ঢাকা ০৬:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক আরিফ হাসনাতের দূর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের সন্ধান: নারী কেলেঙ্কারিতেও তিনি বেপরোয়া!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ৩০২ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক’ ঢাকা: বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন (আরিফ হাসনাত)-এর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রশাসনিক প্রভাব ও ক্ষমতাসীন মহলের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে আরিফ হাসনাত বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি আগের প্রভাব-প্রতিপত্তি বজায় রেখে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (প্রশাসন)-এর কাছে আরিফ হাসনাতের চাকরি, আর্থিক লেনদেন ও সম্পদ-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি চাওয়া হয়।

দুদকের চাহিদাকৃত নথির মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ ও সদরঘাট বন্দরের নির্দিষ্ট সময়ের ব্যাংক হিসাবের বিবরণ, চাকরিজীবনের শুরু থেকে জুন ২০২৩ পর্যন্ত বেতন-ভাতা সংক্রান্ত তথ্য, দায়িত্ব বণ্টনের অফিস আদেশ এবং তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও ভাইদের নামে ব্যবসা বা শেয়ার পরিচালনার অনুমোদনপত্র।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অবৈধ আয়ের অর্থে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি। অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে একটি বহুতল ভবন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, পাবনা জেলায় বিপুল পরিমাণ জমি এবং বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে উচ্চমূল্যের স্থায়ী আমানত (এফডিআর)।

এদিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একাধিক স্মারকে ‘এস্টেট ও আইন’ বিভাগে পদ সৃষ্টির বিষয়ে অর্থ বিভাগের আপত্তি ও সীমিত সম্মতির বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও সংশ্লিষ্ট পদে পরিচালক পর্যায়ের সুযোগ-সুবিধা ভোগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।

এর পাশাপাশি আরিফ হাসনাতের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু অভিযোগও সম্প্রতি সামনে এসেছে। একটি ভিডিও ফুটেজের প্রসঙ্গ বিভিন্ন মহলে আলোচিত হলেও এর সত্যতা, ধারণকাল কিংবা প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, যথাযথ ডিজিটাল ফরেনসিক যাচাই ছাড়া এ ধরনের কোনো উপাদানকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা সমীচীন নয়।

তবে নিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন পরিচালক আরিফ হাসনাত। তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল ও দুর্নীতিবিরোধী কর্মীদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার ও গুরুতর অনিয়মের চিত্র সামনে আসবে। অন্যদিকে অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সুনাম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মহলের নজর দুদক ও সরকারের তদন্তকারী সংস্থাগুলোর অনুসন্ধান কার্যক্রমের ফলাফলের দিকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক আরিফ হাসনাতের দূর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের সন্ধান: নারী কেলেঙ্কারিতেও তিনি বেপরোয়া!

আপডেট সময় : ১০:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক’ ঢাকা: বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন (আরিফ হাসনাত)-এর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রশাসনিক প্রভাব ও ক্ষমতাসীন মহলের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে আরিফ হাসনাত বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি আগের প্রভাব-প্রতিপত্তি বজায় রেখে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (প্রশাসন)-এর কাছে আরিফ হাসনাতের চাকরি, আর্থিক লেনদেন ও সম্পদ-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি চাওয়া হয়।

দুদকের চাহিদাকৃত নথির মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ ও সদরঘাট বন্দরের নির্দিষ্ট সময়ের ব্যাংক হিসাবের বিবরণ, চাকরিজীবনের শুরু থেকে জুন ২০২৩ পর্যন্ত বেতন-ভাতা সংক্রান্ত তথ্য, দায়িত্ব বণ্টনের অফিস আদেশ এবং তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও ভাইদের নামে ব্যবসা বা শেয়ার পরিচালনার অনুমোদনপত্র।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অবৈধ আয়ের অর্থে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি। অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে একটি বহুতল ভবন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, পাবনা জেলায় বিপুল পরিমাণ জমি এবং বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে উচ্চমূল্যের স্থায়ী আমানত (এফডিআর)।

এদিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একাধিক স্মারকে ‘এস্টেট ও আইন’ বিভাগে পদ সৃষ্টির বিষয়ে অর্থ বিভাগের আপত্তি ও সীমিত সম্মতির বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও সংশ্লিষ্ট পদে পরিচালক পর্যায়ের সুযোগ-সুবিধা ভোগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।

এর পাশাপাশি আরিফ হাসনাতের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু অভিযোগও সম্প্রতি সামনে এসেছে। একটি ভিডিও ফুটেজের প্রসঙ্গ বিভিন্ন মহলে আলোচিত হলেও এর সত্যতা, ধারণকাল কিংবা প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, যথাযথ ডিজিটাল ফরেনসিক যাচাই ছাড়া এ ধরনের কোনো উপাদানকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা সমীচীন নয়।

তবে নিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন পরিচালক আরিফ হাসনাত। তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল ও দুর্নীতিবিরোধী কর্মীদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার ও গুরুতর অনিয়মের চিত্র সামনে আসবে। অন্যদিকে অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সুনাম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মহলের নজর দুদক ও সরকারের তদন্তকারী সংস্থাগুলোর অনুসন্ধান কার্যক্রমের ফলাফলের দিকে।