ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নথি জালিয়াতি: ৫ জনকে শোকজ ও মামলা Logo সওজে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আজাদের ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য’ ও অবৈধ সম্পদ: পূর্বাচলে কয়েক কোটি টাকার প্লট Logo শহীদ জিয়ার মাজারে জিয়া শিশু কিশোর মেলার নতুন কমিটির শ্রদ্ধা Logo এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পাশে জিয়া শিশু কিশোর মেলা: বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন বিতরণ Logo কবি আকাশমণির রোমান্টিক লেখা “ক্লান্তরা সুখ হয়ে ওঠে” Logo লালপুরে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেফতার Logo মোহনা টিভি দখলের অপচেষ্টা: মিরপুরে উত্তেজনা, থানায় জিডি Logo বন বিভাগে পদোন্নতি জট ও কর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগ: আদালতের হস্তক্ষেপে নতুন করে উত্তেজনা Logo জেল থেকে ফিরেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রকৌশলী জুয়েল রানা Logo থাইল্যান্ডের চিকিৎসা নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশে সেবা সম্প্রসারণে আগ্রহ ব্যাংককের বিএনএইচ হাসপাতালের

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আউটসোর্সিং নিয়োগ ঘিরে ২৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের পরিকল্পনা!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ৩৩৫ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে এআই (কৃত্রিম প্রজনন) টেকনিশিয়ান নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার বাণিজ্যের লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি দেশের প্রতিটি উপজেলায় একজন করে এআই টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য মোট ৪৯৫টি পদের অনুমোদন দেয়। এর প্রেক্ষিতে প্রকল্প পরিচালক মো. শাহজামান খান তুহিন কৃত্রিম প্রজনন জনবল সরবরাহের জন্য আউটসোর্সিং ঠিকাদার নিয়োগে পত্রিকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, দরপত্রের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে মাত্র তিন থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বগুড়ার একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আগেই সমঝোতা করা হয়েছে এবং সেই প্রতিষ্ঠানকেই কাজ পাইয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি নিয়োগযোগ্য জনবলও প্রকল্প পরিচালক নিজেই নির্বাচন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন উপজেলায় চিঠি পাঠিয়ে তিনজন করে অভিজ্ঞ এআই টেকনিশিয়ানের তালিকা চাওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার নিয়োগের আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করে তাদের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতা করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করে যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিতদের তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার কথা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি প্রশিক্ষিত এআই টেকনিশিয়ান রয়েছেন। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে এসব প্রশিক্ষিত কর্মীরাই আবেদন করার সুযোগ পেতেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

আরও অভিযোগ রয়েছে, রাজস্ব খাতের অধীনে সৃষ্ট আউটসোর্সিং পদগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া সাধারণত মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু এবার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রকল্প পরিচালক নিজেই ঠিকাদার নিয়োগসহ পুরো প্রক্রিয়া নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মো. শাহজামান খান তুহিনের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা বিতর্ক রয়েছে বলে দাবি করেছেন অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের অভিযোগ, তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন মন্ত্রী মির্জা আজমের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে ডিও লেটারের মাধ্যমে পরিচালক পদে পদোন্নতি পান এবং পরে বিসিএস লাইভস্টক একাডেমির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তদবিরের মাধ্যমে অধিদপ্তরের লাভজনক এআই পরিচালকের পদে আসীন হন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ পদে আসতে তার বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

অধিদপ্তরের ভেতরে তার নিয়োগের বিরোধিতা করে একসময় বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছিলেন বলেও জানা গেছে। যদিও পরবর্তীতে সেই আন্দোলন থেমে যায়।

এদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ২০ কোটি টাকার মালামাল ক্রয় সংক্রান্ত একটি দরপত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিম্নমানের কন্টেইনার ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহের বিনিময়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষায় এসব কন্টেইনারের মান যাচাই করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে দাবি করেন তারা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুত এই কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এআই টেকনিশিয়ান নিয়োগ প্রক্রিয়া মহাপরিচালকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালনার জন্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আউটসোর্সিং নিয়োগ ঘিরে ২৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের পরিকল্পনা!

আপডেট সময় : ০৩:৫৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে এআই (কৃত্রিম প্রজনন) টেকনিশিয়ান নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার বাণিজ্যের লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি দেশের প্রতিটি উপজেলায় একজন করে এআই টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য মোট ৪৯৫টি পদের অনুমোদন দেয়। এর প্রেক্ষিতে প্রকল্প পরিচালক মো. শাহজামান খান তুহিন কৃত্রিম প্রজনন জনবল সরবরাহের জন্য আউটসোর্সিং ঠিকাদার নিয়োগে পত্রিকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, দরপত্রের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে মাত্র তিন থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বগুড়ার একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আগেই সমঝোতা করা হয়েছে এবং সেই প্রতিষ্ঠানকেই কাজ পাইয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি নিয়োগযোগ্য জনবলও প্রকল্প পরিচালক নিজেই নির্বাচন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন উপজেলায় চিঠি পাঠিয়ে তিনজন করে অভিজ্ঞ এআই টেকনিশিয়ানের তালিকা চাওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার নিয়োগের আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করে তাদের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতা করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করে যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিতদের তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার কথা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি প্রশিক্ষিত এআই টেকনিশিয়ান রয়েছেন। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে এসব প্রশিক্ষিত কর্মীরাই আবেদন করার সুযোগ পেতেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

আরও অভিযোগ রয়েছে, রাজস্ব খাতের অধীনে সৃষ্ট আউটসোর্সিং পদগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া সাধারণত মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু এবার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রকল্প পরিচালক নিজেই ঠিকাদার নিয়োগসহ পুরো প্রক্রিয়া নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মো. শাহজামান খান তুহিনের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা বিতর্ক রয়েছে বলে দাবি করেছেন অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের অভিযোগ, তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন মন্ত্রী মির্জা আজমের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে ডিও লেটারের মাধ্যমে পরিচালক পদে পদোন্নতি পান এবং পরে বিসিএস লাইভস্টক একাডেমির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তদবিরের মাধ্যমে অধিদপ্তরের লাভজনক এআই পরিচালকের পদে আসীন হন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ পদে আসতে তার বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

অধিদপ্তরের ভেতরে তার নিয়োগের বিরোধিতা করে একসময় বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছিলেন বলেও জানা গেছে। যদিও পরবর্তীতে সেই আন্দোলন থেমে যায়।

এদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ২০ কোটি টাকার মালামাল ক্রয় সংক্রান্ত একটি দরপত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিম্নমানের কন্টেইনার ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহের বিনিময়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষায় এসব কন্টেইনারের মান যাচাই করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে দাবি করেন তারা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুত এই কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এআই টেকনিশিয়ান নিয়োগ প্রক্রিয়া মহাপরিচালকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালনার জন্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।