ঢাকা ১১:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও মার্কেট নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের অবহেলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫ ৩৩৬ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকায় ক্রমবর্ধমান অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যেন একটি দৈনন্দিন দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক বছরে একের পর এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দেশের জনগণকে চরম আতঙ্ক ও ক্ষতির মুখোমুখি করেছে। এসব দুর্ঘটনার পেছনে সাধারণভাবে বিদ্যুৎবিভ্রাট, গ্যাস লিকেজ বা অসতর্কতা দায়ী করা হলেও, প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও মার্কেটগুলোতে ফায়ার সার্ভিসের অবহেলাই হয়ে উঠেছে একটি বড় কারণ। নিয়মিত তদারকি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই এবং ভবন মালিকদের প্রতি দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি।

একের পর এক দুর্ঘটনা, তারিখ ও পরিপ্রেক্ষিত

চকবাজার অগ্নিকাণ্ড – ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টা এলাকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এখনো জাতির স্মৃতিতে দগদগে ক্ষতের মতো। কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লাগার কারণে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ভবনে। এতে ৭১ জন মানুষ প্রাণ হারান এবং শতাধিক আহত হন। ফায়ার সার্ভিস যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, এবং সংকীর্ণ গলি ও পানির অভাবে উদ্ধার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

বনানী এফআর টাওয়ার ট্র্যাজেডি – ২৮ মার্চ ২০১৯
এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের মৃত্যু ও বহু মানুষ আহত হন। বহুতল এই বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না, জরুরি সিঁড়ি ছিল অপর্যাপ্ত। এরপরও বহু বছর ধরে ভবনটি ফায়ার সার্ভিসের নজর এড়িয়ে চলেছে। এফআর টাওয়ারকে পূর্বে একাধিকবার “ঝুঁকিপূর্ণ” ঘোষণা করা হলেও, কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বঙ্গবাজার মার্কেট আগুন – ৪ এপ্রিল ২০২৩
ঢাকার অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র বঙ্গবাজারে ভোরে আগুন লাগার ঘটনায় প্রায় পাঁচ হাজার দোকান পুড়ে যায়। এতে হাজার হাজার ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে পড়েন। ফায়ার সার্ভিসের ৪৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এ মার্কেটটিকে ফায়ার সার্ভিস বহু আগেই ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করেছিল—তবু তা বন্ধ করা হয়নি, কিংবা আধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বসানো হয়নি।

সিদ্দিকবাজার বিস্ফোরণ – ৭ মার্চ ২০২৩
ফুলবাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত সিদ্দিকবাজারে একটি বাণিজ্যিক ভবনে গ্যাস জমে বিস্ফোরণে অন্তত ২৩ জন প্রাণ হারান এবং বহু মানুষ আহত হন। ভবনটি পুরাতন এবং অগ্নি ও গ্যাস নিরাপত্তা ছিল অনুপস্থিত। পরবর্তীতে তদন্তে উঠে আসে, ফায়ার সার্ভিস অতীতে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করলেও তা নিয়ে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

ফায়ার সার্ভিসের অবহেলার রূপরেখা:

উল্লেখিত দুর্ঘটনাগুলোর প্রত্যেকটি ঘটনার পর তদন্ত রিপোর্টে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে—অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না বা সম্পূর্ণ অকার্যকর, এবং ফায়ার সার্ভিস ভবন মালিকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেনি। অধিকাংশ ভবনে নেই হাইড্র্যান্ট, অগ্নিনির্বাপক বল, সিগন্যাল অ্যালার্ম বা জরুরি নির্গমন পথ। এসব ঘাটতির বিরুদ্ধে কোনো জরিমানা বা কঠোর পদক্ষেপের নজিরও খুব কম।

২০১৮ সালে ফায়ার সার্ভিস ঢাকার ৪০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক ভবন ও মার্কেটকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। কিন্তু সেসব ভবনের অধিকাংশই এখনও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে পূর্বের মতই। ফায়ার সার্ভিসের তথ্যে দেখা যায়, ২০২২ সালে ২৪০০টির বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে শুধু ঢাকায়। এই পরিসংখ্যানই পরিষ্কার করে যে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ।

ভবন মালিক ও প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা:

ভবন মালিকদের একটি বড় অংশ আগুন প্রতিরোধে বিনিয়োগ করতে অনিচ্ছুক। তারা ফায়ার সার্ভিসের সুপারিশকেও উপেক্ষা করেন। অথচ ফায়ার সার্ভিসের উচিত ছিল কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ, লাইসেন্স বাতিল, এমনকি ভবন সিলগালা করার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কিন্তু বারবার দেখা গেছে, কিছু চিঠিপত্র চালাচালি আর কিছু মিডিয়া মুখ্য বিবৃতি দিয়েই তারা নিজেদের দায়িত্ব শেষ মনে করে।

মানবিক ও আর্থিক ক্ষতির বহর:

এই সব অগ্নিকাণ্ড শুধু জীবনের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আসে না, সাথে আনে কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি। বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয় আনুমানিক এক হাজার কোটি টাকারও বেশি। হাজার হাজার পরিবার পথে বসে যায়। একইভাবে চকবাজার বা বনানী ট্র্যাজেডির শিকার পরিবারগুলো আজও সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতামত:

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সিটি কর্পোরেশন, রাজউক, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ফায়ার সার্ভিস—এই চারটি সংস্থার সমন্বয় জরুরি। সেইসাথে দরকার গণসচেতনতা এবং ভবন মালিকদের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ।

রাজধানীর প্রতিটি নাগরিক এখন জানেন, তাদের বাসস্থান বা কর্মক্ষেত্র কখন আগুনের শিকার হবে তা শুধুই সময়ের ব্যাপার। বারবার ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনাগুলো যেন প্রমাণ করে দিচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও মার্কেটগুলো নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের অবহেলা এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার নগ্ন উদাহরণ।

এখনই যদি কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী দিনে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। সরকারের উচিত ফায়ার সার্ভিসের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং অবিলম্বে সব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। প্রতিটি মানুষের জীবনই মূল্যবান—এ দায়িত্ব অবহেলার নয়।

Loading

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

রাজধানীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও মার্কেট নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের অবহেলা

আপডেট সময় : ০১:০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

বিশেষ প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকায় ক্রমবর্ধমান অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যেন একটি দৈনন্দিন দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক বছরে একের পর এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দেশের জনগণকে চরম আতঙ্ক ও ক্ষতির মুখোমুখি করেছে। এসব দুর্ঘটনার পেছনে সাধারণভাবে বিদ্যুৎবিভ্রাট, গ্যাস লিকেজ বা অসতর্কতা দায়ী করা হলেও, প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও মার্কেটগুলোতে ফায়ার সার্ভিসের অবহেলাই হয়ে উঠেছে একটি বড় কারণ। নিয়মিত তদারকি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই এবং ভবন মালিকদের প্রতি দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি।

একের পর এক দুর্ঘটনা, তারিখ ও পরিপ্রেক্ষিত

চকবাজার অগ্নিকাণ্ড – ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টা এলাকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এখনো জাতির স্মৃতিতে দগদগে ক্ষতের মতো। কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লাগার কারণে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ভবনে। এতে ৭১ জন মানুষ প্রাণ হারান এবং শতাধিক আহত হন। ফায়ার সার্ভিস যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, এবং সংকীর্ণ গলি ও পানির অভাবে উদ্ধার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

বনানী এফআর টাওয়ার ট্র্যাজেডি – ২৮ মার্চ ২০১৯
এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের মৃত্যু ও বহু মানুষ আহত হন। বহুতল এই বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না, জরুরি সিঁড়ি ছিল অপর্যাপ্ত। এরপরও বহু বছর ধরে ভবনটি ফায়ার সার্ভিসের নজর এড়িয়ে চলেছে। এফআর টাওয়ারকে পূর্বে একাধিকবার “ঝুঁকিপূর্ণ” ঘোষণা করা হলেও, কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বঙ্গবাজার মার্কেট আগুন – ৪ এপ্রিল ২০২৩
ঢাকার অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র বঙ্গবাজারে ভোরে আগুন লাগার ঘটনায় প্রায় পাঁচ হাজার দোকান পুড়ে যায়। এতে হাজার হাজার ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে পড়েন। ফায়ার সার্ভিসের ৪৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এ মার্কেটটিকে ফায়ার সার্ভিস বহু আগেই ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করেছিল—তবু তা বন্ধ করা হয়নি, কিংবা আধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বসানো হয়নি।

সিদ্দিকবাজার বিস্ফোরণ – ৭ মার্চ ২০২৩
ফুলবাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত সিদ্দিকবাজারে একটি বাণিজ্যিক ভবনে গ্যাস জমে বিস্ফোরণে অন্তত ২৩ জন প্রাণ হারান এবং বহু মানুষ আহত হন। ভবনটি পুরাতন এবং অগ্নি ও গ্যাস নিরাপত্তা ছিল অনুপস্থিত। পরবর্তীতে তদন্তে উঠে আসে, ফায়ার সার্ভিস অতীতে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করলেও তা নিয়ে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

ফায়ার সার্ভিসের অবহেলার রূপরেখা:

উল্লেখিত দুর্ঘটনাগুলোর প্রত্যেকটি ঘটনার পর তদন্ত রিপোর্টে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে—অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না বা সম্পূর্ণ অকার্যকর, এবং ফায়ার সার্ভিস ভবন মালিকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেনি। অধিকাংশ ভবনে নেই হাইড্র্যান্ট, অগ্নিনির্বাপক বল, সিগন্যাল অ্যালার্ম বা জরুরি নির্গমন পথ। এসব ঘাটতির বিরুদ্ধে কোনো জরিমানা বা কঠোর পদক্ষেপের নজিরও খুব কম।

২০১৮ সালে ফায়ার সার্ভিস ঢাকার ৪০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক ভবন ও মার্কেটকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। কিন্তু সেসব ভবনের অধিকাংশই এখনও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে পূর্বের মতই। ফায়ার সার্ভিসের তথ্যে দেখা যায়, ২০২২ সালে ২৪০০টির বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে শুধু ঢাকায়। এই পরিসংখ্যানই পরিষ্কার করে যে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ।

ভবন মালিক ও প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা:

ভবন মালিকদের একটি বড় অংশ আগুন প্রতিরোধে বিনিয়োগ করতে অনিচ্ছুক। তারা ফায়ার সার্ভিসের সুপারিশকেও উপেক্ষা করেন। অথচ ফায়ার সার্ভিসের উচিত ছিল কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ, লাইসেন্স বাতিল, এমনকি ভবন সিলগালা করার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কিন্তু বারবার দেখা গেছে, কিছু চিঠিপত্র চালাচালি আর কিছু মিডিয়া মুখ্য বিবৃতি দিয়েই তারা নিজেদের দায়িত্ব শেষ মনে করে।

মানবিক ও আর্থিক ক্ষতির বহর:

এই সব অগ্নিকাণ্ড শুধু জীবনের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আসে না, সাথে আনে কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি। বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয় আনুমানিক এক হাজার কোটি টাকারও বেশি। হাজার হাজার পরিবার পথে বসে যায়। একইভাবে চকবাজার বা বনানী ট্র্যাজেডির শিকার পরিবারগুলো আজও সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতামত:

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সিটি কর্পোরেশন, রাজউক, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ফায়ার সার্ভিস—এই চারটি সংস্থার সমন্বয় জরুরি। সেইসাথে দরকার গণসচেতনতা এবং ভবন মালিকদের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ।

রাজধানীর প্রতিটি নাগরিক এখন জানেন, তাদের বাসস্থান বা কর্মক্ষেত্র কখন আগুনের শিকার হবে তা শুধুই সময়ের ব্যাপার। বারবার ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনাগুলো যেন প্রমাণ করে দিচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও মার্কেটগুলো নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের অবহেলা এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার নগ্ন উদাহরণ।

এখনই যদি কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী দিনে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। সরকারের উচিত ফায়ার সার্ভিসের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং অবিলম্বে সব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। প্রতিটি মানুষের জীবনই মূল্যবান—এ দায়িত্ব অবহেলার নয়।

Loading