ঢাকা ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হালান্ডের জোড়া গোলে পোর্তোকে হারিয়ে সিটির শুভসূচনা Logo বাঁধনের ওপর হামলায় ফুঁসছে শোবিজ Logo হুথিদের কাছ থেকে দুই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিল ইয়েমেনি বাহিনী Logo বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ Logo হারানো সরকারি অস্ত্রের তথ্য দিলে মিলবে পুরস্কার Logo ঠিকাদারদের কাছে যিনি “মিস্টার ফাইভ পার্সেন্ট” গণপূর্তের আবুল খায়েরের দুর্নীতির আমলনামা Logo তেজগাঁওয়ের বিটিসিএলে যুবক হত্যাকাণ্ডে অঙ্গীভুত আনসার সদস্য জড়িত থাকার খবর ভিত্তিহীন Logo রাষ্ট্রপতির স‌ঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৩ মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যেসব সহযোগিতার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী

ঠিকাদারদের কাছে যিনি “মিস্টার ফাইভ পার্সেন্ট” গণপূর্তের আবুল খায়েরের দুর্নীতির আমলনামা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল খায়েরের অবসরে যাওয়ার সময় আর মাত্র কিছুদিন বাকি। কিন্তু জীবনের এই শেষ সময়ে এসেও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে চরম ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকালে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সম্প্রতি গাজীপুরে ফায়ার সার্ভিস দপ্তরের কাছে কোটি টাকা ঘুষ দাবির ঘটনাটি তাঁর এই দুর্নীতির তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে।

তাঁর এই অনিয়মের শুরু চাকরির একেবারে প্রথম দিক থেকেই। তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তিনি গোপালগঞ্জে প্রভাব খাটিয়ে কাজ শুরু করেন এবং প্রভাবশালী নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে তিনি ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন বা ‘কাটমানি’ আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো ঠিকাদার টাকা দিতে রাজি না হলে তাঁর বিল আটকে দেওয়া কিংবা তাঁকে কালো তালিকাভুক্ত করার হুমকি দেওয়া হতো। এরপর কুমিল্লায় গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লে তাঁকে আকস্মিকভাবে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

রংপুরে বদলি হওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থামেনি। সেখানে অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা সরাসরি টেলিভিশনের লাইভ অনুষ্ঠানে এসে তাঁর ঘুষ বাণিজ্যের কথা প্রকাশ করে দেন। গণপূর্তের বাইরে ন্যাশনাল হাউজিং অথরিটিতে থাকার সময়ও প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ এবং নকশা অনুমোদনের নামে তিনি প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত আবুল খায়ের ঠিকাদারদের কাছে ‘মিস্টার ৫%’ নামে পরিচিত, কারণ যেকোনো প্রকল্পের কাজের জন্য তিনি সরাসরি ৫ শতাংশ কমিশন দাবি করেন।

নানা অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় তাঁর ও তাঁর স্বজনদের নামে অন্তত ২৪টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। পাশাপাশি পূর্বাচল ও ময়মনসিংহে বিপুল পরিমাণ জমি ও খামারবাড়ি তৈরি করেছেন তিনি। সরকারি দপ্তরে দুর্নীতিবিরোধী তৎপরতা চললেও তিনি এখনও প্রভাব ধরে রেখেছেন। সাধারণ ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তাঁর অবৈধ সম্পদ ও ব্যাংক হিসাবের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন।

তবে এসব বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিস্তারিত থাকছে আগামী পর্বে…

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ঠিকাদারদের কাছে যিনি “মিস্টার ফাইভ পার্সেন্ট” গণপূর্তের আবুল খায়েরের দুর্নীতির আমলনামা

আপডেট সময় : ০৯:০৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল খায়েরের অবসরে যাওয়ার সময় আর মাত্র কিছুদিন বাকি। কিন্তু জীবনের এই শেষ সময়ে এসেও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে চরম ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকালে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সম্প্রতি গাজীপুরে ফায়ার সার্ভিস দপ্তরের কাছে কোটি টাকা ঘুষ দাবির ঘটনাটি তাঁর এই দুর্নীতির তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে।

তাঁর এই অনিয়মের শুরু চাকরির একেবারে প্রথম দিক থেকেই। তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তিনি গোপালগঞ্জে প্রভাব খাটিয়ে কাজ শুরু করেন এবং প্রভাবশালী নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে তিনি ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন বা ‘কাটমানি’ আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো ঠিকাদার টাকা দিতে রাজি না হলে তাঁর বিল আটকে দেওয়া কিংবা তাঁকে কালো তালিকাভুক্ত করার হুমকি দেওয়া হতো। এরপর কুমিল্লায় গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লে তাঁকে আকস্মিকভাবে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

রংপুরে বদলি হওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থামেনি। সেখানে অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা সরাসরি টেলিভিশনের লাইভ অনুষ্ঠানে এসে তাঁর ঘুষ বাণিজ্যের কথা প্রকাশ করে দেন। গণপূর্তের বাইরে ন্যাশনাল হাউজিং অথরিটিতে থাকার সময়ও প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ এবং নকশা অনুমোদনের নামে তিনি প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত আবুল খায়ের ঠিকাদারদের কাছে ‘মিস্টার ৫%’ নামে পরিচিত, কারণ যেকোনো প্রকল্পের কাজের জন্য তিনি সরাসরি ৫ শতাংশ কমিশন দাবি করেন।

নানা অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় তাঁর ও তাঁর স্বজনদের নামে অন্তত ২৪টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। পাশাপাশি পূর্বাচল ও ময়মনসিংহে বিপুল পরিমাণ জমি ও খামারবাড়ি তৈরি করেছেন তিনি। সরকারি দপ্তরে দুর্নীতিবিরোধী তৎপরতা চললেও তিনি এখনও প্রভাব ধরে রেখেছেন। সাধারণ ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তাঁর অবৈধ সম্পদ ও ব্যাংক হিসাবের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন।

তবে এসব বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিস্তারিত থাকছে আগামী পর্বে…