ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলী রশীদ’র বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১৬৩৪ বার পড়া হয়েছে

সকালের সংবাদ: স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুর রশীদ মিয়া, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তিনি এ সংস্থার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।

২০২৩ সালে, যখন তিনি সংস্থাটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ছিলেন, তখন তার অনিয়ম-দুর্নীতি ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ সম্পদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রাথমিক তদন্তেই এর সত্যতা প্রকাশ পায়।

অভিযোগের বিষয়ে কয়েক দফায় তাকে তলব করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। বরং, অভিযোগটি চাপা দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর পদে পদোন্নতি নেন। এ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা হলেও, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও তাকে কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়নি। বরং, বিগত সরকারের সময় হয়রানির শিকার হওয়ার দাবিতে তিনি সংস্থার প্রধান প্রকৌশলীর পদ বাগিয়ে নেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ছয় মাসের জন্য প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সরকারের একটি অদৃশ্য শক্তি বিপুল অর্থের বিনিময়ে তাকে এই পদে বসিয়েছে। যদিও পূর্ণাঙ্গভাবে তাকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। গুলশান-উত্তরার একটি অফিসে এ বিষয়ে সমঝোতা হয় এবং ‘ব্যবসায়িক দেনা-পাওনার’ একটি স্ট্যাম্প দলিলও প্রস্তুত করা হয়, যেখানে একজন বিনিয়োগকারী যুক্ত ছিলেন। সেই স্ট্যাম্পে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন আব্দুর রশীদ মিয়া।

২০২৩ সালে শুরু হওয়া দুদকের ওই তদন্তও তিনি ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে সহায়তা করেছেন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার তার এক বেয়াই, যিনি একসময় দুদকের সাবেক এক প্রভাবশালী কমিশনারের স্টাফ অফিসার ছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী এই কর্মকর্তার সম্পদের তালিকা:

রাজশাহীতে একটি পাঁচতলা ও একটি সাততলা বাড়ি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকায় ২৫ শতাংশ জমির ওপর ফুড গার্ডেন, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কে আরেকটি ফুড গার্ডেন, বগুড়ার শেরপুর পৌরসভায় জমি, হিমছায়াপুর মৌজায় বিশাল বাগানবাড়ি, শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকার তলা মৌজায় ৫ একর জমি, বগুড়ার শেরপুর সেরময়া মৌজায় ১২ বিঘা জমি, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অত্যাধুনিক ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট ঢাকা ও রাজশাহীতে নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর ও নগদ টাকা।

এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়ায় সংস্থার বঞ্চিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থার দায়িত্ব এমন বিতর্কিত কর্মকর্তার হাতে যাওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। তাই এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

Loading

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলী রশীদ’র বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:১৫:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

সকালের সংবাদ: স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুর রশীদ মিয়া, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তিনি এ সংস্থার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।

২০২৩ সালে, যখন তিনি সংস্থাটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ছিলেন, তখন তার অনিয়ম-দুর্নীতি ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ সম্পদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রাথমিক তদন্তেই এর সত্যতা প্রকাশ পায়।

অভিযোগের বিষয়ে কয়েক দফায় তাকে তলব করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। বরং, অভিযোগটি চাপা দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর পদে পদোন্নতি নেন। এ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা হলেও, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও তাকে কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়নি। বরং, বিগত সরকারের সময় হয়রানির শিকার হওয়ার দাবিতে তিনি সংস্থার প্রধান প্রকৌশলীর পদ বাগিয়ে নেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ছয় মাসের জন্য প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সরকারের একটি অদৃশ্য শক্তি বিপুল অর্থের বিনিময়ে তাকে এই পদে বসিয়েছে। যদিও পূর্ণাঙ্গভাবে তাকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। গুলশান-উত্তরার একটি অফিসে এ বিষয়ে সমঝোতা হয় এবং ‘ব্যবসায়িক দেনা-পাওনার’ একটি স্ট্যাম্প দলিলও প্রস্তুত করা হয়, যেখানে একজন বিনিয়োগকারী যুক্ত ছিলেন। সেই স্ট্যাম্পে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন আব্দুর রশীদ মিয়া।

২০২৩ সালে শুরু হওয়া দুদকের ওই তদন্তও তিনি ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে সহায়তা করেছেন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার তার এক বেয়াই, যিনি একসময় দুদকের সাবেক এক প্রভাবশালী কমিশনারের স্টাফ অফিসার ছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী এই কর্মকর্তার সম্পদের তালিকা:

রাজশাহীতে একটি পাঁচতলা ও একটি সাততলা বাড়ি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকায় ২৫ শতাংশ জমির ওপর ফুড গার্ডেন, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কে আরেকটি ফুড গার্ডেন, বগুড়ার শেরপুর পৌরসভায় জমি, হিমছায়াপুর মৌজায় বিশাল বাগানবাড়ি, শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকার তলা মৌজায় ৫ একর জমি, বগুড়ার শেরপুর সেরময়া মৌজায় ১২ বিঘা জমি, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অত্যাধুনিক ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট ঢাকা ও রাজশাহীতে নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর ও নগদ টাকা।

এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়ায় সংস্থার বঞ্চিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থার দায়িত্ব এমন বিতর্কিত কর্মকর্তার হাতে যাওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। তাই এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

Loading