ঢাকা ০৪:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

বিআইডব্লিউটিএ-তে হরিলুট: ভুয়া মেরামত ও নিম্নমানের যন্ত্রাংশের আড়ালে ফয়সালের কোটি টাকার দুর্নীতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ২৮৯ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক: বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন আল ফয়সালের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক এই শিক্ষার্থী ছাত্রজীবনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই রাজনৈতিক দাপটকে পুঁজি করেই তিনি চাকরিক্ষেত্রে দুর্নীতির বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা তার দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো: কোরিয়ান কোম্পানির সাথে আতাঁত – মালামালকেলেঙ্কারি –

২০১০ সালে চাকরিতে যোগদানের পর তিনি ‘প্রত্যয়’, ‘নির্ভীক’, ‘দুরন্ত’ ও ‘দুর্বার’ নামক উদ্ধারকারী জাহাজের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পান। এই উদ্ধার ইউনিটগুলোতে সরঞ্জাম সরবরাহকারী কোরিয়ান কোম্পানির সাথে বিদেশে বসে কোটি টাকার গোপন লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে মূল্যবান যন্ত্রপাতির বদলে তিনি অত্যন্ত নিম্নমানের এবং চাহিদার তুলনায় অনেক কম মালামাল গ্রহণ করেন।
খানপুর স্টোরে এসব মালামাল সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি এবং কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকাও তৈরি করা হয়নি, যা সম্পূর্ণ ‘শুভংকরের ফাঁকি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাহাজ মেরামতের নামে অর্থ আত্মসাৎ
বরিশাল নৌবহরের এমএমই (MME) বিভাগে কর্মরত অবস্থায় জলযান মেরামতের নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ নৌ মেরামত কেন্দ্রের দায়িত্বে এসে তিনি প্রতিটি জাহাজের মেরামতের ক্ষেত্রে ‘ওভার এস্টিমেট’ (অতিরিক্ত ব্যয় নির্ধারণ) করে সরকারি তহবিলের বিপুল অর্থ তছরুপ করেন।
কাগজে-কলমে মেরামতের জন্য লাখ লাখ টাকার আর্থিক অনুমোদন নিলেও বাস্তবে জাহাজে কোনো কাজই করা হতো না।

নিম্নমানের যন্ত্রাংশের চক্র ও ঠিকাদার-প্রীতি-
বিভিন্ন জাহাজের স্টাফ, মাস্টার ও ড্রাইভারদের তথ্যমতে, ফয়সাল জাহাজের ভালো মালামাল বাতিল করে নির্দিষ্ট লোক দিয়ে নিম্নমানের চীনা যন্ত্রাংশ ফিটিং। এসব যন্ত্রাংশ টেকসই না হওয়ায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যেত। ফলে পুনরায় মেরামতের এস্টিমেট দেখিয়ে চক্রাকারে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।
নিজের পছন্দের বিশেষ ঠিকাদারদের বড় বড় কাজ পাইয়ে দিয়ে তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও চেকের মাধ্যমে সরাসরি ঘুষ গ্রহণ করতেন তিনি।

পরবর্তী পর্বে থাকছে বিস্তারিত…

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

বিআইডব্লিউটিএ-তে হরিলুট: ভুয়া মেরামত ও নিম্নমানের যন্ত্রাংশের আড়ালে ফয়সালের কোটি টাকার দুর্নীতি

আপডেট সময় : ১০:০১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক: বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন আল ফয়সালের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক এই শিক্ষার্থী ছাত্রজীবনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই রাজনৈতিক দাপটকে পুঁজি করেই তিনি চাকরিক্ষেত্রে দুর্নীতির বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা তার দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো: কোরিয়ান কোম্পানির সাথে আতাঁত – মালামালকেলেঙ্কারি –

২০১০ সালে চাকরিতে যোগদানের পর তিনি ‘প্রত্যয়’, ‘নির্ভীক’, ‘দুরন্ত’ ও ‘দুর্বার’ নামক উদ্ধারকারী জাহাজের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পান। এই উদ্ধার ইউনিটগুলোতে সরঞ্জাম সরবরাহকারী কোরিয়ান কোম্পানির সাথে বিদেশে বসে কোটি টাকার গোপন লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে মূল্যবান যন্ত্রপাতির বদলে তিনি অত্যন্ত নিম্নমানের এবং চাহিদার তুলনায় অনেক কম মালামাল গ্রহণ করেন।
খানপুর স্টোরে এসব মালামাল সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি এবং কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকাও তৈরি করা হয়নি, যা সম্পূর্ণ ‘শুভংকরের ফাঁকি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাহাজ মেরামতের নামে অর্থ আত্মসাৎ
বরিশাল নৌবহরের এমএমই (MME) বিভাগে কর্মরত অবস্থায় জলযান মেরামতের নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ নৌ মেরামত কেন্দ্রের দায়িত্বে এসে তিনি প্রতিটি জাহাজের মেরামতের ক্ষেত্রে ‘ওভার এস্টিমেট’ (অতিরিক্ত ব্যয় নির্ধারণ) করে সরকারি তহবিলের বিপুল অর্থ তছরুপ করেন।
কাগজে-কলমে মেরামতের জন্য লাখ লাখ টাকার আর্থিক অনুমোদন নিলেও বাস্তবে জাহাজে কোনো কাজই করা হতো না।

নিম্নমানের যন্ত্রাংশের চক্র ও ঠিকাদার-প্রীতি-
বিভিন্ন জাহাজের স্টাফ, মাস্টার ও ড্রাইভারদের তথ্যমতে, ফয়সাল জাহাজের ভালো মালামাল বাতিল করে নির্দিষ্ট লোক দিয়ে নিম্নমানের চীনা যন্ত্রাংশ ফিটিং। এসব যন্ত্রাংশ টেকসই না হওয়ায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যেত। ফলে পুনরায় মেরামতের এস্টিমেট দেখিয়ে চক্রাকারে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।
নিজের পছন্দের বিশেষ ঠিকাদারদের বড় বড় কাজ পাইয়ে দিয়ে তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও চেকের মাধ্যমে সরাসরি ঘুষ গ্রহণ করতেন তিনি।

পরবর্তী পর্বে থাকছে বিস্তারিত…