ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাসের সমস্যা ভেবে হার্ট অ্যাটাকের ৪টি নীরব সংকেত অবহেলা করলেই বিপদ Logo এবার জুলাই হত্যা মামলায় কারাগারে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি Logo বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরের মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন রাষ্ট্রপতি Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন : মীর শাহে আলম Logo নিজের নামে টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে যা বললেন মেসি! Logo আফগানিস্তানের ১০ স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা পাকিস্তানের Logo রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী Logo ট্রাম্পের সঙ্গে খলিলুর রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময় Logo মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে সস্ত্রীক প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে : রিজভী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৭:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও ভারত তাতে সাড়া দিচ্ছে না।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, যিনি ১৪০০ তরুণ-কিশোর, ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকের রক্ত ঝরিয়েছেন, সেই শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে। তার সঙ্গে যারা গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে, গণহত্যা চালিয়েছে, তারাও সেখানে পালিয়ে রয়েছে। অথচ বাংলাদেশ সরকার আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী তাদের বারবার ফেরত চেয়েও পাচ্ছে না। অতীতে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার দায়ে অভিযুক্ত এক সাবেক মেজরকে ভারত যদি শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করতে পারে, তাহলে শেখ হাসিনাকে কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, একজন স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে যথাযথ মর্যাদা না দিয়ে বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাই তিনি ওই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পরদিনই ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হওয়ার কথা জানানো হয়। এটিকে তিনি ‘কূটকৌশল’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

দেশের গ্যাস ও জ্বালানি সংকটকে বৈশ্বিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় সরকার মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারসহ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে বলে দাবি করে বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন তিনি।

রিজভী বলেন, গত ১৬ বছর দেশে লুণ্ঠন, অর্থপাচার, গুম ও গুপ্তহত্যা চলেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করলেও কোনো বিরোধী নেতা গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হননি।

মধুর ক্যান্টিন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, একাত্তরের অর্জন মুছে ফেলার কোনো চেষ্টা দেশের মানুষ মেনে নেবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনকে ‘বিশ্রাম মঞ্জিল’ বানানোর চেষ্টা শহীদ মধুর আত্মত্যাগের প্রতি অপমান বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে : রিজভী

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও ভারত তাতে সাড়া দিচ্ছে না।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, যিনি ১৪০০ তরুণ-কিশোর, ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকের রক্ত ঝরিয়েছেন, সেই শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে। তার সঙ্গে যারা গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে, গণহত্যা চালিয়েছে, তারাও সেখানে পালিয়ে রয়েছে। অথচ বাংলাদেশ সরকার আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী তাদের বারবার ফেরত চেয়েও পাচ্ছে না। অতীতে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার দায়ে অভিযুক্ত এক সাবেক মেজরকে ভারত যদি শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করতে পারে, তাহলে শেখ হাসিনাকে কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, একজন স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে যথাযথ মর্যাদা না দিয়ে বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাই তিনি ওই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পরদিনই ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হওয়ার কথা জানানো হয়। এটিকে তিনি ‘কূটকৌশল’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

দেশের গ্যাস ও জ্বালানি সংকটকে বৈশ্বিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় সরকার মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারসহ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে বলে দাবি করে বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন তিনি।

রিজভী বলেন, গত ১৬ বছর দেশে লুণ্ঠন, অর্থপাচার, গুম ও গুপ্তহত্যা চলেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করলেও কোনো বিরোধী নেতা গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হননি।

মধুর ক্যান্টিন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, একাত্তরের অর্জন মুছে ফেলার কোনো চেষ্টা দেশের মানুষ মেনে নেবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনকে ‘বিশ্রাম মঞ্জিল’ বানানোর চেষ্টা শহীদ মধুর আত্মত্যাগের প্রতি অপমান বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।