ঢাকা ১১:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনায় অবাক বিশ্ব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৩৪১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক; 

‘ভ্যাকসিন অব হিরো’ উপাধি মিলল চলতি সপ্তাহে। এ মাসেই আরও দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেলেন। এগিয়ে যাওয়ার স্বীকৃতি পাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এগিয়ে যাওয়ার গল্প বুনছেন রোজ রোজ। অবাক বিশ্ব বিস্ময় প্রকাশ করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনায়।

বিশাল পদ্মার বুক চিরে দৃশ্যমান স্বপ্নের পদ্মা সেতু। যেন পদ্মাবক্ষের উত্তাল তরঙ্গ রাশির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে সেতুর নির্মাণ কাজ। অথচ এই সেতুকে কেন্দ্র করেই বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জে ফেলেছিল।

রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে মেট্রোরেলের পিলার থেকে এখন স্বপ্নের হাতছানি মিলছে। এমন হাজারো স্বপ্নের কথা শোনায় বাংলাদেশ। কয়েক বছর আগেও ভিখারির বেশে যে বাংলাদেশের পরিচয় মিলত বিশ্ব দরবারে, সেই বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল।

বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্ব নেতারা। বিজয়ের কেতন উড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনা, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

বয়সের ফ্রেমে শনিবার (২৮ আগস্ট) ৭৩ বছরে পা রাখছেন বঙ্গবন্ধু তনয়া রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার পরিণত বয়সে এক পরিণত বাংলাদেশের রূপও দেখছে মানুষ।

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন জাতির জনকের জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সাল। জাতির ক্রান্তিকাল। জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা করা হলেও বিদেশে থাকার কারণে শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যান।

এমনই ক্রান্তিকালে দীর্ঘ ছয় বছর নির্বাসিত থাকার পর জীবন বাজি রেখে বাবার হাতেগড়া দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা। শত প্রতিকূলতা আর জীবন বিনাশী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে এগিয়ে চলছেন এক অদম্য গতিতে। যেন তার হাতেই আজ সাড়ে চার দশকের বাংলাদেশ অধিক নিরাপদ, নিশ্চিত নির্ভার।

প্রত্যাবর্তনের দিন বিমানবন্দরে নেমেই শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আজ আমি এসেছি বাংলার মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অংশ নিতে। আমার আজ হারানোর কিছু নেই।’ দেশে তখন গণতন্ত্রের বদলে সামরিক শাসন। সামরিক শাসনের এমন দিনে শেখ হাসিনা এসেছিলেন মুক্তির দিশারী হয়ে। আঘাত করলেন গণতন্ত্রের বদ্ধ দুয়ারে। হাল ধরলেন, বাবার হাতে তিল তিল করে গড়ে ওঠা দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের।

বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের অপর নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সৃষ্টির পর থেকেই একেকটি ঘটনা প্রবাহের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ একেকটি ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে একক নেতৃত্ব গড়ে তোলে সংগঠনটি। এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনেও দলটির অগ্রাধিক ভূমিকা রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর দলে মহাবিপর্যয় নেমে আসে। ১৯৭৬ সালে ঘরোয়া পরিবেশে রাজনীতির সুযোগ পেলেও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো ছিল তখন খুবই দুর্বল। দলের এমন দুর্দিনে ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার আগেই বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হয়।

দায়িত্ব পেয়েই বাবার দেখানো পথে দলকে পুনর্গঠন করতে থাকেন শেখ হাসিনা। দীর্ঘ সংগ্রাম আর আন্দোলের পর তারই নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় আসে। দলের সভাপতি পদে থেকেই প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের পর ক্ষমতার বাইরে থাকলেও নিজেদের ভুল শুধরিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ফের গণমানুষের দলে রূপ নেয়।

১/১১ এর পর মাইনাস টু-ফর্মুলায় শেখ হাসিনাকে দল থেকে বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র চলতে থাকে। কিন্তু দলের প্রতি আনুগত্য এবং তৃণমূলের নিরঙ্কুশ সমর্থন থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত তার হাতেই দলের দায়িত্ব থেকে যায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিশাল সংগরিষ্ঠতা অর্জন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্যদিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংবিধান রক্ষার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে। আর শেখ হাসিনা হন তৃতীয় মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী। ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে চর্তুথবারের মত ক্ষমতা আসেন তিনি।

ধারাবাহিক নেতৃত্বে শেখ হাসিনা আজ সরকারের মধ্যে যেমন অধিক শক্তিশালী, তেমনি দলের মধ্যে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। সুদিনে সবাইকে পাশে নিয়ে আর দুর্দিনে ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে বঙ্গবন্ধুর পথে এগিয়ে চলছেন।

সংগ্রামের এ পথ চলায় বহুবার হামলার শিকার হয়েছেন শেখ হাসিনা। সাড়ে তিন যুগের রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য মামলার আসামিও হতে হয়েছে তাকে। গ্রেফতার হয়েছেন একাধিকবার। তবুও যেন ইস্পাতসম মনোবল। আর এমন মনোবল নিয়েই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে পরিচয় পরিচিতি দিয়ে চলছেন তিনি।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যে বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশের প্রশংসা করছেন বিশ্ব নেতারা। নারী উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি ঈর্ষণীয়।

বিশ্ব ব্যাংককে চ্যালেঞ্জ করে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করে গোটা দুনিয়াকে তাক লাগিয়েছেন শেখ হাসিনা। সীমান্ত চুক্তি আর সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তি ছিল স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের দুটি বড় অর্জন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকা বিশ্ব স্বীকৃত। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ আর আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে শেখ হাসিনা আজ আপসহীন নেতা।

দেশ বিদেশের ষড়যন্ত্র আর বাধা উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে বৈশ্বিক আলোচনা-সমালোচনাতেও গুরুত্ব পাচ্ছেন আওায়ামী লীগের এই সভানেত্রী। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে এক দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা, এগিয়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

শেখ হাসিনায় অবাক বিশ্ব

আপডেট সময় : ০৮:৪১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক; 

‘ভ্যাকসিন অব হিরো’ উপাধি মিলল চলতি সপ্তাহে। এ মাসেই আরও দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেলেন। এগিয়ে যাওয়ার স্বীকৃতি পাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এগিয়ে যাওয়ার গল্প বুনছেন রোজ রোজ। অবাক বিশ্ব বিস্ময় প্রকাশ করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনায়।

বিশাল পদ্মার বুক চিরে দৃশ্যমান স্বপ্নের পদ্মা সেতু। যেন পদ্মাবক্ষের উত্তাল তরঙ্গ রাশির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে সেতুর নির্মাণ কাজ। অথচ এই সেতুকে কেন্দ্র করেই বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জে ফেলেছিল।

রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে মেট্রোরেলের পিলার থেকে এখন স্বপ্নের হাতছানি মিলছে। এমন হাজারো স্বপ্নের কথা শোনায় বাংলাদেশ। কয়েক বছর আগেও ভিখারির বেশে যে বাংলাদেশের পরিচয় মিলত বিশ্ব দরবারে, সেই বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল।

বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্ব নেতারা। বিজয়ের কেতন উড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনা, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

বয়সের ফ্রেমে শনিবার (২৮ আগস্ট) ৭৩ বছরে পা রাখছেন বঙ্গবন্ধু তনয়া রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার পরিণত বয়সে এক পরিণত বাংলাদেশের রূপও দেখছে মানুষ।

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন জাতির জনকের জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সাল। জাতির ক্রান্তিকাল। জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা করা হলেও বিদেশে থাকার কারণে শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যান।

এমনই ক্রান্তিকালে দীর্ঘ ছয় বছর নির্বাসিত থাকার পর জীবন বাজি রেখে বাবার হাতেগড়া দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা। শত প্রতিকূলতা আর জীবন বিনাশী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে এগিয়ে চলছেন এক অদম্য গতিতে। যেন তার হাতেই আজ সাড়ে চার দশকের বাংলাদেশ অধিক নিরাপদ, নিশ্চিত নির্ভার।

প্রত্যাবর্তনের দিন বিমানবন্দরে নেমেই শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আজ আমি এসেছি বাংলার মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অংশ নিতে। আমার আজ হারানোর কিছু নেই।’ দেশে তখন গণতন্ত্রের বদলে সামরিক শাসন। সামরিক শাসনের এমন দিনে শেখ হাসিনা এসেছিলেন মুক্তির দিশারী হয়ে। আঘাত করলেন গণতন্ত্রের বদ্ধ দুয়ারে। হাল ধরলেন, বাবার হাতে তিল তিল করে গড়ে ওঠা দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের।

বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের অপর নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সৃষ্টির পর থেকেই একেকটি ঘটনা প্রবাহের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ একেকটি ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে একক নেতৃত্ব গড়ে তোলে সংগঠনটি। এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনেও দলটির অগ্রাধিক ভূমিকা রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর দলে মহাবিপর্যয় নেমে আসে। ১৯৭৬ সালে ঘরোয়া পরিবেশে রাজনীতির সুযোগ পেলেও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো ছিল তখন খুবই দুর্বল। দলের এমন দুর্দিনে ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার আগেই বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হয়।

দায়িত্ব পেয়েই বাবার দেখানো পথে দলকে পুনর্গঠন করতে থাকেন শেখ হাসিনা। দীর্ঘ সংগ্রাম আর আন্দোলের পর তারই নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় আসে। দলের সভাপতি পদে থেকেই প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের পর ক্ষমতার বাইরে থাকলেও নিজেদের ভুল শুধরিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ফের গণমানুষের দলে রূপ নেয়।

১/১১ এর পর মাইনাস টু-ফর্মুলায় শেখ হাসিনাকে দল থেকে বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র চলতে থাকে। কিন্তু দলের প্রতি আনুগত্য এবং তৃণমূলের নিরঙ্কুশ সমর্থন থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত তার হাতেই দলের দায়িত্ব থেকে যায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিশাল সংগরিষ্ঠতা অর্জন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্যদিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংবিধান রক্ষার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে। আর শেখ হাসিনা হন তৃতীয় মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী। ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে চর্তুথবারের মত ক্ষমতা আসেন তিনি।

ধারাবাহিক নেতৃত্বে শেখ হাসিনা আজ সরকারের মধ্যে যেমন অধিক শক্তিশালী, তেমনি দলের মধ্যে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। সুদিনে সবাইকে পাশে নিয়ে আর দুর্দিনে ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে বঙ্গবন্ধুর পথে এগিয়ে চলছেন।

সংগ্রামের এ পথ চলায় বহুবার হামলার শিকার হয়েছেন শেখ হাসিনা। সাড়ে তিন যুগের রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য মামলার আসামিও হতে হয়েছে তাকে। গ্রেফতার হয়েছেন একাধিকবার। তবুও যেন ইস্পাতসম মনোবল। আর এমন মনোবল নিয়েই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে পরিচয় পরিচিতি দিয়ে চলছেন তিনি।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যে বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশের প্রশংসা করছেন বিশ্ব নেতারা। নারী উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি ঈর্ষণীয়।

বিশ্ব ব্যাংককে চ্যালেঞ্জ করে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করে গোটা দুনিয়াকে তাক লাগিয়েছেন শেখ হাসিনা। সীমান্ত চুক্তি আর সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তি ছিল স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের দুটি বড় অর্জন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকা বিশ্ব স্বীকৃত। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ আর আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে শেখ হাসিনা আজ আপসহীন নেতা।

দেশ বিদেশের ষড়যন্ত্র আর বাধা উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে বৈশ্বিক আলোচনা-সমালোচনাতেও গুরুত্ব পাচ্ছেন আওায়ামী লীগের এই সভানেত্রী। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে এক দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা, এগিয়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশকে।