ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নিরাপত্তার স্বার্থে শাবি শিক্ষার্থীদের আইডিকার্ড সাথে রাখার আহবান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের Logo জনস্বাস্থ্যের প্রধান সাধুর যত অসাধু কর্ম: দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ! Logo বিআইডব্লিউটিএ বন্দর শাখা যুগ্ম পরিচালক আলমগীরের দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য  Logo রাজশাহীতে এটিএন বাংলার সাংবাদিক সুজাউদ্দিন ছোটনকে হয়রানিমূলক মামলায় বএিমইউজরে নিন্দা ও প্রতিবাদ Logo শিক্ষার্থীদের তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ায় অবদান রাখতে হবেঃ ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী Logo ‘কানামাছি শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০২৪’ পেলেন লেখক Logo মধ্যরাতে শাবি ছাত্রলীগের ‘ তুমি কে, আমি কে- বাঙ্গালী, বাঙ্গালী’ শ্লোগানে উত্তাল ক্যাম্পাস Logo আম নিয়ে কষ্টগাঁথা Logo ঘুমান্ত বিবেক মাতাল আবেগ’ – আকাশমণি Logo পুলিশের হামলার পরও ৬ ঘন্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধে কুবি শিক্ষার্থীর




মন্ত্রী-এমপিসহ অনেকেই পেতেন জুয়ার টাকা!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১০:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৮৭ বার পড়া হয়েছে
তালিকায় রয়েছেন বিএনপি নেতারাও মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ-শামীম

রাজধানীর টেন্ডারবাজি ও ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের তিন মূর্তিমান আতঙ্ক জি কে শামীম, খালেদ ও কালা ফিরোজকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে অনেক নতুন তথ্য মিলেছে। ক্যাসিনো ও টেন্ডারবাজি করে তারা কত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন- সে বিষয়ে একটা তালিকা করা হচ্ছে। টেন্ডারবাজি ও ক্যাসিনোর টাকার কমিশন কারা পেতেন- সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনেকের নাম বলেছেন। কমিশন নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বেশকিছু সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী-এমপির নাম রয়েছে।

এই তালিকায় রাজধানীর বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষ পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নামও রয়েছে। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এই মামলাগুলো পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নেই। তাই মাঝে মধ্যেই বিএনপির এসব নেতা জি কে শামীম ও ল্যাংড়া খালেদের কাছ থেকে টাকা নিতেন। দুবাইয়ে আত্মগোপন করা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সঙ্গে খালেদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকার তথ্যও মিলেছে। জিজ্ঞাসাবাদ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘আমরা তাদেরকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। অনেক বিষয় নিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাবে।’

শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল খালেদের: সূত্র জানায়, উত্তরা র‌্যাব-১ এর কার্যালয়ে যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া ওরফে খালেদ, জি কে বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী জি কে শামীম এবং কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ওরফে ফিরোজ আলমকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই নতুন নতুন তথ্য দিচ্ছেন। খালেদ তার অস্ত্র ভান্ডারের ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে। তবে তার কাছে একে-২২ রাইফেল থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে উদ্ধার হওয়া দুইটি একে-২২ রাইফেল তার নয় বলে জানিয়েছেন।

জানা গেছে, বছরখানেক আগে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট খালেদকে দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করেন। এর জের ধরে তাদের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়। সম্রাটের সন্দেহ ছিল, সিঙ্গাপুরের ম্যারিনা বে স্যান্ডস হোটেলে খালেদ ও জিসানের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। জিসান ঢাকার ক্যাসিনোর চাঁদাবাজির কমিশন হিসাবে সম্রাটের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। এর জের ধরে সম্রাট খালেদকে বহিষ্কার করে। র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ এসব তথ্য জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

খোঁজ নেই সম্রাটের: যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে গত দুই দিন ধরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানা গেছে। দলীয় শীর্ষ নেতাদের ধারণা সম্রাট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরবন্দিতে আছেন অথবা আত্মগোপন করেছেন। সম্রাট এখন দল থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। তার সঙ্গে দলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীরই যোগাযোগ নেই। সম্রাটের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোই এখন ভালো বলতে পারবে। তবে সম্রাট কোথায় আছেন- সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সংস্থাই এখনো পর্যন্ত খোলাসা করে কিছু বলছেন না।

এদিকে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভুঁইয়াকে তেজগাঁও থানায় দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলায় ২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এ ব্যাপারে তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, তেজগাঁও থানা হেফাজতে রেখে লোকমান ভুঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




মন্ত্রী-এমপিসহ অনেকেই পেতেন জুয়ার টাকা!

আপডেট সময় : ১২:১০:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
তালিকায় রয়েছেন বিএনপি নেতারাও মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ-শামীম

রাজধানীর টেন্ডারবাজি ও ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের তিন মূর্তিমান আতঙ্ক জি কে শামীম, খালেদ ও কালা ফিরোজকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে অনেক নতুন তথ্য মিলেছে। ক্যাসিনো ও টেন্ডারবাজি করে তারা কত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন- সে বিষয়ে একটা তালিকা করা হচ্ছে। টেন্ডারবাজি ও ক্যাসিনোর টাকার কমিশন কারা পেতেন- সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনেকের নাম বলেছেন। কমিশন নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বেশকিছু সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী-এমপির নাম রয়েছে।

এই তালিকায় রাজধানীর বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষ পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নামও রয়েছে। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এই মামলাগুলো পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নেই। তাই মাঝে মধ্যেই বিএনপির এসব নেতা জি কে শামীম ও ল্যাংড়া খালেদের কাছ থেকে টাকা নিতেন। দুবাইয়ে আত্মগোপন করা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সঙ্গে খালেদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকার তথ্যও মিলেছে। জিজ্ঞাসাবাদ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘আমরা তাদেরকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। অনেক বিষয় নিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাবে।’

শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল খালেদের: সূত্র জানায়, উত্তরা র‌্যাব-১ এর কার্যালয়ে যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া ওরফে খালেদ, জি কে বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী জি কে শামীম এবং কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ওরফে ফিরোজ আলমকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই নতুন নতুন তথ্য দিচ্ছেন। খালেদ তার অস্ত্র ভান্ডারের ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে। তবে তার কাছে একে-২২ রাইফেল থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে উদ্ধার হওয়া দুইটি একে-২২ রাইফেল তার নয় বলে জানিয়েছেন।

জানা গেছে, বছরখানেক আগে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট খালেদকে দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করেন। এর জের ধরে তাদের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়। সম্রাটের সন্দেহ ছিল, সিঙ্গাপুরের ম্যারিনা বে স্যান্ডস হোটেলে খালেদ ও জিসানের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। জিসান ঢাকার ক্যাসিনোর চাঁদাবাজির কমিশন হিসাবে সম্রাটের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। এর জের ধরে সম্রাট খালেদকে বহিষ্কার করে। র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ এসব তথ্য জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

খোঁজ নেই সম্রাটের: যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে গত দুই দিন ধরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানা গেছে। দলীয় শীর্ষ নেতাদের ধারণা সম্রাট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরবন্দিতে আছেন অথবা আত্মগোপন করেছেন। সম্রাট এখন দল থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। তার সঙ্গে দলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীরই যোগাযোগ নেই। সম্রাটের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোই এখন ভালো বলতে পারবে। তবে সম্রাট কোথায় আছেন- সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সংস্থাই এখনো পর্যন্ত খোলাসা করে কিছু বলছেন না।

এদিকে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভুঁইয়াকে তেজগাঁও থানায় দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলায় ২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এ ব্যাপারে তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, তেজগাঁও থানা হেফাজতে রেখে লোকমান ভুঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।