় থাকি, ঢাকা শহরে আমার কোন ফ্ল্যাট বা বাড়ি নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

কাস্টমসে আওয়ামী দোসর আজাদের রাজত্ব বহাল

আপডেট সময় : ০৮:১৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি: রাজস্ব কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের সরকারের সমর্থনপুষ্ট কর্মকর্তা হিসেবেই পরিচিত। তার বিরুদ্ধে অসাধু ব্যবসায়ীদের যোগসাজসে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের ডজনখানেক অভিযোগ রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে কয়েক দফা তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে জমা পড়েছে বেশকটি অভিযোগ। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ নেতা ও ছাত্রলীগের মদদে সেই অভিযোগ আর আলোর মুখ দেখেনি।

গোপালগঞ্জের পরিচয়ে শেখ সেলিমের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্য চালানোর অভিযোগ রয়েছে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে নিজের পকেট ভারি করেছেন এই রাজস্ব কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ পণ্যর চালান আটকের পর টাকার বিনিময়ে তা পার করিয়ে দেন আবুল কালাম আজাদ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাস্টমসে বেশকজন কর্মকর্তা জানান, এই রাজস্ব কর্মকর্তার এতোটাই দাপট ছিলো যে, তার ভয়ে এআরও, আরও, এসি, ডিসি, জেসি, কমিশনার পর্যায়ের বেশিরভাগ কর্মকর্তারাই আতঙ্কে থাকতেন। চোখের সামনেই বিভিন্ন অনিময় দেখলেও, আবুল কালাম আজাদের রাজনৈতিক ক্ষমতার কাছে নতী স্বীকার করেছেন সবাই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আবুল কালাম আজাদের পিতা বাবর আলী খান গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর চরভাটাপাড়ার চামটা ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সেই সুবাদে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার আমলে নিজেও ফ্যাসিস্ট বনে যান তিনি। এনবিআরের রাজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ধনী খ্যাত আবুল কালাম আজাদ বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। যা তার বেতনের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

আবুল কালাম আজাদের এলাকায় কয়েকজনের সাথে কলা বলে জানা যায়, তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। চতুর এই কর্মকর্তা আইনগত ঝামেলা এড়ানোর জন্য তার স্ত্রী সেতু আক্তারের নামে ও নিজের নামে থাকা সম্পদ বাবার নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর মগবাজারে মারভিলার পঞ্চম তলায় এক স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন তিনি। পাশের আরেকটি গলিতে তার আরেক স্ত্রী বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। আবুল কালাম আজাদের সম্পত্তি নিয়ে দুই স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ রয়েছে বলেও জানান যায়।

অভিযোগের বিষয়ে আবুল কালাম আজাদের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন আমি ভাড়া বাসায় থাকি, ঢাকা শহরে আমার কোন ফ্ল্যাট বা বাড়ি নেই।