ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালসের
- আপডেট সময় : ১১:৫৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

মানহীন ওষুধ উৎপাদন, ঘুষ-দুর্নীতি ও অবৈধ যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার; দুই থানায় সাধারণ ডায়েরি
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহা. আলমগীর হোসেনকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদকে অসংগতিপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর দাবি করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।
সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট গণমাধ্যমে ‘মানহীন ওষুধ বাজারে রেখে রহস্যজনক নীরবতা—ঔষধ প্রশাসনের আলমগীর হোসেন ও বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের দুর্নীতির জালে হুমকিতে জনস্বাস্থ্য’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ওই সংবাদে প্রতিষ্ঠানটি এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ঘিরে যেসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের অবস্থানের উল্লেখযোগ্য অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করেছে বায়োজেন।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালস কোনো ধরনের মানহীন ওষুধ উৎপাদন, ঘুষ, দুর্নীতি, অনৈতিক আর্থিক লেনদেন কিংবা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবৈধ যোগসাজশে জড়িত নয়। একইভাবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জড়িয়ে প্রকাশিত অভিযোগের সঙ্গেও প্রতিষ্ঠানের কোনো অনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, প্রকাশিত সংবাদে ওষুধের নমুনা পরীক্ষা, পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন, নিবন্ধন স্থগিতকরণ এবং উৎপাদন ও বাজারজাতকরণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া, পরীক্ষার ফলাফল ও দাপ্তরিক নথির আলোকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল কিংবা প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণকে সরাসরি ঘুষ, দুর্নীতি বা অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার আগে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ থাকা জরুরি।
প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মানহীন ওষুধ বাজারজাত অব্যাহত রাখা এবং প্রশাসনিক নির্দেশনা অমান্য করার যে অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে, তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পণ্যের ব্যাচ, পরীক্ষার ফলাফল, উৎপাদন ও সরবরাহের তথ্য এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রকৃত অবস্থা বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে বায়োজেন।
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালস ওষুধের গুণগত মান বজায় রাখা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো পণ্য বা কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন, পর্যবেক্ষণ কিংবা তদন্ত থাকলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা মোকাবিলা করতে প্রতিষ্ঠানটি প্রস্তুত।
এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রতিবেদকের প্রতি প্রকাশিত সংবাদের তথ্য ও অভিযোগ পুনরায় যাচাই করে প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য যথাযথ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা এবং প্রতিবাদলিপিটি মূল সংবাদের সমান গুরুত্ব ও মর্যাদায় প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রকাশিত সংবাদের অসংগতিপূর্ণ ও আপত্তিকর বক্তব্যের বিষয়ে বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে পল্টন মডেল থানা ও পটুয়াখালী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর করা জিডি দুটির নম্বর যথাক্রমে ২৩১ ও ১৪৬।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বাক্ষরিত প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালস আইনসম্মত ও দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বিশ্বাসী। প্রতিষ্ঠানের সুনাম, স্বচ্ছতা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার তারা সংরক্ষণ করছেন।
প্রতিবাদকারী হিসেবে বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নাম উল্লেখ করে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে ৫, রাজ্জাক টাওয়ার (৫ম তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা।





















