ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

গ্রাহক নিজেই জানে না তার নামে ৩০ সিম!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩০:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২৪৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ার বলিরহাটের মুদি দোকানদার মুহাম্মদ ইসমাইল। গত মার্চে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করে মোবাইল অপারেটর রবির একটি সিম নিয়েছিলেন। বুধবার বিকেলে আরেকটি সিম কিনতে গিয়ে জানতে পারেন, তার নামে আরও ৩০টি সিম নিবন্ধিত আছে!

এ ঘটনায় গ্রাহকের গোপন তথ্য ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরের সিম নিবন্ধনের অভিযোগে একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বাকলিয়া থানা পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে এমন জালিয়াতি হচ্ছে।

গ্রেফতার চারজন হলেন- ফেরদৌস সরোয়ার রবিন (১৮), মিনহাজুল ইসলাম (২৩), মিশু আহমেদ (৩০) ও জাবেদ ইকবাল (৩০)। এদের মধ্যে ফেরদৌস মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবির লোকাল এজেন্ট।

তাদের কাছ থেকে দেড়শ সক্রিয় সিম, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের একটি ক্যাবল ও তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, গ্রেফতার ফেরদৌস মোবাইল অপারেটর রবির পরিবেশক এ কে খান টেলিকম লিমিটেডের বিক্রয় প্রতিনিধি। বাকলিয়ার বলিরহাট এলাকার মুদি দোকানদার মুহাম্মদ ইসমাইল গত মার্চে তার কাছ থেকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করে একটি সিম নিয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে রবিন আরও কয়েকবার ইসমাইলের হাতের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে।

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফেরদৌসের কাছ থেকে আরেকটি সিম কিনতে গিয়ে ইসমাইল জানতে পারেন, তার নামে আরও ৩০টি সিম নিবন্ধিত আছে। ইসমাইল বিষয়টি পুলিশকে জানালে ফেরদৌসকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে, ফেরদৌস ইসমাইলের মতো আরও সাত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সিম রেজিস্ট্রেশন করেছে বলে স্বীকার করেন, বলেন ওসি নেজাম উদ্দিন।

তিনি জানান, রবিনের দেয়া তথ্যে বুধবার রাতে কালামিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিনহাজুল ইসলাম ও মিশু আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে রেয়াজউদ্দিন বাজার থেকে জাবেদ ইকবাল নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে রবি মোবাইল অপারেটরের সিম রেজিস্ট্রেশন করে বাজারে সক্রিয় সিম বিক্রি করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধচক্র। তারা গ্রাহকের আঙুলের ছাপ ও তথ্য সংরক্ষণ করে। তারপর সেগুলো দিয়ে সিম নিবন্ধন করে। প্রকৃত গ্রাহক জানতেও পারেন না, তার নামে সিম নিবন্ধিত হয়েছে। সেই সিম প্রতারকচক্রের সদস্যরা চড়া দামে বিক্রি করে। এসব সিম হাত ঘুরে রোহিঙ্গাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটাও আমরা তদন্ত করে দেখছি। আমাদের ধারণা, পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে এই জালিয়াতি হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

গ্রাহক নিজেই জানে না তার নামে ৩০ সিম!

আপডেট সময় : ০৭:৩০:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ার বলিরহাটের মুদি দোকানদার মুহাম্মদ ইসমাইল। গত মার্চে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করে মোবাইল অপারেটর রবির একটি সিম নিয়েছিলেন। বুধবার বিকেলে আরেকটি সিম কিনতে গিয়ে জানতে পারেন, তার নামে আরও ৩০টি সিম নিবন্ধিত আছে!

এ ঘটনায় গ্রাহকের গোপন তথ্য ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরের সিম নিবন্ধনের অভিযোগে একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বাকলিয়া থানা পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে এমন জালিয়াতি হচ্ছে।

গ্রেফতার চারজন হলেন- ফেরদৌস সরোয়ার রবিন (১৮), মিনহাজুল ইসলাম (২৩), মিশু আহমেদ (৩০) ও জাবেদ ইকবাল (৩০)। এদের মধ্যে ফেরদৌস মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবির লোকাল এজেন্ট।

তাদের কাছ থেকে দেড়শ সক্রিয় সিম, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের একটি ক্যাবল ও তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, গ্রেফতার ফেরদৌস মোবাইল অপারেটর রবির পরিবেশক এ কে খান টেলিকম লিমিটেডের বিক্রয় প্রতিনিধি। বাকলিয়ার বলিরহাট এলাকার মুদি দোকানদার মুহাম্মদ ইসমাইল গত মার্চে তার কাছ থেকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করে একটি সিম নিয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে রবিন আরও কয়েকবার ইসমাইলের হাতের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে।

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফেরদৌসের কাছ থেকে আরেকটি সিম কিনতে গিয়ে ইসমাইল জানতে পারেন, তার নামে আরও ৩০টি সিম নিবন্ধিত আছে। ইসমাইল বিষয়টি পুলিশকে জানালে ফেরদৌসকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে, ফেরদৌস ইসমাইলের মতো আরও সাত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সিম রেজিস্ট্রেশন করেছে বলে স্বীকার করেন, বলেন ওসি নেজাম উদ্দিন।

তিনি জানান, রবিনের দেয়া তথ্যে বুধবার রাতে কালামিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিনহাজুল ইসলাম ও মিশু আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে রেয়াজউদ্দিন বাজার থেকে জাবেদ ইকবাল নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে রবি মোবাইল অপারেটরের সিম রেজিস্ট্রেশন করে বাজারে সক্রিয় সিম বিক্রি করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধচক্র। তারা গ্রাহকের আঙুলের ছাপ ও তথ্য সংরক্ষণ করে। তারপর সেগুলো দিয়ে সিম নিবন্ধন করে। প্রকৃত গ্রাহক জানতেও পারেন না, তার নামে সিম নিবন্ধিত হয়েছে। সেই সিম প্রতারকচক্রের সদস্যরা চড়া দামে বিক্রি করে। এসব সিম হাত ঘুরে রোহিঙ্গাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটাও আমরা তদন্ত করে দেখছি। আমাদের ধারণা, পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে এই জালিয়াতি হচ্ছে।