ঢাকা ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

রাজউকে দুর্নীতিতে আলোচনার শীর্ষে পরিচালক জাকারিয়া: ‘সেফ জন’ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ২৬১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) রাজধানী ঢাকার পরিকল্পিত নগরায়ন ও উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সংস্থার কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এর ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে রাজউকের জোন-৪ এর পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়াকে ঘিরে নানা অভিযোগ এখন আলোচনায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিভিন্ন অভিযোগে জানা যায়, জাকারিয়ার দায়িত্বাধীন জোনাল অফিসগুলোতে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। মিরপুর, গুলশান, বনানী ও উত্তরা মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো তার প্রশাসনিক আওতায় থাকায় এসব জায়গায় আর্থিক লেনদেনের সুযোগ বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেন ছাড়া কাজ এগোয় না।

এছাড়া রাজউকের ইমারত পরিদর্শকদের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সূত্র মতে, কোনো নতুন ভবনের কাজ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শকরা গিয়ে বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরে ভবন মালিকদের জোন অফিসে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। অভিযোগ আছে, নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ প্রদান না করলে ভবন নির্মাণে বাধা দেওয়া বা আইনি জটিলতার ভয় দেখানো হয়।

২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি এক ঘটনায় রাজউকের এক ইমারত পরিদর্শকের বিরুদ্ধে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পরিচালকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, যোগ্যতার মানদণ্ড উপেক্ষা করে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কিছু ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, ভবন মালিকদের বিভিন্ন অজুহাতে নোটিশ দিয়ে হয়রানি করা হয় এবং পরে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন দুর্ঘটনার পর তদারকি বাড়ানোর নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তার বিলাসবহুল জীবনযাপনের পেছনে অবৈধ আয়ের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

এ বিষয়ে জানতে পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

রাজউকে দুর্নীতিতে আলোচনার শীর্ষে পরিচালক জাকারিয়া: ‘সেফ জন’ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ 

আপডেট সময় : ০৩:৫১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) রাজধানী ঢাকার পরিকল্পিত নগরায়ন ও উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সংস্থার কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এর ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে রাজউকের জোন-৪ এর পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়াকে ঘিরে নানা অভিযোগ এখন আলোচনায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিভিন্ন অভিযোগে জানা যায়, জাকারিয়ার দায়িত্বাধীন জোনাল অফিসগুলোতে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। মিরপুর, গুলশান, বনানী ও উত্তরা মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো তার প্রশাসনিক আওতায় থাকায় এসব জায়গায় আর্থিক লেনদেনের সুযোগ বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেন ছাড়া কাজ এগোয় না।

এছাড়া রাজউকের ইমারত পরিদর্শকদের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সূত্র মতে, কোনো নতুন ভবনের কাজ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শকরা গিয়ে বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরে ভবন মালিকদের জোন অফিসে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। অভিযোগ আছে, নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ প্রদান না করলে ভবন নির্মাণে বাধা দেওয়া বা আইনি জটিলতার ভয় দেখানো হয়।

২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি এক ঘটনায় রাজউকের এক ইমারত পরিদর্শকের বিরুদ্ধে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পরিচালকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, যোগ্যতার মানদণ্ড উপেক্ষা করে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কিছু ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, ভবন মালিকদের বিভিন্ন অজুহাতে নোটিশ দিয়ে হয়রানি করা হয় এবং পরে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন দুর্ঘটনার পর তদারকি বাড়ানোর নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তার বিলাসবহুল জীবনযাপনের পেছনে অবৈধ আয়ের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

এ বিষয়ে জানতে পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।