ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

মিরপুর বিআরটিএতে মালিকানা বদল সেবায় দালালচক্রের দৌরাত্ম্য: কাউন্টার কর্মকর্তাকে ঘিরে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২০:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ২৮১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ের মালিকানা বদল শাখায় অনিয়ম ও দালালচক্রের প্রভাব নিয়ে নতুন করে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ১১৪/৬ নম্বর কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. রন্জুকে ঘিরে ঘুষ বাণিজ্যের একটি সংগঠিত সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

গাড়ির ক্রেতা ও বিক্রেতাদের অভিযোগ, মালিকানা বদলের মতো নিয়মিত সরকারি সেবা পেতেও এখন তাদের নানামুখী হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ঠিক থাকা এবং উভয় পক্ষ উপস্থিত থাকার পরও নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কখনো কাগজে ত্রুটি দেখানো, আবার কখনো অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলে সেবাগ্রহীতাদের দিনের পর দিন ঘুরতে বাধ্য করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এই জটিলতার মধ্যেই দালালদের মাধ্যমে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার প্রস্তাব আসে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ির মালিকানা বদলের জন্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকে।

সরেজমিনে ১১৪/৬ নম্বর কাউন্টারের আশপাশে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি প্রকাশ্যেই সরকারি চেয়ার-টেবিল ব্যবহার করে দালালির কাজ করছেন। তারা অনেকটা সরকারি কর্মচারীর মতো আচরণ করে গ্রাহকদের কাছ থেকে কাগজপত্র নিচ্ছেন, ফাইল যাচাই করছেন এবং দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন।

এদের মধ্যে মো. বাবু, মো. মনির, মো. ইমরান, মো. আলী ও মো. ইব্রাহীম নামে কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা সরাসরি গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব দালাল দীর্ঘদিন ধরে অফিস কক্ষের ভেতরেই বসে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা কখনো স্লিপ দিচ্ছে, আবার কখনো ফাইল নিয়ে বিভিন্ন টেবিলে যাতায়াত করছে। পুরো বিষয়টি চোখের সামনে ঘটলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রন্জু এ বিষয়ে কার্যত কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ মালিকানা বদলের কাজ নিয়ে আসেন। কিন্তু দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের কারণে অনেকেই নির্ধারিত নিয়মে সেবা পাচ্ছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কাজ সম্পন্ন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সচেতন মহলের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে দালালচক্র সক্রিয় থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই পুরো ঘটনার বাস্তব চিত্র পরিষ্কার হয়ে উঠবে। কারণ দিনের বেলায় প্রকাশ্যেই সরকারি আসবাব ব্যবহার করে দালালদের লেনদেন করতে দেখা যায়।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিআরটিএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর-এর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে শিগগিরই লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীরা আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা হবে।

ভুক্তভোগী ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর বিআরটিএর মালিকানা বদল শাখায় একই ধরনের অভিযোগ উঠে আসছে। তাদের দাবি, অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কর্মকর্তা মো. রন্জুকে দ্রুত ওই কাউন্টার থেকে প্রত্যাহার বা অন্যত্র বদলি করা হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

তাদের ভাষ্য, একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে যখন বারবার ঘুষ ও দালালচক্রের অভিযোগ ওঠে, তখন স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থেই তাকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া জরুরি। এতে তদন্ত প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ হবে এবং সেবাগ্রহীতাদের আস্থাও ফিরবে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

মিরপুর বিআরটিএতে মালিকানা বদল সেবায় দালালচক্রের দৌরাত্ম্য: কাউন্টার কর্মকর্তাকে ঘিরে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০১:২০:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ের মালিকানা বদল শাখায় অনিয়ম ও দালালচক্রের প্রভাব নিয়ে নতুন করে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ১১৪/৬ নম্বর কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. রন্জুকে ঘিরে ঘুষ বাণিজ্যের একটি সংগঠিত সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

গাড়ির ক্রেতা ও বিক্রেতাদের অভিযোগ, মালিকানা বদলের মতো নিয়মিত সরকারি সেবা পেতেও এখন তাদের নানামুখী হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ঠিক থাকা এবং উভয় পক্ষ উপস্থিত থাকার পরও নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কখনো কাগজে ত্রুটি দেখানো, আবার কখনো অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলে সেবাগ্রহীতাদের দিনের পর দিন ঘুরতে বাধ্য করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এই জটিলতার মধ্যেই দালালদের মাধ্যমে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার প্রস্তাব আসে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ির মালিকানা বদলের জন্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকে।

সরেজমিনে ১১৪/৬ নম্বর কাউন্টারের আশপাশে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি প্রকাশ্যেই সরকারি চেয়ার-টেবিল ব্যবহার করে দালালির কাজ করছেন। তারা অনেকটা সরকারি কর্মচারীর মতো আচরণ করে গ্রাহকদের কাছ থেকে কাগজপত্র নিচ্ছেন, ফাইল যাচাই করছেন এবং দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন।

এদের মধ্যে মো. বাবু, মো. মনির, মো. ইমরান, মো. আলী ও মো. ইব্রাহীম নামে কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা সরাসরি গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব দালাল দীর্ঘদিন ধরে অফিস কক্ষের ভেতরেই বসে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা কখনো স্লিপ দিচ্ছে, আবার কখনো ফাইল নিয়ে বিভিন্ন টেবিলে যাতায়াত করছে। পুরো বিষয়টি চোখের সামনে ঘটলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রন্জু এ বিষয়ে কার্যত কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ মালিকানা বদলের কাজ নিয়ে আসেন। কিন্তু দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের কারণে অনেকেই নির্ধারিত নিয়মে সেবা পাচ্ছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কাজ সম্পন্ন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সচেতন মহলের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে দালালচক্র সক্রিয় থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই পুরো ঘটনার বাস্তব চিত্র পরিষ্কার হয়ে উঠবে। কারণ দিনের বেলায় প্রকাশ্যেই সরকারি আসবাব ব্যবহার করে দালালদের লেনদেন করতে দেখা যায়।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিআরটিএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর-এর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে শিগগিরই লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীরা আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা হবে।

ভুক্তভোগী ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর বিআরটিএর মালিকানা বদল শাখায় একই ধরনের অভিযোগ উঠে আসছে। তাদের দাবি, অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কর্মকর্তা মো. রন্জুকে দ্রুত ওই কাউন্টার থেকে প্রত্যাহার বা অন্যত্র বদলি করা হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

তাদের ভাষ্য, একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে যখন বারবার ঘুষ ও দালালচক্রের অভিযোগ ওঠে, তখন স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থেই তাকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া জরুরি। এতে তদন্ত প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ হবে এবং সেবাগ্রহীতাদের আস্থাও ফিরবে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।