ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নথি জালিয়াতি: ৫ জনকে শোকজ ও মামলা Logo সওজে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আজাদের ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য’ ও অবৈধ সম্পদ: পূর্বাচলে কয়েক কোটি টাকার প্লট Logo শহীদ জিয়ার মাজারে জিয়া শিশু কিশোর মেলার নতুন কমিটির শ্রদ্ধা Logo এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পাশে জিয়া শিশু কিশোর মেলা: বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন বিতরণ Logo কবি আকাশমণির রোমান্টিক লেখা “ক্লান্তরা সুখ হয়ে ওঠে” Logo লালপুরে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেফতার Logo মোহনা টিভি দখলের অপচেষ্টা: মিরপুরে উত্তেজনা, থানায় জিডি Logo বন বিভাগে পদোন্নতি জট ও কর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগ: আদালতের হস্তক্ষেপে নতুন করে উত্তেজনা Logo জেল থেকে ফিরেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রকৌশলী জুয়েল রানা Logo থাইল্যান্ডের চিকিৎসা নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশে সেবা সম্প্রসারণে আগ্রহ ব্যাংককের বিএনএইচ হাসপাতালের

ছত্রিশ টাকার নকলনবীশ প্রভাবশালী কোটিপতি!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৭:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ৭৮২ বার পড়া হয়েছে

এইচ আর শফিক: প্রতি পৃষ্ঠা ৩৬ টাকা বেতনের একাধিক নকল-নবিশ অল্প সময়ের মধ্যে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার অবিশ্বাস্য গল্প মনে হলেও সত্যি হয়েছে তেজগাঁও ভূমি রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সে। এদের মধ্যে অনেকেই বিগত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের আমলে হয়ে উঠেছেন ভূমি খাতের একেকজন দুর্নীতির মাফিয়া। কারো বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা মামলা আবার অনেকেই সাজাপ্রাপ্ত আসামী হওয়া সত্ত্বেও অর্থ বিত্ত ও ক্ষমতাসীনদের আশীর্বাদে জামিন পেয়েছেন। রয়েছেন চাকুরীতে বহাল তবিয়াতে। এদের মধ্যে নকল নবীশ শামীম আহসান, নকলনবীশদের সভাপতি শাহীন, নকলনবীশ রিমি ইসলাম মরিয়ম অন্যতম। বিগত সরকারের কয়েক বছরে পুরো রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্স ছিল তাদের দখলে। অনিয়ম দুর্নীতি ও ধান্দাবাজিতে গড়ে তুলেছেন অপরাধের গোপন সাম্রাজ্য। যার সাথে জড়িত রয়েছে উক্ত রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সের আরও কিছু নকল নবীশ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

চিত্র ১ : পল্লবী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দুশ্চরিত্র, কোটিপতি, নকলনবীশ শামীম হাসান, তিনি সাবেক জেলা রেজিস্ট্রার সাবিকুন্নাহারের দুর্নীতি অবৈধ অর্থ আদায়কারী (ক্যাশিয়ার) ছিলেন। তাহার সাথে ঘনিষ্টতার কারণে শামীম হাসান হয়েছেন কোটিপতি এবং নিজ এলাকাসহ রাজধানীতে কোটি কোটি টাকার অবৈধ অর্থ সম্পদের মালিক তিনি।

চিত্র ২: তিনি বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতাসীন স্বৈরাচার সরকারের লোক পরিচয় দিয়ে তার উপর রেজিস্ট্রেশন ম্যানুয়েল মোতাবেক নির্ধারিত বালাম না লিখে নানা ধরণের দালালি তদবির ও পে অর্ডার, ভ্যাট, আইটি চালানের কপি সমুহ জালজালিয়াতি করিয়া হয়েছেন বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক। তিনি একজন অর্থ ও নারী লোভী ব্যক্তি হিসেবেও পরিচিত। একাধিক নারীর সাথে বিবাহ বর্হিভূত সর্ম্পক রয়েছে বলে সূত্র জানায়। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে নারী নিয়া ফুর্তি করিয়া থাকে। নারী ও মদ তাহার নেশা। তিনি অফিস থেকে সপ্তাহ চাঁদা আদায় করিয়া সদরের নকলনবীশের সভাপতি শাহীন আলমকে ও গুলশানের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের গিয়াস উদ্দিন সহ অন্যান্যদেরকে নিয়ে ভাগাভাগি করেন। যা তদন্ত করলে প্রমানিত হইবে। বিগত দিনে তাদের নামে নিবন্ধন অধিদপ্তরে অসংখ্য অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কিছুই হয়নি।

চিত্র ৩: নকল নবীশদের সংগঠনের সভাপতি মোঃ শাহিন আলম। যিনি বিগত সরকারের আমলে নিজ ক্ষমতা প্রদর্শন করে তেজগাঁও ভূমি রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্স ভবনে কাজ করা সকল নকল নবিশদের ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে রেখেছিলেন। শাহিন আলম অসংখ্য মামলার আসামি এমনকি একটি মামলায় তিনি সাজা প্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতাসীনদের আশ্রয় প্রশ্রয় ও অবৈধ অর্থের শক্তিতে আবারো কর্মস্থলে বহাল তবিয়াতে। এমনকি ক্ষমতাসীনদের দাপটে তিনি নকল নবীশ সংগঠনের সভাপতি পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।

চিত্র ৪: পল্লবী সাব রেজিস্ট্রার অফিসের আরেকজন নকলনবীশ রিমি ইসলাম মরিয়ম। তিনি সাবেক অবৈধ সরকারের এমপি আব্দুস সোবহান গোলাপের ভাগনী পরিচয় দিয়ে অফিসে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অস্বাভাবিক অবৈধ অর্থ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। অফিসের তার অর্পিত দায়িত্ব বালাম না লিখেও নানা অবৈধ কর্মকাজের সাথে জড়িত থেকেছেন। নিজের রূপ ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতার দাপট দেখিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিম্ন স্থানের কর্মচারী পর্যন্ত কাউকে পরোয়া করতেনা তিনি। অধিকাংশ কর্মকর্তারা তার রূপের জালে বন্দি ছিল রয়েছে। এখনও অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সাথে অসৎ আচরণ করে থাকেন বলে সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেছেন অনেকে। তার ভয়ে অফিসের সবাই তটস্থ থাকেন। ভয়ানক বিষয় হচ্ছে তিনি নিজেকে বিভিন্ন জায়গায় সাব রেজিস্টার পরিচয় দিয়ে থাকেন।
সূত্র জানায়, তিনি একজন দুশ্চরিত্র, লম্পট, দুর্নীতিবাজ একজন কর্মচারী যা সরেজমিনে তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে।
ভূমি রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সে এসব দুর্নীতিবাজ নকল নবীদের দুর্নীতির লুটপাটের মেলা বসলেও কখনো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেইনি। বরং এসব অসাধু নকল নবীদের মাধ্যমে জেলা রেজিস্টার সহ সকল পদে আসীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের দুর্নীতি বাস্তবায়ন করেছে বলে ভূমি খাতে একাধিক বলে সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস দুর্নীতিকে বিদায় জানিয়ে একটি সুস্থ বাংলাদেশ উপহার দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাই এসব দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবী জানিয়েছেন ভূমি খাতে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী।

Loading

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ছত্রিশ টাকার নকলনবীশ প্রভাবশালী কোটিপতি!

আপডেট সময় : ০৩:৩৭:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪

এইচ আর শফিক: প্রতি পৃষ্ঠা ৩৬ টাকা বেতনের একাধিক নকল-নবিশ অল্প সময়ের মধ্যে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার অবিশ্বাস্য গল্প মনে হলেও সত্যি হয়েছে তেজগাঁও ভূমি রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সে। এদের মধ্যে অনেকেই বিগত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের আমলে হয়ে উঠেছেন ভূমি খাতের একেকজন দুর্নীতির মাফিয়া। কারো বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা মামলা আবার অনেকেই সাজাপ্রাপ্ত আসামী হওয়া সত্ত্বেও অর্থ বিত্ত ও ক্ষমতাসীনদের আশীর্বাদে জামিন পেয়েছেন। রয়েছেন চাকুরীতে বহাল তবিয়াতে। এদের মধ্যে নকল নবীশ শামীম আহসান, নকলনবীশদের সভাপতি শাহীন, নকলনবীশ রিমি ইসলাম মরিয়ম অন্যতম। বিগত সরকারের কয়েক বছরে পুরো রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্স ছিল তাদের দখলে। অনিয়ম দুর্নীতি ও ধান্দাবাজিতে গড়ে তুলেছেন অপরাধের গোপন সাম্রাজ্য। যার সাথে জড়িত রয়েছে উক্ত রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সের আরও কিছু নকল নবীশ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

চিত্র ১ : পল্লবী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দুশ্চরিত্র, কোটিপতি, নকলনবীশ শামীম হাসান, তিনি সাবেক জেলা রেজিস্ট্রার সাবিকুন্নাহারের দুর্নীতি অবৈধ অর্থ আদায়কারী (ক্যাশিয়ার) ছিলেন। তাহার সাথে ঘনিষ্টতার কারণে শামীম হাসান হয়েছেন কোটিপতি এবং নিজ এলাকাসহ রাজধানীতে কোটি কোটি টাকার অবৈধ অর্থ সম্পদের মালিক তিনি।

চিত্র ২: তিনি বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতাসীন স্বৈরাচার সরকারের লোক পরিচয় দিয়ে তার উপর রেজিস্ট্রেশন ম্যানুয়েল মোতাবেক নির্ধারিত বালাম না লিখে নানা ধরণের দালালি তদবির ও পে অর্ডার, ভ্যাট, আইটি চালানের কপি সমুহ জালজালিয়াতি করিয়া হয়েছেন বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক। তিনি একজন অর্থ ও নারী লোভী ব্যক্তি হিসেবেও পরিচিত। একাধিক নারীর সাথে বিবাহ বর্হিভূত সর্ম্পক রয়েছে বলে সূত্র জানায়। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে নারী নিয়া ফুর্তি করিয়া থাকে। নারী ও মদ তাহার নেশা। তিনি অফিস থেকে সপ্তাহ চাঁদা আদায় করিয়া সদরের নকলনবীশের সভাপতি শাহীন আলমকে ও গুলশানের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের গিয়াস উদ্দিন সহ অন্যান্যদেরকে নিয়ে ভাগাভাগি করেন। যা তদন্ত করলে প্রমানিত হইবে। বিগত দিনে তাদের নামে নিবন্ধন অধিদপ্তরে অসংখ্য অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কিছুই হয়নি।

চিত্র ৩: নকল নবীশদের সংগঠনের সভাপতি মোঃ শাহিন আলম। যিনি বিগত সরকারের আমলে নিজ ক্ষমতা প্রদর্শন করে তেজগাঁও ভূমি রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্স ভবনে কাজ করা সকল নকল নবিশদের ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে রেখেছিলেন। শাহিন আলম অসংখ্য মামলার আসামি এমনকি একটি মামলায় তিনি সাজা প্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতাসীনদের আশ্রয় প্রশ্রয় ও অবৈধ অর্থের শক্তিতে আবারো কর্মস্থলে বহাল তবিয়াতে। এমনকি ক্ষমতাসীনদের দাপটে তিনি নকল নবীশ সংগঠনের সভাপতি পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।

চিত্র ৪: পল্লবী সাব রেজিস্ট্রার অফিসের আরেকজন নকলনবীশ রিমি ইসলাম মরিয়ম। তিনি সাবেক অবৈধ সরকারের এমপি আব্দুস সোবহান গোলাপের ভাগনী পরিচয় দিয়ে অফিসে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অস্বাভাবিক অবৈধ অর্থ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। অফিসের তার অর্পিত দায়িত্ব বালাম না লিখেও নানা অবৈধ কর্মকাজের সাথে জড়িত থেকেছেন। নিজের রূপ ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতার দাপট দেখিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিম্ন স্থানের কর্মচারী পর্যন্ত কাউকে পরোয়া করতেনা তিনি। অধিকাংশ কর্মকর্তারা তার রূপের জালে বন্দি ছিল রয়েছে। এখনও অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সাথে অসৎ আচরণ করে থাকেন বলে সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেছেন অনেকে। তার ভয়ে অফিসের সবাই তটস্থ থাকেন। ভয়ানক বিষয় হচ্ছে তিনি নিজেকে বিভিন্ন জায়গায় সাব রেজিস্টার পরিচয় দিয়ে থাকেন।
সূত্র জানায়, তিনি একজন দুশ্চরিত্র, লম্পট, দুর্নীতিবাজ একজন কর্মচারী যা সরেজমিনে তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে।
ভূমি রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সে এসব দুর্নীতিবাজ নকল নবীদের দুর্নীতির লুটপাটের মেলা বসলেও কখনো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেইনি। বরং এসব অসাধু নকল নবীদের মাধ্যমে জেলা রেজিস্টার সহ সকল পদে আসীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের দুর্নীতি বাস্তবায়ন করেছে বলে ভূমি খাতে একাধিক বলে সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস দুর্নীতিকে বিদায় জানিয়ে একটি সুস্থ বাংলাদেশ উপহার দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাই এসব দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবী জানিয়েছেন ভূমি খাতে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী।

Loading