ঢাকা ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

বরিশালের মেধাবী ছাত্রী অনু গুম না আত্মগোপনে? রসহ্যভেদে কুমু ও ফয়সালকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯ ৩৪১ বার পড়া হয়েছে
বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের মেধাবী ছাত্রী অনু গুম না আত্মগোপনে ? রসহ্যভেদে “কুমু” ও ” ফয়সাল”কে জিজ্ঞাসাবাদের দাবীর কথা বলছে অনুর পরিবার।

ঘটনার শুরু অনলাইন পত্রিকার সূত্র অনুযায়ী… 
৯আগষ্ট সকল অনলাইন সূত্রঃ জিডি সূত্রে জানা গেছে, ” বাহাদুর খান দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত সিঙ্গাপুরে থাকতেন। কিছুদিন আগে তিনি দেশে আসেন। তার ৬ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বাহাদুর খান দেশে ফিরে স্ত্রীর চলাফিরা কিছুটা সন্দেহজনক দেখে সতর্ক ছিলেন। গত ৮ আগস্ট দুপুরে বাসায় ফিরে স্ত্রীকে না দেখে পার্শ্বের বাসায় খোঁজ নেন। সময় গড়িয়ে গেলে স্ত্রী বাসায় না ফেরায় সন্দেহ হয়। এরপর দেখতে পান বাসায় থাকা নগদ আড়াই লক্ষ টাকা এবং ৮ ভরি স্বর্ণালংকার নেই। তাছাড়া বেশ কিছু কাপড় চোপর নিয়ে গেছে সে।স্ত্রী ইসরাত জাহান অনুর বাবার নাম হারুন অর রশিদ এবং মায়ের নাম সাহিদা বেগম। ইছাকাঠী সড়কে কাশিপুর বাজার সংলগ্ন তাদের বাড়িতে খোঁজ নিলে তারাও কোন সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানান স্বামী বাহাদুর খান। এ সংক্রান্ত কাউনিয়া থানায় জিডি নং ৩৩৭ ”
এখানে লক্ষ্য করুন,

১.অনুর স্বামী একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত প্রবাসী। ছিলেন সিঙ্গাপুরে। তিনি যতই বোকা হন, দুই আড়াই লাখ টাকা ঘরে রাখার ভুল করবেন না। এবং সরজমিনে সংবাদকর্মীরা তার পরিবারকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে বাহাদুরের বোন ও বাবা,মা সবাই জানান এটাকা গ্রামের গাছ কাটার টাকা। যদিও ৮ তারিখই গাছ কেটে দুই লাখ টাকা পেয়ে আবার সেই টাকা কিভাবে খোয়ালেন, তা অজানাই রয়ে গেল।

২. ৮ ভরি স্বর্ণ ঘরে ছিল যা অভিযুক্ত অনু নিয়ে চলে গেছেন। বর্তামান বাজার মূল্য হিসেবে ও অভিযুক্ত অনুর স্বামীর বেতন, খরচাপাতি ও সঞ্চয় শেষে ঘরেতেই আট ভরি স্বর্ণ কিভাবে, কেন রাখলেন স্বামী বাহাদুর? জানা নেই কারো।

৩. সাধারণত আমাদের সমাজের “পরকীয়ার বিশ্লেষণ ” গবেষণা করলে দেখা যাবে, স্বামী প্রবাসে থাকাকালেই স্ত্রীর পালাতে সহজ ও নিরাপদ হয়। কারন স্বামীর সারা মাসের কামাইয়ের টাকা একসাথে পাওয়া যায় এবং নজরদারিও থাকেনা। অথচ এখানে ঘটলো উল্টো? স্বামীর উপস্থিতিতেই স্ত্রীর পলায়ন ?

৪.কার সাথে গেলেন এই প্রবাসীর স্ত্রী? উত্তরে বাহাদুরের বোন (অনুর পরিবারের অভিযোগ মতে ঘরোয়া উত্ত্যক্তকারী চুন্নুর ও তার স্ত্রী) সংবাদকর্মীদের বলেন, অনুর চরিত্র খুবই ভাল ছিল। কোনদিন পরকীয়ার মত কোন ঘটনা দেখিনি,শুনিনি। জিডিতে স্বামী বাহাদুরও এমন কারো নাম বলেননি যিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে পালাতে পারে।

৫. চৌদ্দ আগষ্ট সকালে অনুর বাবা মো. হারুন জানান, চুন্নু ও জামাই বাহাদুর পুলিশ নিয়ে ঘরে আসে এবং অনুর,চোরাই মালপত্রের খোঁজ চান। এসময় তারা কাশীপুরের মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ফয়সাল এর নাম নেন এবং অভিযোগ করে বলেন ” ফয়সাল অনুকে বিয়ের আগে ও পরে লাগাতার উত্ত্যক্ত করতো, ও গুম,খুন,পালানো যাই হোক সব জানে। অনুর পরিবার বিষয়টি জানতো যে, ফয়সাল অনুর সংসার ভাঙ্গার জন্য লাগাতার চেষ্টা করে আসছিল। এ ঘটনার পর্যাপ্ত সাক্ষী প্রমাণ আছে।

৬. অভিযুক্ত ফয়সাল সংবাদকর্মীদের কাছে প্রথমে ফোনে অস্বীকার করেন অনুর সাথে পরিচয়ের কথা। এক পর্যায় সাত বছরের বেশী সময় ধরে উত্ত্যক্ত করার কথা স্বীকার করে নিলেও অনুর নিখোঁজ হবার খবরের আর কোন খবর জানেন না বলে দাবী করেন।

৭.অনুর পরিবার দৃঢ়ভাবে একথা অভিযোগ করেন যে অনুর শশুরবাড়ির ননদী ও তার জামাই চুন্নুসহ ঘরের বাইরে ফয়সালও অনুকে মানসিক যন্ত্রনার কারন ছিল।

এরমধ্যে দিয়ে অনুর পরিবারের দাবী অনুর ননদী “কুমু” বহুবার বলেছে এবং দাবী করেছে যে কাশীপুর এর ফয়সাল অনুকে লাগাতার উত্ত্যক্ত করতো এবং সে এ বিষয়ে সব জানে।এমনকি কর্তব্যরত পুলিশকেও অনুর ঘরে এনে ফয়সালকে খোঁজ করার তাগিদ দেন (অনুর) ননদ জামাই চুন্নু ও স্বামী বাহাদুর। তাই কুমু ও ফয়সালকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবী করেন অনুর মা,বোন ও বাবা।

অথচ, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের এক সময়ের মেধাবী ছাত্রী ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের এক উজ্জ্বল প্রতিভা ছিল ইসরাত জাহান অনু।অনুর স্বপ্ন ছিল নিজের পড়াশোনা শেষে এক কর্পোরেট জীবনে ঢুকে মা বাবার মুখ উজ্জ্বল করা। ঘরের ও পার্শ্ববর্তী বখাটেদের চাপে পড়ে বিয়ে করেন এক প্রবাসীকে। ৭ বছর প্রায় সংসারের বয়স ছিল তার, তবে শশুবাড়ির দাবী “অনু” চরিত্রহীন নন। হঠাৎ অনুর রহস্যময় ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে কি?অনুর স্বামী বাহাদুর একটি জিডিতে উল্লেখ করেছেন যে,তার স্ত্রী লাপাত্তা হয়ে গেছে। সাথে নিয়েছে আড়াই লক্ষ টাকা ও আটভড়ি সোনা। রেখে গেছেন স্মৃতি আর ছয় বছরের সন্তান অভিকে। অনুর শশুরবাড়ির দাবী তিনি কোথাও চলে গেছেন,তবে কোন পরকীয়ার টানে নন। তাহলে কেন ঘর ছেড়েছেন অনু?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

বরিশালের মেধাবী ছাত্রী অনু গুম না আত্মগোপনে? রসহ্যভেদে কুমু ও ফয়সালকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবী

আপডেট সময় : ০৫:৩১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯
বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের মেধাবী ছাত্রী অনু গুম না আত্মগোপনে ? রসহ্যভেদে “কুমু” ও ” ফয়সাল”কে জিজ্ঞাসাবাদের দাবীর কথা বলছে অনুর পরিবার।

ঘটনার শুরু অনলাইন পত্রিকার সূত্র অনুযায়ী… 
৯আগষ্ট সকল অনলাইন সূত্রঃ জিডি সূত্রে জানা গেছে, ” বাহাদুর খান দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত সিঙ্গাপুরে থাকতেন। কিছুদিন আগে তিনি দেশে আসেন। তার ৬ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বাহাদুর খান দেশে ফিরে স্ত্রীর চলাফিরা কিছুটা সন্দেহজনক দেখে সতর্ক ছিলেন। গত ৮ আগস্ট দুপুরে বাসায় ফিরে স্ত্রীকে না দেখে পার্শ্বের বাসায় খোঁজ নেন। সময় গড়িয়ে গেলে স্ত্রী বাসায় না ফেরায় সন্দেহ হয়। এরপর দেখতে পান বাসায় থাকা নগদ আড়াই লক্ষ টাকা এবং ৮ ভরি স্বর্ণালংকার নেই। তাছাড়া বেশ কিছু কাপড় চোপর নিয়ে গেছে সে।স্ত্রী ইসরাত জাহান অনুর বাবার নাম হারুন অর রশিদ এবং মায়ের নাম সাহিদা বেগম। ইছাকাঠী সড়কে কাশিপুর বাজার সংলগ্ন তাদের বাড়িতে খোঁজ নিলে তারাও কোন সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানান স্বামী বাহাদুর খান। এ সংক্রান্ত কাউনিয়া থানায় জিডি নং ৩৩৭ ”
এখানে লক্ষ্য করুন,

১.অনুর স্বামী একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত প্রবাসী। ছিলেন সিঙ্গাপুরে। তিনি যতই বোকা হন, দুই আড়াই লাখ টাকা ঘরে রাখার ভুল করবেন না। এবং সরজমিনে সংবাদকর্মীরা তার পরিবারকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে বাহাদুরের বোন ও বাবা,মা সবাই জানান এটাকা গ্রামের গাছ কাটার টাকা। যদিও ৮ তারিখই গাছ কেটে দুই লাখ টাকা পেয়ে আবার সেই টাকা কিভাবে খোয়ালেন, তা অজানাই রয়ে গেল।

২. ৮ ভরি স্বর্ণ ঘরে ছিল যা অভিযুক্ত অনু নিয়ে চলে গেছেন। বর্তামান বাজার মূল্য হিসেবে ও অভিযুক্ত অনুর স্বামীর বেতন, খরচাপাতি ও সঞ্চয় শেষে ঘরেতেই আট ভরি স্বর্ণ কিভাবে, কেন রাখলেন স্বামী বাহাদুর? জানা নেই কারো।

৩. সাধারণত আমাদের সমাজের “পরকীয়ার বিশ্লেষণ ” গবেষণা করলে দেখা যাবে, স্বামী প্রবাসে থাকাকালেই স্ত্রীর পালাতে সহজ ও নিরাপদ হয়। কারন স্বামীর সারা মাসের কামাইয়ের টাকা একসাথে পাওয়া যায় এবং নজরদারিও থাকেনা। অথচ এখানে ঘটলো উল্টো? স্বামীর উপস্থিতিতেই স্ত্রীর পলায়ন ?

৪.কার সাথে গেলেন এই প্রবাসীর স্ত্রী? উত্তরে বাহাদুরের বোন (অনুর পরিবারের অভিযোগ মতে ঘরোয়া উত্ত্যক্তকারী চুন্নুর ও তার স্ত্রী) সংবাদকর্মীদের বলেন, অনুর চরিত্র খুবই ভাল ছিল। কোনদিন পরকীয়ার মত কোন ঘটনা দেখিনি,শুনিনি। জিডিতে স্বামী বাহাদুরও এমন কারো নাম বলেননি যিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে পালাতে পারে।

৫. চৌদ্দ আগষ্ট সকালে অনুর বাবা মো. হারুন জানান, চুন্নু ও জামাই বাহাদুর পুলিশ নিয়ে ঘরে আসে এবং অনুর,চোরাই মালপত্রের খোঁজ চান। এসময় তারা কাশীপুরের মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ফয়সাল এর নাম নেন এবং অভিযোগ করে বলেন ” ফয়সাল অনুকে বিয়ের আগে ও পরে লাগাতার উত্ত্যক্ত করতো, ও গুম,খুন,পালানো যাই হোক সব জানে। অনুর পরিবার বিষয়টি জানতো যে, ফয়সাল অনুর সংসার ভাঙ্গার জন্য লাগাতার চেষ্টা করে আসছিল। এ ঘটনার পর্যাপ্ত সাক্ষী প্রমাণ আছে।

৬. অভিযুক্ত ফয়সাল সংবাদকর্মীদের কাছে প্রথমে ফোনে অস্বীকার করেন অনুর সাথে পরিচয়ের কথা। এক পর্যায় সাত বছরের বেশী সময় ধরে উত্ত্যক্ত করার কথা স্বীকার করে নিলেও অনুর নিখোঁজ হবার খবরের আর কোন খবর জানেন না বলে দাবী করেন।

৭.অনুর পরিবার দৃঢ়ভাবে একথা অভিযোগ করেন যে অনুর শশুরবাড়ির ননদী ও তার জামাই চুন্নুসহ ঘরের বাইরে ফয়সালও অনুকে মানসিক যন্ত্রনার কারন ছিল।

এরমধ্যে দিয়ে অনুর পরিবারের দাবী অনুর ননদী “কুমু” বহুবার বলেছে এবং দাবী করেছে যে কাশীপুর এর ফয়সাল অনুকে লাগাতার উত্ত্যক্ত করতো এবং সে এ বিষয়ে সব জানে।এমনকি কর্তব্যরত পুলিশকেও অনুর ঘরে এনে ফয়সালকে খোঁজ করার তাগিদ দেন (অনুর) ননদ জামাই চুন্নু ও স্বামী বাহাদুর। তাই কুমু ও ফয়সালকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবী করেন অনুর মা,বোন ও বাবা।

অথচ, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের এক সময়ের মেধাবী ছাত্রী ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের এক উজ্জ্বল প্রতিভা ছিল ইসরাত জাহান অনু।অনুর স্বপ্ন ছিল নিজের পড়াশোনা শেষে এক কর্পোরেট জীবনে ঢুকে মা বাবার মুখ উজ্জ্বল করা। ঘরের ও পার্শ্ববর্তী বখাটেদের চাপে পড়ে বিয়ে করেন এক প্রবাসীকে। ৭ বছর প্রায় সংসারের বয়স ছিল তার, তবে শশুবাড়ির দাবী “অনু” চরিত্রহীন নন। হঠাৎ অনুর রহস্যময় ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে কি?অনুর স্বামী বাহাদুর একটি জিডিতে উল্লেখ করেছেন যে,তার স্ত্রী লাপাত্তা হয়ে গেছে। সাথে নিয়েছে আড়াই লক্ষ টাকা ও আটভড়ি সোনা। রেখে গেছেন স্মৃতি আর ছয় বছরের সন্তান অভিকে। অনুর শশুরবাড়ির দাবী তিনি কোথাও চলে গেছেন,তবে কোন পরকীয়ার টানে নন। তাহলে কেন ঘর ছেড়েছেন অনু?