ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিএসসিসির ইতিহাসে ২২ বছরের পদ জবরদখল ও আধিপত্য: তদন্তে সিরাজুল ইসলামের চাকরিবিধি লঙ্ঘনের খতিয়ান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) স্থপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, নিয়োগ জালিয়াতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক তদন্তে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই তিনি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে দেখা গেছে, মূলত ৬ষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হয়েও সিরাজুল ইসলামকে ৪র্থ গ্রেডের গুরুত্বপূর্ণ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অথচ বিদ্যমান সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী এমন দায়িত্ব প্রদানের সুযোগ ছিল না। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ২০১১ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বিভক্ত হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন গঠনের পর তার দায়িত্ব বহালের কোনো লিখিত আদেশ বা প্রশাসনিক অনুমোদনের নথি পাওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, মৌখিক নির্দেশে এ ধরনের দায়িত্ব পালনের কোনো বিধান নেই।

তদন্তে তার চাকরির শুরু থেকেই অনিয়মের বিষয়টি সামনে এসেছে। ১৯৯৭ সালে স্থপতি পদে নিয়োগের সময় বিজ্ঞপ্তিতে স্থাপত্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অন্তত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, সিরাজুল ইসলাম সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি প্রতিষ্ঠানের ডিপ্লোমা সনদ জমা দিয়েছিলেন, যার সমমান সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কোনো প্রত্যয়ন পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে চাকরিতে যোগদানের সময় তার প্রয়োজনীয় পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতাও ছিল না। তদন্তে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৪ সালে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের মৃত্যুর পর সাময়িকভাবে তাকে ওই পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক মাসের জন্য দেওয়া সেই দায়িত্বই স্থায়ী রূপ নেয়। পরবর্তী ২২ বছর ধরে তিনি একই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১১ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বিভক্ত হওয়ার পর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নতুন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগ দিলেও দক্ষিণ সিটিতে আর কোনো নিয়োগ হয়নি। বরং সিরাজুল ইসলামই দায়িত্বে বহাল থাকেন। তদন্তে ডিএসসিসির প্রতিনিধিরাও স্বীকার করেছেন যে তৎকালীন মেয়রের মৌখিক নির্দেশে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে সিরাজুল ইসলাম শুধু প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের দায়িত্বই পালন করেননি, একই সঙ্গে একাধিক বড় প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব নিয়েছেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি অন্তত তিনটি বৃহৎ প্রকল্পের নেতৃত্বে ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে ৮৫০ কোটি টাকার ঢাকা সিটি নেবারহুড আপগ্রেডিং প্রকল্প, নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) প্রকল্প এবং ঢাকা নগর মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রকল্প। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একজন কর্মকর্তাকে সাধারণত একটি এবং বিশেষ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুটি প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তার ক্ষেত্রে সেই সীমা মানা হয়নি বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই স্থানীয় সরকার বিভাগ তদন্ত শুরু করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনসহ বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তদন্তে কয়েক কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য উঠে এলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে শুধু সিরাজুল ইসলামের ব্যক্তিগত অনিয়ম নয়, ডিএসসিসির প্রশাসনিক দুর্বলতা ও দায়িত্বহীনতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব প্রদান ও নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সতর্কতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বর্ধনশীল একটি মহানগরের পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দায়িত্বে দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তার উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে যোগ্যতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকা একজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করায় নগর ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সবশেষে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, প্রশাসনিক নিয়মকানুন উপেক্ষা করে একজন কর্মকর্তা কীভাবে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকলেন এবং এই দীর্ঘ সময়ে তাকে কারা বা কোন প্রভাবশালী মহল রক্ষা করেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্তে এসব অনিয়ম উঠে এলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ডিএসসিসির ইতিহাসে ২২ বছরের পদ জবরদখল ও আধিপত্য: তদন্তে সিরাজুল ইসলামের চাকরিবিধি লঙ্ঘনের খতিয়ান

আপডেট সময় : ১০:৫৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) স্থপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, নিয়োগ জালিয়াতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক তদন্তে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই তিনি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে দেখা গেছে, মূলত ৬ষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হয়েও সিরাজুল ইসলামকে ৪র্থ গ্রেডের গুরুত্বপূর্ণ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অথচ বিদ্যমান সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী এমন দায়িত্ব প্রদানের সুযোগ ছিল না। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ২০১১ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বিভক্ত হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন গঠনের পর তার দায়িত্ব বহালের কোনো লিখিত আদেশ বা প্রশাসনিক অনুমোদনের নথি পাওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, মৌখিক নির্দেশে এ ধরনের দায়িত্ব পালনের কোনো বিধান নেই।

তদন্তে তার চাকরির শুরু থেকেই অনিয়মের বিষয়টি সামনে এসেছে। ১৯৯৭ সালে স্থপতি পদে নিয়োগের সময় বিজ্ঞপ্তিতে স্থাপত্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অন্তত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, সিরাজুল ইসলাম সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি প্রতিষ্ঠানের ডিপ্লোমা সনদ জমা দিয়েছিলেন, যার সমমান সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কোনো প্রত্যয়ন পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে চাকরিতে যোগদানের সময় তার প্রয়োজনীয় পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতাও ছিল না। তদন্তে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৪ সালে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের মৃত্যুর পর সাময়িকভাবে তাকে ওই পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক মাসের জন্য দেওয়া সেই দায়িত্বই স্থায়ী রূপ নেয়। পরবর্তী ২২ বছর ধরে তিনি একই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১১ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বিভক্ত হওয়ার পর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নতুন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগ দিলেও দক্ষিণ সিটিতে আর কোনো নিয়োগ হয়নি। বরং সিরাজুল ইসলামই দায়িত্বে বহাল থাকেন। তদন্তে ডিএসসিসির প্রতিনিধিরাও স্বীকার করেছেন যে তৎকালীন মেয়রের মৌখিক নির্দেশে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে সিরাজুল ইসলাম শুধু প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের দায়িত্বই পালন করেননি, একই সঙ্গে একাধিক বড় প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব নিয়েছেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি অন্তত তিনটি বৃহৎ প্রকল্পের নেতৃত্বে ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে ৮৫০ কোটি টাকার ঢাকা সিটি নেবারহুড আপগ্রেডিং প্রকল্প, নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) প্রকল্প এবং ঢাকা নগর মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রকল্প। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একজন কর্মকর্তাকে সাধারণত একটি এবং বিশেষ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুটি প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তার ক্ষেত্রে সেই সীমা মানা হয়নি বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই স্থানীয় সরকার বিভাগ তদন্ত শুরু করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনসহ বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তদন্তে কয়েক কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য উঠে এলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে শুধু সিরাজুল ইসলামের ব্যক্তিগত অনিয়ম নয়, ডিএসসিসির প্রশাসনিক দুর্বলতা ও দায়িত্বহীনতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব প্রদান ও নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সতর্কতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বর্ধনশীল একটি মহানগরের পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দায়িত্বে দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তার উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে যোগ্যতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকা একজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করায় নগর ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সবশেষে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, প্রশাসনিক নিয়মকানুন উপেক্ষা করে একজন কর্মকর্তা কীভাবে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকলেন এবং এই দীর্ঘ সময়ে তাকে কারা বা কোন প্রভাবশালী মহল রক্ষা করেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্তে এসব অনিয়ম উঠে এলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।