ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জোরালো আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত: প্রধানমন্ত্রী Logo জ্বালানি ও বিনিয়োগ সহযোগিতায় গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের Logo মাথাপিছু জিডিপিতে এ বছর ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ: আইএমএফ Logo মোটরসাইকেলের চেইন পরিষ্কার ও লুব করার সঠিক নিয়ম Logo নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম পর্বের ৪০ খেলোয়াড় বিকেএসপিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে ভর্তির সুযোগ Logo তেহরানে বৈঠকে বসছে মক্কা প্যাক্ট ও ইরান Logo নিত্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে, রমজানে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার আশা Logo লগি-বৈঠার আঘাতে নিহতদের স্মরণ করলেন বিরোধীদলীয় নেতা

ঠিকাদারদের কাছে যিনি “মিস্টার ফাইভ পার্সেন্ট” গণপূর্তের আবুল খায়েরের দুর্নীতির আমলনামা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২৯ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল খায়েরের অবসরে যাওয়ার সময় আর মাত্র কিছুদিন বাকি। কিন্তু জীবনের এই শেষ সময়ে এসেও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে চরম ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকালে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সম্প্রতি গাজীপুরে ফায়ার সার্ভিস দপ্তরের কাছে কোটি টাকা ঘুষ দাবির ঘটনাটি তাঁর এই দুর্নীতির তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে।

তাঁর এই অনিয়মের শুরু চাকরির একেবারে প্রথম দিক থেকেই। তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তিনি গোপালগঞ্জে প্রভাব খাটিয়ে কাজ শুরু করেন এবং প্রভাবশালী নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে তিনি ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন বা ‘কাটমানি’ আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো ঠিকাদার টাকা দিতে রাজি না হলে তাঁর বিল আটকে দেওয়া কিংবা তাঁকে কালো তালিকাভুক্ত করার হুমকি দেওয়া হতো। এরপর কুমিল্লায় গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লে তাঁকে আকস্মিকভাবে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

রংপুরে বদলি হওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থামেনি। সেখানে অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা সরাসরি টেলিভিশনের লাইভ অনুষ্ঠানে এসে তাঁর ঘুষ বাণিজ্যের কথা প্রকাশ করে দেন। গণপূর্তের বাইরে ন্যাশনাল হাউজিং অথরিটিতে থাকার সময়ও প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ এবং নকশা অনুমোদনের নামে তিনি প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত আবুল খায়ের ঠিকাদারদের কাছে ‘মিস্টার ৫%’ নামে পরিচিত, কারণ যেকোনো প্রকল্পের কাজের জন্য তিনি সরাসরি ৫ শতাংশ কমিশন দাবি করেন।

নানা অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় তাঁর ও তাঁর স্বজনদের নামে অন্তত ২৪টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। পাশাপাশি পূর্বাচল ও ময়মনসিংহে বিপুল পরিমাণ জমি ও খামারবাড়ি তৈরি করেছেন তিনি। সরকারি দপ্তরে দুর্নীতিবিরোধী তৎপরতা চললেও তিনি এখনও প্রভাব ধরে রেখেছেন। সাধারণ ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তাঁর অবৈধ সম্পদ ও ব্যাংক হিসাবের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন।

তবে এসব বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিস্তারিত থাকছে আগামী পর্বে…

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ঠিকাদারদের কাছে যিনি “মিস্টার ফাইভ পার্সেন্ট” গণপূর্তের আবুল খায়েরের দুর্নীতির আমলনামা

আপডেট সময় : ০৯:০৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল খায়েরের অবসরে যাওয়ার সময় আর মাত্র কিছুদিন বাকি। কিন্তু জীবনের এই শেষ সময়ে এসেও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে চরম ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকালে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সম্প্রতি গাজীপুরে ফায়ার সার্ভিস দপ্তরের কাছে কোটি টাকা ঘুষ দাবির ঘটনাটি তাঁর এই দুর্নীতির তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে।

তাঁর এই অনিয়মের শুরু চাকরির একেবারে প্রথম দিক থেকেই। তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তিনি গোপালগঞ্জে প্রভাব খাটিয়ে কাজ শুরু করেন এবং প্রভাবশালী নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে তিনি ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন বা ‘কাটমানি’ আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো ঠিকাদার টাকা দিতে রাজি না হলে তাঁর বিল আটকে দেওয়া কিংবা তাঁকে কালো তালিকাভুক্ত করার হুমকি দেওয়া হতো। এরপর কুমিল্লায় গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লে তাঁকে আকস্মিকভাবে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

রংপুরে বদলি হওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থামেনি। সেখানে অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা সরাসরি টেলিভিশনের লাইভ অনুষ্ঠানে এসে তাঁর ঘুষ বাণিজ্যের কথা প্রকাশ করে দেন। গণপূর্তের বাইরে ন্যাশনাল হাউজিং অথরিটিতে থাকার সময়ও প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ এবং নকশা অনুমোদনের নামে তিনি প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত আবুল খায়ের ঠিকাদারদের কাছে ‘মিস্টার ৫%’ নামে পরিচিত, কারণ যেকোনো প্রকল্পের কাজের জন্য তিনি সরাসরি ৫ শতাংশ কমিশন দাবি করেন।

নানা অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় তাঁর ও তাঁর স্বজনদের নামে অন্তত ২৪টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। পাশাপাশি পূর্বাচল ও ময়মনসিংহে বিপুল পরিমাণ জমি ও খামারবাড়ি তৈরি করেছেন তিনি। সরকারি দপ্তরে দুর্নীতিবিরোধী তৎপরতা চললেও তিনি এখনও প্রভাব ধরে রেখেছেন। সাধারণ ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তাঁর অবৈধ সম্পদ ও ব্যাংক হিসাবের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন।

তবে এসব বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিস্তারিত থাকছে আগামী পর্বে…