ঢাকা ১২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিআরটিসিতে দুর্নীতির বরপুত্র চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা Logo শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় Logo বরিশালে গণপূর্তে ঘুষ–চেক কেলেঙ্কারি! Logo ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস্ ক্রাইম রিপোর্টাস সোসাইটির কম্বল ও খাবার বিতরন Logo বাংলাদেশে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন Logo নাগরিক শোকসভা কাল: সঙ্গে আনতে হবে আমন্ত্রণপত্র Logo উত্তরায় হোটেলে চাঁদা চাওয়ায় সাংবাদিককে গণধোলাই Logo ৩০ লক্ষ টাকায় বনানী ক্লাবের সদস্য হওয়া দুর্নীতিবাজ কাস্টমস কমিশনার জাকিরের পুনর্বাসন Logo চমেকে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করল দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন Logo তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পাদক-সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

মক্কা-মদিনায় কমিশন ছাড়া বাড়িভাড়া নেয় না হজ অফিস!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০১৯ ২২৭ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ সংবাদদাতা; 
পবিত্র মক্কা ও মদিনায় কমিশন ছাড়া কোনো দিনও বাড়িভাড়া নেয় না হজ অফিস। এমন অভিযোগ করেছেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ। এ বছরও কমিশন নিয়ে সিন্ডিকেট করে বাড়িভাড়া করা হয়েছে বলে তার অভিযোগ।

এ প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি অডিও আলাপনে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আলাপনে শোনা যায়, রাষ্ট্রদূত মোবাইল/টেলিফোনে মূসার (সৌদি আরবে বাংলাদেশ কমিউনিটির একজন) কাছে এবার সৌদি আরবে হাজিদের বাড়িভাড়া কে করেছে, এবার ব্যবসাটা কে পেল- তা জানতে চাইছেন।

বিশেষ করে মদিনায় ‘আল আনসারির’ হোটেলের ব্যবসাটা কে পেল- তা তিনি জানতে চান মূসার কাছে। এ সময় মূসা বলেন, এবার হজ অফিস বাড়ির মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছে। এ কথা শুনে গোলাম মসিহ বলেন, বাড়ি তো মালিকের কাছ থেকেই ভাড়া নেয়, জানতে চাচ্ছি মাঝখানের লোকগুলো কে, কারা।

এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে মূসা বলেন, এবার মাঝখানে কেউ ছিল না।

এ কথা শুনে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, ‘শোন মূসা, এ কথা আমাকে বলো না, হজ অফিসাররা এত ফেরেশতা নয়, তোমরা এবার সিন্ডিকেট কইরা বাড়িভাড়া নিছ, আমি তো খবর পাইয়া যামু। কোন জমানায় ডাইরেক্ট ব্যবসা হইছে! তুমি আমারে কি শিখাইতাছ?’

আলাপনে গোলাম মসিহ আরও বলেন, ‘গতবার পর্যন্ত খালি কমপ্লেইন করছ, আমাকে বাড়িভাড়া নেয় না। এবার তোমরা কেউ বাড়ির ব্যবসা কর নাই? সবাই ফেরেশতা হইয়া গেলা। কোন জমানায় ডাইরেক্ট হইছে? আওয়ামী লীগের নাম ভাঙাইয়া সবাই ধান্ধাবাজি করে।’ এ কথা বলে তিনি লাইন কেটে দেন।

এরপর মূসা কলব্যাক করে আবার তাকে বুঝানোর চেষ্টা করেন যে, বাড়িভাড়ার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। এ সময় গোলাম মসিহ বলেন, ‘তুমি বুঝবা না কেন? ২৮ বছর মদিনায় আছ। কোনো দিন কমিশন ছাড়া বাড়িভাড়া নেয় হজ অফিস, আমারে বলো? কোনো দিন কমিশন ছাড়া নিছে। আজকা তোমরা সবাই ফেরেশতা হইয়া গেছ।’

তিনি আবার বলেন, ‘আমার কাছে রিপোর্ট আছে, সিন্ডিকেট কইরা বাড়িভাড়া নেয়া হইছে। না হলে আল আনসারির বাড়ি এমনিতেই ভাড়া অইয়া গেছে। তুমি কি মনে করো খবর পামু না? হজ অফিসারের গলা টিইপ্যা বাইর কইরা ফালামু।’ এভাবে চলতে থাকে তাদের কথোপকথন।

হজের বাড়িভাড়া নিয়ে কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি-না, এ ফোনালাপের সূত্র ধরে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, ‘হজের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। একটা কমিটি হয়। তারা বাড়িভাড়ার বিষয়গুলো ঠিক করে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি জিজ্ঞেস করতে পারি, কে বাড়িভাড়া নিল বা কে বাড়ি ভাড়া দিচ্ছে? আমি সেটাই জানতে চেয়েছি। তবে যার কাছে জানতে চেয়েছি তিনি নিজেও কিছু জানেন না।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির সদস্য বা বাড়িভাড়ার সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত, তারা বিষয়টি বলতে পারবেন- যোগ করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

মক্কা-মদিনায় কমিশন ছাড়া বাড়িভাড়া নেয় না হজ অফিস!

আপডেট সময় : ০৮:০৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০১৯

বিশেষ সংবাদদাতা; 
পবিত্র মক্কা ও মদিনায় কমিশন ছাড়া কোনো দিনও বাড়িভাড়া নেয় না হজ অফিস। এমন অভিযোগ করেছেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ। এ বছরও কমিশন নিয়ে সিন্ডিকেট করে বাড়িভাড়া করা হয়েছে বলে তার অভিযোগ।

এ প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি অডিও আলাপনে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আলাপনে শোনা যায়, রাষ্ট্রদূত মোবাইল/টেলিফোনে মূসার (সৌদি আরবে বাংলাদেশ কমিউনিটির একজন) কাছে এবার সৌদি আরবে হাজিদের বাড়িভাড়া কে করেছে, এবার ব্যবসাটা কে পেল- তা জানতে চাইছেন।

বিশেষ করে মদিনায় ‘আল আনসারির’ হোটেলের ব্যবসাটা কে পেল- তা তিনি জানতে চান মূসার কাছে। এ সময় মূসা বলেন, এবার হজ অফিস বাড়ির মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছে। এ কথা শুনে গোলাম মসিহ বলেন, বাড়ি তো মালিকের কাছ থেকেই ভাড়া নেয়, জানতে চাচ্ছি মাঝখানের লোকগুলো কে, কারা।

এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে মূসা বলেন, এবার মাঝখানে কেউ ছিল না।

এ কথা শুনে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, ‘শোন মূসা, এ কথা আমাকে বলো না, হজ অফিসাররা এত ফেরেশতা নয়, তোমরা এবার সিন্ডিকেট কইরা বাড়িভাড়া নিছ, আমি তো খবর পাইয়া যামু। কোন জমানায় ডাইরেক্ট ব্যবসা হইছে! তুমি আমারে কি শিখাইতাছ?’

আলাপনে গোলাম মসিহ আরও বলেন, ‘গতবার পর্যন্ত খালি কমপ্লেইন করছ, আমাকে বাড়িভাড়া নেয় না। এবার তোমরা কেউ বাড়ির ব্যবসা কর নাই? সবাই ফেরেশতা হইয়া গেলা। কোন জমানায় ডাইরেক্ট হইছে? আওয়ামী লীগের নাম ভাঙাইয়া সবাই ধান্ধাবাজি করে।’ এ কথা বলে তিনি লাইন কেটে দেন।

এরপর মূসা কলব্যাক করে আবার তাকে বুঝানোর চেষ্টা করেন যে, বাড়িভাড়ার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। এ সময় গোলাম মসিহ বলেন, ‘তুমি বুঝবা না কেন? ২৮ বছর মদিনায় আছ। কোনো দিন কমিশন ছাড়া বাড়িভাড়া নেয় হজ অফিস, আমারে বলো? কোনো দিন কমিশন ছাড়া নিছে। আজকা তোমরা সবাই ফেরেশতা হইয়া গেছ।’

তিনি আবার বলেন, ‘আমার কাছে রিপোর্ট আছে, সিন্ডিকেট কইরা বাড়িভাড়া নেয়া হইছে। না হলে আল আনসারির বাড়ি এমনিতেই ভাড়া অইয়া গেছে। তুমি কি মনে করো খবর পামু না? হজ অফিসারের গলা টিইপ্যা বাইর কইরা ফালামু।’ এভাবে চলতে থাকে তাদের কথোপকথন।

হজের বাড়িভাড়া নিয়ে কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি-না, এ ফোনালাপের সূত্র ধরে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, ‘হজের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। একটা কমিটি হয়। তারা বাড়িভাড়ার বিষয়গুলো ঠিক করে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি জিজ্ঞেস করতে পারি, কে বাড়িভাড়া নিল বা কে বাড়ি ভাড়া দিচ্ছে? আমি সেটাই জানতে চেয়েছি। তবে যার কাছে জানতে চেয়েছি তিনি নিজেও কিছু জানেন না।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির সদস্য বা বাড়িভাড়ার সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত, তারা বিষয়টি বলতে পারবেন- যোগ করেন তিনি।