ঢাকা ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :




ভোলায় নয়, মাজেদের লাশ দাফন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২০ ৬১ বার পড়া হয়েছে

সকালের সংবাদ রিপোর্টঃ 
লাশ দাফনে ভোলায় স্থানীয়দের কঠোর আপত্তি থাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি আব্দুল মাজেদের লাশ ভোলার বদলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দাফন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। জেল কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র জানায়, মাজেদের লাশ তার শ্বশুরবাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় দাফন করা হবে।

এর আগে শনিবার বিকেলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি বরখাস্ত ক্যাপ্টেন মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর তার লাশ ভোলার মাটিতে না পাঠানোর দাবি জানান ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন। শনিবার বিকালে তার নির্বাচনী এলাকা লালমোহন উপজেলা আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এ দাবি জানান তিনি।

প্রায় সাড়ে চার দশক আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যায় সরাসরি অংশগ্রহণের দায়ে ক্যাপ্টেন (চাকরিচ্যূত) আব্দুল মাজেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় শনিবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২ টা ১ মিনিটে। কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এই ফাঁসি কার্যকর করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নতুন স্থাপিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এটিই প্রথম ফাঁসি। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় মোট ৬ জনের ফাঁসি কার্যকর হলো। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান ও মহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। রায় কার্যকরের আগেই ২০০১ সালের জুনে জিম্বাবুয়েতে মারা যান আজিজ পাশা। পলাতক রয়েছেন খন্দকার আব্দুর রশিদ, নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম ও মোসলেহ উদ্দিন।

এর আগে শুক্রবার বিকালে কারা কর্তৃপক্ষ মাজেদের পরিবারের সদস্যদের কাছে মোবাইলে ফোন করে শেষ দেখা করার তথ্য জানায়। শুক্রবার সন্ধ্যার পর মাজেদের স্ত্রী ডা. সালেহা বেগম, মাজেদের এক ভাই, এক বোন ও একজন ভাতিজাসহ ৫ জন কারাগারে দেখা করেন।

গত ৮ এপ্রিল মৃত্যর পরোয়ানা পড়ে শোনানোর পর সব দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান আব্দুল মাজেদ। প্রাণভিক্ষার আবেদনটি নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতি বাতিল করে দেয়ার পর সেই চিঠিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




ভোলায় নয়, মাজেদের লাশ দাফন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ

আপডেট সময় : ১০:৩৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২০

সকালের সংবাদ রিপোর্টঃ 
লাশ দাফনে ভোলায় স্থানীয়দের কঠোর আপত্তি থাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি আব্দুল মাজেদের লাশ ভোলার বদলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দাফন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। জেল কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র জানায়, মাজেদের লাশ তার শ্বশুরবাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় দাফন করা হবে।

এর আগে শনিবার বিকেলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি বরখাস্ত ক্যাপ্টেন মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর তার লাশ ভোলার মাটিতে না পাঠানোর দাবি জানান ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন। শনিবার বিকালে তার নির্বাচনী এলাকা লালমোহন উপজেলা আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এ দাবি জানান তিনি।

প্রায় সাড়ে চার দশক আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যায় সরাসরি অংশগ্রহণের দায়ে ক্যাপ্টেন (চাকরিচ্যূত) আব্দুল মাজেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় শনিবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২ টা ১ মিনিটে। কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এই ফাঁসি কার্যকর করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নতুন স্থাপিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এটিই প্রথম ফাঁসি। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় মোট ৬ জনের ফাঁসি কার্যকর হলো। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান ও মহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। রায় কার্যকরের আগেই ২০০১ সালের জুনে জিম্বাবুয়েতে মারা যান আজিজ পাশা। পলাতক রয়েছেন খন্দকার আব্দুর রশিদ, নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম ও মোসলেহ উদ্দিন।

এর আগে শুক্রবার বিকালে কারা কর্তৃপক্ষ মাজেদের পরিবারের সদস্যদের কাছে মোবাইলে ফোন করে শেষ দেখা করার তথ্য জানায়। শুক্রবার সন্ধ্যার পর মাজেদের স্ত্রী ডা. সালেহা বেগম, মাজেদের এক ভাই, এক বোন ও একজন ভাতিজাসহ ৫ জন কারাগারে দেখা করেন।

গত ৮ এপ্রিল মৃত্যর পরোয়ানা পড়ে শোনানোর পর সব দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান আব্দুল মাজেদ। প্রাণভিক্ষার আবেদনটি নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতি বাতিল করে দেয়ার পর সেই চিঠিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়।