ঢাকা ০৪:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

অপরাধে জড়াচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মার্চ ২০১৯ ৩২৪ বার পড়া হয়েছে

তারিফুল ইসলাম : মাদকাসক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছে রাজধানীতে পথশিশুরা। নিরাপত্তা ও সমাজ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে একদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি যেমন বাড়ছে তেমনি ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হচ্ছে সমাজে। ২০৩০সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যের সঙ্গে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পথশিশুদের একটি বড় অংশ তাদের পরিবার ছাড়াই দিনে-রাতে রাস্তায় অবস্থান করে। কিছু শিশু সারাদিন ভিক্ষা করে রাতে পরিবারে ফিরে আসে। আবার কিছু শিশু রাস্তাতেই রাতযাপন করে। দেশের নগর, বন্দর ও শহরে দিনে দিনে প্রসারিত হচ্ছে ছিন্নমূল শিশুদের মিছিল। এদের একটি অংশ প্রতিদিন রাত কাটায় রাস্তা ও ফুটপাতে। চোরাচালান ও মাদক বিক্রিসহ সমাজবিরোধী বিভিন্ন কার্যকলাপে পথশিশুরা ব্যবহৃত হচ্ছে আশঙ্কাজনকহারে।

সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৪ সালে দেশে পথশিশু ছিলো প্রায় ৬ লাখ আশি হাজার। ২০১৪ সালে তা বেড়ে সাড়ে ১১ লাখে পৌঁছে। আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে পথশিশুর সংখ্যা ১৬ লাখেরও বেশি দাঁড়াতে পারে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্যমতে, পথশিশুদের ৮৫ শতাংশই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাদকে আসক্ত। সংগঠনটির তথ্যানুযায়ী ঢাকা শহরে কমপক্ষে ২২৯টি স্পট রয়েছে, যেখানে ৯ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুরা মাদক সেবন করে। পথশিশুরা সাধারণত গাঁজা, ড্যান্ডি, পলিথিনের মধ্যে গামবেল্ডিং দিয়ে ও পেট্রল শুঁকে নেশা করে।

বেসরকারি একটি সংস্থার মতে, দেশের অভ্যন্তরে মাদক পাচার এবং চোরাচালানে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ লাখ। প্রায় ২০ হাজার শিশু লিপ্ত রয়েছে সমাজবিরোধী কাজে। বোমা হামলা, মিছিল, মিটিংসহ রাজনৈতিক দলের নাশকতা বাস্তবায়নে একটি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পথশিশু ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশের বাইরে প্রতিবছর পাচার হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার শিশু। এছাড়া দেশের ২ হাজার পতিতালয়ে পতিতা হিসেবে শিশু রয়েছে কমপক্ষে ১ লাখ যারা ন্যূনতম প্রাথমিক শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। শুধুমাত্র পিতৃ পরিচয় ও সামাজিক হীনমন্যতার কারণে এসব শিশু বেড়ে উঠছে অন্ধকারে।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য পুষ্টিসহ নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এদের নেই নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা । ছিন্নমূল হাজারো শিশু পরিবারের অভাব-অনটন, কলহ ও পারিপার্শিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে খোলা আকাশ, পার্ক, ফুটপাত, রেলস্টেশন, ফেরিঘাট-লঞ্চ টার্মিনাল কিংবা বাস স্টেশনই আবাস বা কর্মস্থল।

পথশিশুদের বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ২০১৬ সালে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (সিপ)। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পথশিশুদের প্রায় ৪৪ শতাংশ মাদকাসক্ত, ৪১ শতাংশ শিশুর ঘুমানোর কোনো বিছানা নেই, ৪০ শতাংশ শিশু প্রতিদিন গোসলহীন থাকে, ৩৫ শতাংশ খোলা জায়গায় মলত্যাগ করে, ৫৪ শতাংশ অসুস্থ হলে দেখার কেউ নেই ও ৭৫ শতাংশ শিশু অসুস্থতায় ডাক্তারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারে না।

এসব শিশুদের কল্যাণে নেই কোনো নীতিমালা। সরকার ঘোষিত ভিশন ২০৪১ অর্জন করতে হলে এখনই এসব শিশুদের কল্যাণে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা তৈরি প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা

কমলাপুর রেলওয়ে থানার ওসি ইয়াসিন মজুমদার ফারুক বলেন, ‘আগের তুলনায় এখানে শিশুদের অপরাধ প্রবণতাটা এখন অনেকটা কমে গেছে। কোনো শিশুকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দেখলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিই।’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সচিব হিরন্ময় বাড়ৈ বলেন, ‘পথশিশুদের মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য মানবাধিকার কমিশন থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাও এদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

পথশিশুদের পুনর্বাসন এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সরকারি-বেসরকারি অনেক সংস্থা ও সংগঠন রয়েছে। কিন্তু কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ ও ফলাফল চোখে পড়ে না।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতিদিনই এ ধরনের ছিন্নমূল শিশুর সংখ্যা বেড়েই চলছে, যা রীতিমতো উদ্বেগজনক।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের কল্যাণে ১৯৭৪ সালের ২২ জুন জাতীয় শিশু আইন (চিলড্রেন অ্যাক্ট) করেছিলেন। যার মাধ্যমে শিশুদের নাম ও জাতীয়তার অধিকারের স্বীকৃতি আদায়, সব ধরনের অবহেলা, শোষণ, নিষ্ঠুরতা ও খারাপ কাজে ব্যবহার হওয়া ইত্যাদি থেকে নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা যায়। বর্তমান সরকার শিশুবান্ধব নানা কর্মসূচি ও প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যদিও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

অপরাধে জড়াচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুরা

আপডেট সময় : ০২:৫৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মার্চ ২০১৯

তারিফুল ইসলাম : মাদকাসক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছে রাজধানীতে পথশিশুরা। নিরাপত্তা ও সমাজ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে একদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি যেমন বাড়ছে তেমনি ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হচ্ছে সমাজে। ২০৩০সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যের সঙ্গে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পথশিশুদের একটি বড় অংশ তাদের পরিবার ছাড়াই দিনে-রাতে রাস্তায় অবস্থান করে। কিছু শিশু সারাদিন ভিক্ষা করে রাতে পরিবারে ফিরে আসে। আবার কিছু শিশু রাস্তাতেই রাতযাপন করে। দেশের নগর, বন্দর ও শহরে দিনে দিনে প্রসারিত হচ্ছে ছিন্নমূল শিশুদের মিছিল। এদের একটি অংশ প্রতিদিন রাত কাটায় রাস্তা ও ফুটপাতে। চোরাচালান ও মাদক বিক্রিসহ সমাজবিরোধী বিভিন্ন কার্যকলাপে পথশিশুরা ব্যবহৃত হচ্ছে আশঙ্কাজনকহারে।

সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৪ সালে দেশে পথশিশু ছিলো প্রায় ৬ লাখ আশি হাজার। ২০১৪ সালে তা বেড়ে সাড়ে ১১ লাখে পৌঁছে। আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে পথশিশুর সংখ্যা ১৬ লাখেরও বেশি দাঁড়াতে পারে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্যমতে, পথশিশুদের ৮৫ শতাংশই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাদকে আসক্ত। সংগঠনটির তথ্যানুযায়ী ঢাকা শহরে কমপক্ষে ২২৯টি স্পট রয়েছে, যেখানে ৯ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুরা মাদক সেবন করে। পথশিশুরা সাধারণত গাঁজা, ড্যান্ডি, পলিথিনের মধ্যে গামবেল্ডিং দিয়ে ও পেট্রল শুঁকে নেশা করে।

বেসরকারি একটি সংস্থার মতে, দেশের অভ্যন্তরে মাদক পাচার এবং চোরাচালানে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ লাখ। প্রায় ২০ হাজার শিশু লিপ্ত রয়েছে সমাজবিরোধী কাজে। বোমা হামলা, মিছিল, মিটিংসহ রাজনৈতিক দলের নাশকতা বাস্তবায়নে একটি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পথশিশু ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশের বাইরে প্রতিবছর পাচার হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার শিশু। এছাড়া দেশের ২ হাজার পতিতালয়ে পতিতা হিসেবে শিশু রয়েছে কমপক্ষে ১ লাখ যারা ন্যূনতম প্রাথমিক শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। শুধুমাত্র পিতৃ পরিচয় ও সামাজিক হীনমন্যতার কারণে এসব শিশু বেড়ে উঠছে অন্ধকারে।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য পুষ্টিসহ নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এদের নেই নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা । ছিন্নমূল হাজারো শিশু পরিবারের অভাব-অনটন, কলহ ও পারিপার্শিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে খোলা আকাশ, পার্ক, ফুটপাত, রেলস্টেশন, ফেরিঘাট-লঞ্চ টার্মিনাল কিংবা বাস স্টেশনই আবাস বা কর্মস্থল।

পথশিশুদের বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ২০১৬ সালে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (সিপ)। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পথশিশুদের প্রায় ৪৪ শতাংশ মাদকাসক্ত, ৪১ শতাংশ শিশুর ঘুমানোর কোনো বিছানা নেই, ৪০ শতাংশ শিশু প্রতিদিন গোসলহীন থাকে, ৩৫ শতাংশ খোলা জায়গায় মলত্যাগ করে, ৫৪ শতাংশ অসুস্থ হলে দেখার কেউ নেই ও ৭৫ শতাংশ শিশু অসুস্থতায় ডাক্তারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারে না।

এসব শিশুদের কল্যাণে নেই কোনো নীতিমালা। সরকার ঘোষিত ভিশন ২০৪১ অর্জন করতে হলে এখনই এসব শিশুদের কল্যাণে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা তৈরি প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা

কমলাপুর রেলওয়ে থানার ওসি ইয়াসিন মজুমদার ফারুক বলেন, ‘আগের তুলনায় এখানে শিশুদের অপরাধ প্রবণতাটা এখন অনেকটা কমে গেছে। কোনো শিশুকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দেখলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিই।’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সচিব হিরন্ময় বাড়ৈ বলেন, ‘পথশিশুদের মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য মানবাধিকার কমিশন থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাও এদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

পথশিশুদের পুনর্বাসন এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সরকারি-বেসরকারি অনেক সংস্থা ও সংগঠন রয়েছে। কিন্তু কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ ও ফলাফল চোখে পড়ে না।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতিদিনই এ ধরনের ছিন্নমূল শিশুর সংখ্যা বেড়েই চলছে, যা রীতিমতো উদ্বেগজনক।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের কল্যাণে ১৯৭৪ সালের ২২ জুন জাতীয় শিশু আইন (চিলড্রেন অ্যাক্ট) করেছিলেন। যার মাধ্যমে শিশুদের নাম ও জাতীয়তার অধিকারের স্বীকৃতি আদায়, সব ধরনের অবহেলা, শোষণ, নিষ্ঠুরতা ও খারাপ কাজে ব্যবহার হওয়া ইত্যাদি থেকে নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা যায়। বর্তমান সরকার শিশুবান্ধব নানা কর্মসূচি ও প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যদিও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।