ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo শাবি ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারীদের ছড়ানো গুজবে সয়লাব Logo সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে আন্দোলনকারীরা পুলিশের উপর হামলা চালালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে Logo জবিতে আজীবন ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ Logo শাবিতে হল প্রশাসনকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে নোটিসে জোর পূর্বক সাইন আদায় Logo এবার সামনে আসছে ছাত্রলীগ কর্তৃক আন্দোলনকারীদের মারধরের আরো ঘটনা Logo আবাসিক হল ছাড়ছে শাবি শিক্ষার্থীরা Logo নিরাপত্তার স্বার্থে শাবি শিক্ষার্থীদের আইডিকার্ড সাথে রাখার আহবান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের Logo জনস্বাস্থ্যের প্রধান সাধুর যত অসাধু কর্ম: দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ! Logo বিআইডব্লিউটিএ বন্দর শাখা যুগ্ম পরিচালক আলমগীরের দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য  Logo রাজশাহীতে এটিএন বাংলার সাংবাদিক সুজাউদ্দিন ছোটনকে হয়রানিমূলক মামলায় বএিমইউজরে নিন্দা ও প্রতিবাদ




পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে সালীস বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল ২০১৯ ৯২ বার পড়া হয়েছে

মাদারীপুর সংবাদদাতা : মাদারীপুরের ডাসার থানার বালিগ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব বোতলা গ্রামের দুই কিশোরীকে দুইদিন আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় বালিগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মতিন মোল্লা এবং ডাসার থানার এসআই দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সালীস বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। তারা ৩ লাখ টাকা নিয়ে মীমাংসার নামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার পাশাপাশি নির্যাতিতদের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বলেও জানা গেছে। তবে শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে ৪ জনকে আসামী করে একটি মামলা হয়েছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের ডাসার থানার বালিগ্রাম ইউনিয়নের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া দুই কিশোরীকে আটিপাড়া এলাকার মজিবুর হাওলাদারের ছেলে শাকিব, জাকির মোল্লার ছেলে নয়ন, মান্নান খানের ছেলে আল-আমিন, হুমায়ুন হাওলাদারের ছেলে হৃদয় ও তার বন্ধুরা নয়নের চাচা মাহবুব সরদারের নির্জন ফ্লাটে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে কিশোরীদের ফ্লাট থেকে উদ্ধার করে। পালিয়ে যায় শাকিব, নয়ন, রবিউল, হৃদয়, আল-আমিন ও তার বন্ধুরা। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে। ডাসার থানার এসআই দেলায়ার ও বালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মতিন মোল্লা সালীস মীমাংসার নামে বখাটের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে এবং দুই কিশোরীর পরিবারকে মামলা না করা ও বিষয়টি কাউকে না জানাতে হুমকি ধামকি দেয়। পরে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গেলে সালীস মীমাংসার কথা অস্বীকার করে পুলিশ ও মতিন মোল্লা।
নির্যাতনের শিকার এক কিশোরীর মা বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ তাই আমাদের পক্ষে কেউ নেই। আমার মেয়ে ও আরেক মেয়ে বুধবার স্কুলে যায়। এর পরে আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেও পাইনি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে শুনি স্থানীয়রা আমার মেয়েসহ আরেক মেয়েকে এক ফ্লাট থেকে উদ্ধার করেছে। এখানের মাতুব্বররা সালিস মীমাংসা করে দেয়ার কথা বলে আমাদের মামলা করতে দেয়নি। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্যও হুমকি দিয়েছে এবং মেয়েকে কয়েক দিন লুকিয়ে রাখতে বলেছে। তাই মেয়েকে ওর মামা বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি।’
আরেক কিশোরীর মা বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ আপনাদের কাছে কিছু বললে আমাদের এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিবে।’ স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম মেম্বার বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি টের পেয়ে দুই কিশোরীকে উদ্ধার করি। এসময় ওই ফ্লাট থেকে ৭/৮জন পালিয়ে যায়। আমরা ধারণা করছি বখাটেরা ওই মেয়েদের ইজ্জত হরণ করেছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘দেলোয়ার দারোগা এবং মতিন মোল্লাা বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়ার নাম করে ৩ লক্ষ টাকা নিয়েছে বলে আমরা শুনেছি। একারণেই নাকি মামলা হয়নি।’ তবে এ ব্যাপারে ফ্লাট মালিক মাহবুব সরদারের ফ্লাটে গেলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরে তারা ফ্লাটে তালা দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। সালিস মীমাংসা করে দেয়ার কথা অস্বীকার করেছের সালিসদার মতিন মোল্লা। তিনি বলেন, ‘মেয়ে পক্ষের লোকজন বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে আমার কাছে এসেছিল। তবে আমি টাকাও নেইনি মীমাংসাও করিনি।’
টাকা নিয়ে সালিশ মিমাংসার ব্যাপারে ডাসার থানার এসআই দেলোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো নেগিটিভ কথাই ভালো শুনেন। শুনলে তো কিছু করার নাই। তবে আপনারা আরো তদন্ত করে দেখুন।’
এ ব্যাপারে মাদারীপুর পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালাদার গণমাধ্যম কে বলেন, ‘এই ঘটনা সালিস যোগ্য নয়। অবশ্যই মামলা হবে। যদি পুলিশের কোন সদস্যের এই অপরাধের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে সালীস বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:৪০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল ২০১৯

মাদারীপুর সংবাদদাতা : মাদারীপুরের ডাসার থানার বালিগ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব বোতলা গ্রামের দুই কিশোরীকে দুইদিন আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় বালিগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মতিন মোল্লা এবং ডাসার থানার এসআই দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সালীস বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। তারা ৩ লাখ টাকা নিয়ে মীমাংসার নামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার পাশাপাশি নির্যাতিতদের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বলেও জানা গেছে। তবে শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে ৪ জনকে আসামী করে একটি মামলা হয়েছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের ডাসার থানার বালিগ্রাম ইউনিয়নের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া দুই কিশোরীকে আটিপাড়া এলাকার মজিবুর হাওলাদারের ছেলে শাকিব, জাকির মোল্লার ছেলে নয়ন, মান্নান খানের ছেলে আল-আমিন, হুমায়ুন হাওলাদারের ছেলে হৃদয় ও তার বন্ধুরা নয়নের চাচা মাহবুব সরদারের নির্জন ফ্লাটে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে কিশোরীদের ফ্লাট থেকে উদ্ধার করে। পালিয়ে যায় শাকিব, নয়ন, রবিউল, হৃদয়, আল-আমিন ও তার বন্ধুরা। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে। ডাসার থানার এসআই দেলায়ার ও বালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মতিন মোল্লা সালীস মীমাংসার নামে বখাটের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে এবং দুই কিশোরীর পরিবারকে মামলা না করা ও বিষয়টি কাউকে না জানাতে হুমকি ধামকি দেয়। পরে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা বিষয়টি জানতে পেরে শুক্রবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গেলে সালীস মীমাংসার কথা অস্বীকার করে পুলিশ ও মতিন মোল্লা।
নির্যাতনের শিকার এক কিশোরীর মা বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ তাই আমাদের পক্ষে কেউ নেই। আমার মেয়ে ও আরেক মেয়ে বুধবার স্কুলে যায়। এর পরে আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেও পাইনি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে শুনি স্থানীয়রা আমার মেয়েসহ আরেক মেয়েকে এক ফ্লাট থেকে উদ্ধার করেছে। এখানের মাতুব্বররা সালিস মীমাংসা করে দেয়ার কথা বলে আমাদের মামলা করতে দেয়নি। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্যও হুমকি দিয়েছে এবং মেয়েকে কয়েক দিন লুকিয়ে রাখতে বলেছে। তাই মেয়েকে ওর মামা বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি।’
আরেক কিশোরীর মা বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ আপনাদের কাছে কিছু বললে আমাদের এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিবে।’ স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম মেম্বার বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি টের পেয়ে দুই কিশোরীকে উদ্ধার করি। এসময় ওই ফ্লাট থেকে ৭/৮জন পালিয়ে যায়। আমরা ধারণা করছি বখাটেরা ওই মেয়েদের ইজ্জত হরণ করেছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘দেলোয়ার দারোগা এবং মতিন মোল্লাা বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়ার নাম করে ৩ লক্ষ টাকা নিয়েছে বলে আমরা শুনেছি। একারণেই নাকি মামলা হয়নি।’ তবে এ ব্যাপারে ফ্লাট মালিক মাহবুব সরদারের ফ্লাটে গেলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরে তারা ফ্লাটে তালা দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। সালিস মীমাংসা করে দেয়ার কথা অস্বীকার করেছের সালিসদার মতিন মোল্লা। তিনি বলেন, ‘মেয়ে পক্ষের লোকজন বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে আমার কাছে এসেছিল। তবে আমি টাকাও নেইনি মীমাংসাও করিনি।’
টাকা নিয়ে সালিশ মিমাংসার ব্যাপারে ডাসার থানার এসআই দেলোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো নেগিটিভ কথাই ভালো শুনেন। শুনলে তো কিছু করার নাই। তবে আপনারা আরো তদন্ত করে দেখুন।’
এ ব্যাপারে মাদারীপুর পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালাদার গণমাধ্যম কে বলেন, ‘এই ঘটনা সালিস যোগ্য নয়। অবশ্যই মামলা হবে। যদি পুলিশের কোন সদস্যের এই অপরাধের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।