ঢাকা ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এবার গ্র্যামির দৌড়ে ‘ধুরন্ধর ২’ Logo রিকশাচালক থেকে মুচি, ১ নভেম্বর থেকে সবাই বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে পারবেন Logo প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত ও গ্রেপ্তার করতে হবে: আখতার হোসেন Logo ৩৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ Logo ককরোচ পার্টির কর্মসূচি : দিল্লিতে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ আটক ১০০০ Logo মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক: তারেক রহমান Logo মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo যাত্রাবাড়ীতে বাসে তল্লাশি, ৯ হাজার ই’য়া’বা’স’হ গ্রে’প্তা’র ২ Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল 

পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে সালীস বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল ২০১৯ ২৪০ বার পড়া হয়েছে

মাদারীপুর সংবাদদাতা : মাদারীপুরের ডাসার থানার বালিগ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব বোতলা গ্রামের দুই কিশোরীকে দুইদিন আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় বালিগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মতিন মোল্লা এবং ডাসার থানার এসআই দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সালীস বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। তারা ৩ লাখ টাকা নিয়ে মীমাংসার নামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার পাশাপাশি নির্যাতিতদের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বলেও জানা গেছে। তবে শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে ৪ জনকে আসামী করে একটি মামলা হয়েছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের ডাসার থানার বালিগ্রাম ইউনিয়নের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া দুই কিশোরীকে আটিপাড়া এলাকার মজিবুর হাওলাদারের ছেলে শাকিব, জাকির মোল্লার ছেলে নয়ন, মান্নান খানের ছেলে আল-আমিন, হুমায়ুন হাওলাদারের ছেলে হৃদয় ও তার বন্ধুরা নয়নের চাচা মাহবুব সরদারের নির্জন ফ্লাটে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে কিশোরীদের ফ্লাট থেকে উদ্ধার করে। পালিয়ে যায় শাকিব, নয়ন, রবিউল, হৃদয়, আল-আমিন ও তার বন্ধুরা। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে। ডাসার থানার এসআই দেলায়ার ও বালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মতিন মোল্লা সালীস মীমাংসার নামে বখাটের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে এবং দুই কিশোরীর পরিবারকে মামলা না করা ও বিষয়টি কাউকে না জানাতে হুমকি ধামকি দেয়। পরে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গেলে সালীস মীমাংসার কথা অস্বীকার করে পুলিশ ও মতিন মোল্লা।
নির্যাতনের শিকার এক কিশোরীর মা বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ তাই আমাদের পক্ষে কেউ নেই। আমার মেয়ে ও আরেক মেয়ে বুধবার স্কুলে যায়। এর পরে আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেও পাইনি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে শুনি স্থানীয়রা আমার মেয়েসহ আরেক মেয়েকে এক ফ্লাট থেকে উদ্ধার করেছে। এখানের মাতুব্বররা সালিস মীমাংসা করে দেয়ার কথা বলে আমাদের মামলা করতে দেয়নি। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্যও হুমকি দিয়েছে এবং মেয়েকে কয়েক দিন লুকিয়ে রাখতে বলেছে। তাই মেয়েকে ওর মামা বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি।’
আরেক কিশোরীর মা বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ আপনাদের কাছে কিছু বললে আমাদের এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিবে।’ স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম মেম্বার বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি টের পেয়ে দুই কিশোরীকে উদ্ধার করি। এসময় ওই ফ্লাট থেকে ৭/৮জন পালিয়ে যায়। আমরা ধারণা করছি বখাটেরা ওই মেয়েদের ইজ্জত হরণ করেছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘দেলোয়ার দারোগা এবং মতিন মোল্লাা বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়ার নাম করে ৩ লক্ষ টাকা নিয়েছে বলে আমরা শুনেছি। একারণেই নাকি মামলা হয়নি।’ তবে এ ব্যাপারে ফ্লাট মালিক মাহবুব সরদারের ফ্লাটে গেলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরে তারা ফ্লাটে তালা দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। সালিস মীমাংসা করে দেয়ার কথা অস্বীকার করেছের সালিসদার মতিন মোল্লা। তিনি বলেন, ‘মেয়ে পক্ষের লোকজন বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে আমার কাছে এসেছিল। তবে আমি টাকাও নেইনি মীমাংসাও করিনি।’
টাকা নিয়ে সালিশ মিমাংসার ব্যাপারে ডাসার থানার এসআই দেলোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো নেগিটিভ কথাই ভালো শুনেন। শুনলে তো কিছু করার নাই। তবে আপনারা আরো তদন্ত করে দেখুন।’
এ ব্যাপারে মাদারীপুর পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালাদার গণমাধ্যম কে বলেন, ‘এই ঘটনা সালিস যোগ্য নয়। অবশ্যই মামলা হবে। যদি পুলিশের কোন সদস্যের এই অপরাধের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে সালীস বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:৪০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল ২০১৯

মাদারীপুর সংবাদদাতা : মাদারীপুরের ডাসার থানার বালিগ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব বোতলা গ্রামের দুই কিশোরীকে দুইদিন আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় বালিগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মতিন মোল্লা এবং ডাসার থানার এসআই দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সালীস বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। তারা ৩ লাখ টাকা নিয়ে মীমাংসার নামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার পাশাপাশি নির্যাতিতদের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বলেও জানা গেছে। তবে শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে ৪ জনকে আসামী করে একটি মামলা হয়েছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের ডাসার থানার বালিগ্রাম ইউনিয়নের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া দুই কিশোরীকে আটিপাড়া এলাকার মজিবুর হাওলাদারের ছেলে শাকিব, জাকির মোল্লার ছেলে নয়ন, মান্নান খানের ছেলে আল-আমিন, হুমায়ুন হাওলাদারের ছেলে হৃদয় ও তার বন্ধুরা নয়নের চাচা মাহবুব সরদারের নির্জন ফ্লাটে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে কিশোরীদের ফ্লাট থেকে উদ্ধার করে। পালিয়ে যায় শাকিব, নয়ন, রবিউল, হৃদয়, আল-আমিন ও তার বন্ধুরা। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে। ডাসার থানার এসআই দেলায়ার ও বালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মতিন মোল্লা সালীস মীমাংসার নামে বখাটের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে এবং দুই কিশোরীর পরিবারকে মামলা না করা ও বিষয়টি কাউকে না জানাতে হুমকি ধামকি দেয়। পরে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গেলে সালীস মীমাংসার কথা অস্বীকার করে পুলিশ ও মতিন মোল্লা।
নির্যাতনের শিকার এক কিশোরীর মা বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ তাই আমাদের পক্ষে কেউ নেই। আমার মেয়ে ও আরেক মেয়ে বুধবার স্কুলে যায়। এর পরে আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেও পাইনি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে শুনি স্থানীয়রা আমার মেয়েসহ আরেক মেয়েকে এক ফ্লাট থেকে উদ্ধার করেছে। এখানের মাতুব্বররা সালিস মীমাংসা করে দেয়ার কথা বলে আমাদের মামলা করতে দেয়নি। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্যও হুমকি দিয়েছে এবং মেয়েকে কয়েক দিন লুকিয়ে রাখতে বলেছে। তাই মেয়েকে ওর মামা বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি।’
আরেক কিশোরীর মা বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ আপনাদের কাছে কিছু বললে আমাদের এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিবে।’ স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম মেম্বার বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি টের পেয়ে দুই কিশোরীকে উদ্ধার করি। এসময় ওই ফ্লাট থেকে ৭/৮জন পালিয়ে যায়। আমরা ধারণা করছি বখাটেরা ওই মেয়েদের ইজ্জত হরণ করেছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘দেলোয়ার দারোগা এবং মতিন মোল্লাা বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়ার নাম করে ৩ লক্ষ টাকা নিয়েছে বলে আমরা শুনেছি। একারণেই নাকি মামলা হয়নি।’ তবে এ ব্যাপারে ফ্লাট মালিক মাহবুব সরদারের ফ্লাটে গেলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরে তারা ফ্লাটে তালা দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। সালিস মীমাংসা করে দেয়ার কথা অস্বীকার করেছের সালিসদার মতিন মোল্লা। তিনি বলেন, ‘মেয়ে পক্ষের লোকজন বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে আমার কাছে এসেছিল। তবে আমি টাকাও নেইনি মীমাংসাও করিনি।’
টাকা নিয়ে সালিশ মিমাংসার ব্যাপারে ডাসার থানার এসআই দেলোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো নেগিটিভ কথাই ভালো শুনেন। শুনলে তো কিছু করার নাই। তবে আপনারা আরো তদন্ত করে দেখুন।’
এ ব্যাপারে মাদারীপুর পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালাদার গণমাধ্যম কে বলেন, ‘এই ঘটনা সালিস যোগ্য নয়। অবশ্যই মামলা হবে। যদি পুলিশের কোন সদস্যের এই অপরাধের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।