ঢাকা ০৬:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ




বরিশালে অভিযোগ তদন্তে গিয়ে এসআই’য়ের ঘুষ গ্রহণ!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অগাস্ট ২০১৯ ১০৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক;

বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামিমের বিরুদ্ধে মামলা তদন্তে গিয়ে আসামিদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলার চুড়ন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি কয়েক দফায় ১৮ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন।
কিন্তু এরপরেও এসআই শামিম সেই মামলাটিতে অভিযুক্ত মাওলানা কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডেও নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এই ঘটনায় এসআইয়ের বিরুদ্ধে আইজিপির অভিযোগ সেলে মাওলানা কামাল হোসেন একটি অভিযোগ দিলে সেটি তদন্ত নেমেছে পুলিশ।

এক্ষেত্রে বিষ্ময়কর বিষয় হচ্ছে- একই অভিযোগ তদন্তে গিয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানার এসআই দিপায়ন বড়াল ও কনস্টেবল সুকান্তকে সাম্প্রতিকালে ক্লোজড করা হয়েছে।

এবার অভিযুক্তের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করলেন এসআই শামিম। এই বিষয়টি রোববার বরিশাল পুলিশের প্রকাশ পেলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এসআই শামিমের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগটি তদন্ত করছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনের ডিঅ্যান্ডপিএস শাখার পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন। এই পুলিশ কর্মকর্তা অভিযোগ তদন্তের বিষয়টি বরিশালটাইমসকে অবহিত করলেও কোন ধরনের তথ্য দেননি।

খোঁজ-খবর নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে- ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ঢাপড় গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম মানিক বাদী হয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি নালিশী অভিযোগ করেন। এতে মাওলানা কামাল হোসেনসহ বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের আদেশ দেন। সেই অভিযোগটি প্রথমে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হন উপ-পরিদর্শক (এসআই) দ্বীপায়ন।

কিন্তু এসআই দিপায়ন মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পরেও কনস্টেবল সুকান্তকে দিয়ে ঘুষ দাবি করে। সেই ঘুষ দাবির একটি গোপন ভিডিও ফাঁস হলে এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ১২ জুলাই ‘বরিশালটাইমস’ এ প্রকাশ পায়। ফলশ্রুতিতে ওইদিন রাতেই এসআই দিপায়ন ও কনস্টেবল সুকান্তকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।

পরবর্তীতে এই মামলাটির তদন্ত পান কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামিম। কিন্তু তার বিরুদ্ধেও মামলা ফাইনাল দেয়ার কথা বলে আসামি মাওলানা কামাল হোসেনের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেল।

ওই অভিযোগে বলা হয়েছে- মাওলানা কামাল বাকেরগঞ্জের ওসি মাসুদুজ্জামানের মাধ্যমে তদ্বির করলে তিনি এসআই শামীমকে ফোন করে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে বলেন।

ওসি মাসুদুজ্জামানের নির্দেশনা মতে এসআই শামীম ফোন করে মাওলানা কামালকে দেখা করতে বলেন। গত ২০ জুলাই সাগরদী মেসার্স ডোস্ট পেট্রোল পাম্পের সম্মুখে মাওলানা কামাল স্বজন শাহানাজকে পাঠিয়ে ৫ হাজার টাকা লেনদেন করেন। কিন্তু সেই ঘুষ গ্রহণে পরেও মাওলানা কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন এসআই শামিম। এমনকি ওই সময় এসআই তাকে ছেড়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরও ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

তখন মাওলানা কামাল হোসেনের সাথে থাকা ১০ হাজার টাকা তাকে দিয়েও রক্ষা পাননি। বরং গ্রেপ্তারের পরে তাকে একদিনের রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে- নির্যাতনের ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখানেও এসআই শামিম মাওলানার স্ত্রী আফরোজার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়েছেন।

সবশেষে মাওলানা কামাল হোসেন জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরে ৮ সেপ্টেম্বর আইজিপির কাছে পুরো বিষয়টি অভিযোগ আকারে তুলে ধরেন। মুলত সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এসআই শামিমের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে।

অভিযোগটির তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন রোববার এই ঘটনায় মাওলানা কামাল হোসেন ও স্ত্রী আফরোজা বেগমের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন বলে শোনা গেছে।

তবে এই বিষয়ে এসআই শামিম বলছেন- যে কেউ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে পারেন। অভিযোগ দিয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দেখবে কর্তৃপক্ষ। সেই অভিযোগ তদন্তে যদি সত্যতা মেলে তাহলে কর্তৃপক্ষ যে শাস্তি দেবে তা আমি মেনে নেব।

কিন্তু তিনি ‘মাওলানা কামাল হোসেনকে খারাপ লোক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তিনি যে আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলতে পারেন তা আগেই ধারনা করেছিলাম। আমি মাওলানা কামাল হোসেনকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছি।

এই কারণে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযোগ তুলতে পারেন বলেন উল্টো অভিযোগ তুললেন এসআই শামিম।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




বরিশালে অভিযোগ তদন্তে গিয়ে এসআই’য়ের ঘুষ গ্রহণ!

আপডেট সময় : ১২:৪১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অগাস্ট ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক;

বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামিমের বিরুদ্ধে মামলা তদন্তে গিয়ে আসামিদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলার চুড়ন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি কয়েক দফায় ১৮ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন।
কিন্তু এরপরেও এসআই শামিম সেই মামলাটিতে অভিযুক্ত মাওলানা কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডেও নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এই ঘটনায় এসআইয়ের বিরুদ্ধে আইজিপির অভিযোগ সেলে মাওলানা কামাল হোসেন একটি অভিযোগ দিলে সেটি তদন্ত নেমেছে পুলিশ।

এক্ষেত্রে বিষ্ময়কর বিষয় হচ্ছে- একই অভিযোগ তদন্তে গিয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানার এসআই দিপায়ন বড়াল ও কনস্টেবল সুকান্তকে সাম্প্রতিকালে ক্লোজড করা হয়েছে।

এবার অভিযুক্তের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করলেন এসআই শামিম। এই বিষয়টি রোববার বরিশাল পুলিশের প্রকাশ পেলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এসআই শামিমের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগটি তদন্ত করছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনের ডিঅ্যান্ডপিএস শাখার পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন। এই পুলিশ কর্মকর্তা অভিযোগ তদন্তের বিষয়টি বরিশালটাইমসকে অবহিত করলেও কোন ধরনের তথ্য দেননি।

খোঁজ-খবর নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে- ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ঢাপড় গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম মানিক বাদী হয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি নালিশী অভিযোগ করেন। এতে মাওলানা কামাল হোসেনসহ বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের আদেশ দেন। সেই অভিযোগটি প্রথমে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হন উপ-পরিদর্শক (এসআই) দ্বীপায়ন।

কিন্তু এসআই দিপায়ন মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পরেও কনস্টেবল সুকান্তকে দিয়ে ঘুষ দাবি করে। সেই ঘুষ দাবির একটি গোপন ভিডিও ফাঁস হলে এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ১২ জুলাই ‘বরিশালটাইমস’ এ প্রকাশ পায়। ফলশ্রুতিতে ওইদিন রাতেই এসআই দিপায়ন ও কনস্টেবল সুকান্তকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।

পরবর্তীতে এই মামলাটির তদন্ত পান কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামিম। কিন্তু তার বিরুদ্ধেও মামলা ফাইনাল দেয়ার কথা বলে আসামি মাওলানা কামাল হোসেনের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেল।

ওই অভিযোগে বলা হয়েছে- মাওলানা কামাল বাকেরগঞ্জের ওসি মাসুদুজ্জামানের মাধ্যমে তদ্বির করলে তিনি এসআই শামীমকে ফোন করে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে বলেন।

ওসি মাসুদুজ্জামানের নির্দেশনা মতে এসআই শামীম ফোন করে মাওলানা কামালকে দেখা করতে বলেন। গত ২০ জুলাই সাগরদী মেসার্স ডোস্ট পেট্রোল পাম্পের সম্মুখে মাওলানা কামাল স্বজন শাহানাজকে পাঠিয়ে ৫ হাজার টাকা লেনদেন করেন। কিন্তু সেই ঘুষ গ্রহণে পরেও মাওলানা কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন এসআই শামিম। এমনকি ওই সময় এসআই তাকে ছেড়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরও ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

তখন মাওলানা কামাল হোসেনের সাথে থাকা ১০ হাজার টাকা তাকে দিয়েও রক্ষা পাননি। বরং গ্রেপ্তারের পরে তাকে একদিনের রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে- নির্যাতনের ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখানেও এসআই শামিম মাওলানার স্ত্রী আফরোজার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়েছেন।

সবশেষে মাওলানা কামাল হোসেন জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরে ৮ সেপ্টেম্বর আইজিপির কাছে পুরো বিষয়টি অভিযোগ আকারে তুলে ধরেন। মুলত সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এসআই শামিমের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে।

অভিযোগটির তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন রোববার এই ঘটনায় মাওলানা কামাল হোসেন ও স্ত্রী আফরোজা বেগমের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন বলে শোনা গেছে।

তবে এই বিষয়ে এসআই শামিম বলছেন- যে কেউ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে পারেন। অভিযোগ দিয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দেখবে কর্তৃপক্ষ। সেই অভিযোগ তদন্তে যদি সত্যতা মেলে তাহলে কর্তৃপক্ষ যে শাস্তি দেবে তা আমি মেনে নেব।

কিন্তু তিনি ‘মাওলানা কামাল হোসেনকে খারাপ লোক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তিনি যে আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলতে পারেন তা আগেই ধারনা করেছিলাম। আমি মাওলানা কামাল হোসেনকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছি।

এই কারণে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযোগ তুলতে পারেন বলেন উল্টো অভিযোগ তুললেন এসআই শামিম।’