কোটি টাকা দিয়েও মিলল না ফ্ল্যাট, মিরপুরের মামলাবাজ হান্নানের খপ্পরে পড়ে উল্টো ঝুলছে মামলা!
- আপডেট সময় : ১২:১৬:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৯২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্বপ্নের একটা ছাদের জন্য জীবনের সমস্ত সঞ্চয় তুলে দিয়েছিলেন আবাসন প্রতিষ্ঠানের হাতে। কিন্তু দিনশেষে ফ্ল্যাটের চাবি তো মেলেইনি, উল্টো পাওনা অধিকার চাইতে গিয়ে ঘাড়ে চেপেছে আদালতের সমন। রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকার ভুক্তভোগী নয়ন বাড়ৈ এখন শুধুই আইনি আর মানসিক যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন।
অ্যাডভান্স ডেভেলপার কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল হান্নানকে নগদ ৯৩ লাখ টাকা এবং ৩৩ লাখ টাকার চেক—সব মিলিয়ে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন নয়ন। কথা ছিল চাবি হাতে পাওয়ার। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী টাকা নেওয়ার পরও নয়নকে ফ্ল্যাটে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। মূল জমির মালিক নাজমুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর এই জটিলতা আরও ঘনীভূত হয়। নয়নের দাবি, আবাসন বুঝিয়ে দেওয়া তো দূরের কথা, উল্টো তাঁর বিরুদ্ধেই আদালতে মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এলাকায় হান্নানের পরিচয় শুধুই ডেভেলপার নয়, অনেকের মুখেই তাঁর নাম ‘মামলাবাজ হান্নান’। জমি কিংবা ফ্ল্যাট নিয়ে একটু দরকষাকষি হলেই আইনি চাপ তৈরি করা তাঁর পুরনো কৌশল। সুবিধা অনুযায়ী রাজনৈতিক পরিচয় বদলানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অতীতে অন্য একটি আবাসন কোম্পানিতে ১০ বছর হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করার পর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়েছিল বলেও স্থানীয়রা জানান।
কার্যালয়ের চিত্র ও অভিযুক্তের অবস্থান:
সত্যতা যাচাই করতে মিরপুর-২ নম্বরে হান্নানের কার্যালয়ে সরেজমিনে গেলে সাংবাদিকদের দেখে তড়িঘড়ি করে মূল ফটক বন্ধ করে দেন নিরাপত্তাকর্মীরা। পরবর্তীতে তাঁর ম্যানেজারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মালিকের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু এর পরপরই ফোনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে অভিযুক্তের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শুধু নয়ন বাড়ৈ একা নন; একই ফাঁদে পড়েছেন আরও একাধিক ভুক্তভোগী।
মিরপুর মডেল থানা ও রিহ্যাবসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিঃস্ব পরিবারগুলোর একটাই দাবি—জরুরি ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত করে তাঁদের কষ্টার্জিত ফ্ল্যাট ও পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।























