ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ অপব্যবহার: এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি ইস্যুতে হাইকোর্টে যাচ্ছে আইনজীদের সংগঠন 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪১৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বহুজাতিক কোম্পানির অর্থ রাজনৈতিক প্রচারণায় অপব্যবহারের অভিযোগ এনে বিষয়টি হাইকোর্টে তোলার ঘোষণা দিয়েছে আইনজীবীদের সংগঠন লইয়ার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন অ্যান্ড অ্যাবিউজ (LACA)।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, চলমান একটি রিট পিটিশনের (নং–৬৮১২/২০২৫) আওতায় তারা এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ এবং তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আদালতের নজরে আনবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিসরত করপোরেট আইনজীবীরা LACA-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং তারা নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।

সংগঠনটির অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠী রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় অবৈধ সুবিধা পেয়েছে এবং এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ সেই তালিকায় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, কর ফাঁকি, অর্থপাচার ও সহিংস অপরাধে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়।

LACA আরও জানায়, এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে কারাবন্দি এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি ও দুর্নীতির মামলা বিচারাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইরেশ যাকেরসহ কয়েকজন পরিচালক দেশত্যাগ করেছেন বলেও সংগঠনটি দাবি করেছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আদালতের বিভিন্ন নথিতে এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপের বিরুদ্ধে গণমাধ্যম প্রভাবিতকরণ, বিজ্ঞাপন বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার এবং রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বিভিন্ন আদালতে গ্রুপটির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানানো হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গ্রুপটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কিছু ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

আইনজীবীদের সংগঠনটির অভিযোগ, এসব মামলা ও অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ এখনও গ্রামীণফোন, নেসলে বাংলাদেশ, এসিআই, ইউনিলিভার, আরলা ফুডস, মারিকো, রেকিট বেনকিজারসহ বিভিন্ন দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও বিপণন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।

সংগঠনটির মতে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ‘সাপ্লায়ার কোড অব কন্ডাক্ট’, দুর্নীতিবিরোধী নীতি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অঙ্গীকারের সঙ্গে এই সম্পর্ক সাংঘর্ষিক হতে পারে।

LACA দাবি করেছে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান WPP plc ইতোমধ্যে একটি স্বাধীন আইনি পর্যালোচনার পর এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, অতীত সরকারের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ আওয়ামী লীগের পক্ষে রাজনৈতিক প্রচারণা চালিয়েছে। বিদেশি পিআর ফার্ম ও লবিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি প্রচারেও তারা ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করা হয়।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে LACA জানায়, গ্রুপটি কয়েক বিলিয়ন ডলারের তহবিল তদারকি করেছে, যার একটি অংশ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

সংগঠনটি জানায়, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে লিখিত নোটিশ পাঠানো হলেও সন্তোষজনক সাড়া পাওয়া যায়নি। এ কারণে বিচারিক পর্যালোচনার জন্য বিষয়টি হাইকোর্ট বিভাগের সামনে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ এবং অভিযোগে উল্লেখিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ অপব্যবহার: এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি ইস্যুতে হাইকোর্টে যাচ্ছে আইনজীদের সংগঠন 

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বহুজাতিক কোম্পানির অর্থ রাজনৈতিক প্রচারণায় অপব্যবহারের অভিযোগ এনে বিষয়টি হাইকোর্টে তোলার ঘোষণা দিয়েছে আইনজীবীদের সংগঠন লইয়ার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন অ্যান্ড অ্যাবিউজ (LACA)।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, চলমান একটি রিট পিটিশনের (নং–৬৮১২/২০২৫) আওতায় তারা এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ এবং তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আদালতের নজরে আনবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিসরত করপোরেট আইনজীবীরা LACA-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং তারা নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।

সংগঠনটির অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠী রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় অবৈধ সুবিধা পেয়েছে এবং এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ সেই তালিকায় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, কর ফাঁকি, অর্থপাচার ও সহিংস অপরাধে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়।

LACA আরও জানায়, এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে কারাবন্দি এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি ও দুর্নীতির মামলা বিচারাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইরেশ যাকেরসহ কয়েকজন পরিচালক দেশত্যাগ করেছেন বলেও সংগঠনটি দাবি করেছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আদালতের বিভিন্ন নথিতে এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপের বিরুদ্ধে গণমাধ্যম প্রভাবিতকরণ, বিজ্ঞাপন বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার এবং রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বিভিন্ন আদালতে গ্রুপটির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানানো হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গ্রুপটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কিছু ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

আইনজীবীদের সংগঠনটির অভিযোগ, এসব মামলা ও অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ এখনও গ্রামীণফোন, নেসলে বাংলাদেশ, এসিআই, ইউনিলিভার, আরলা ফুডস, মারিকো, রেকিট বেনকিজারসহ বিভিন্ন দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও বিপণন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।

সংগঠনটির মতে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ‘সাপ্লায়ার কোড অব কন্ডাক্ট’, দুর্নীতিবিরোধী নীতি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অঙ্গীকারের সঙ্গে এই সম্পর্ক সাংঘর্ষিক হতে পারে।

LACA দাবি করেছে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান WPP plc ইতোমধ্যে একটি স্বাধীন আইনি পর্যালোচনার পর এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, অতীত সরকারের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ আওয়ামী লীগের পক্ষে রাজনৈতিক প্রচারণা চালিয়েছে। বিদেশি পিআর ফার্ম ও লবিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি প্রচারেও তারা ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করা হয়।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে LACA জানায়, গ্রুপটি কয়েক বিলিয়ন ডলারের তহবিল তদারকি করেছে, যার একটি অংশ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

সংগঠনটি জানায়, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে লিখিত নোটিশ পাঠানো হলেও সন্তোষজনক সাড়া পাওয়া যায়নি। এ কারণে বিচারিক পর্যালোচনার জন্য বিষয়টি হাইকোর্ট বিভাগের সামনে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ এবং অভিযোগে উল্লেখিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।