ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বঞ্চিত তিন বাহিনীর ১৫০ কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন ও বিশেষ সুবিধা প্রদান
- আপডেট সময় : ০৩:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ ২৭০ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক: বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঞ্চনা, অবিচার ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া সশস্ত্র বাহিনীর ১৫০ জন কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং বকেয়া আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে গত বুধবার (১ জুলাই) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এর বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। একই সঙ্গে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা এ-সংক্রান্ত পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে।
সুবিধাভোগীদের তালিকা ও প্রাপ্ত সুবিধা
নতুন এ সিদ্ধান্তের আওতায় তিন বাহিনীর মোট ১৫০ জন অবসরপ্রাপ্ত, অপসারণকৃত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও বরখাস্ত (চাকরিচ্যুত) কর্মকর্তা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
– বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১৫ জন
– বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২১ জন
– বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ১৪ জন
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগ্যতা ও প্রাপ্যতা বিবেচনায় স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ স্বাভাবিক অবসর, অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসর অথবা পদোন্নতির সুবিধা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী তাঁদের বকেয়া বেতন-ভাতা, অন্যান্য আর্থিক সুবিধা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনাও প্রদান করা হবে।
প্রেক্ষাপট ও কমিটির সুপারিশ
জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে তিন বাহিনীতে বৈষম্য, অবিচার ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাহিনী সদর দপ্তরগুলো পৃথক পর্ষদ গঠন করে। পরবর্তীতে গত ৩ মে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিটি সংশ্লিষ্ট পর্ষদগুলোর সুপারিশ ও প্রস্তাব বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রদান করে। সেই সুপারিশ এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ভিত্তিতেই সরকার এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
কমিটির সুপারিশে উল্লেখ করা হয়, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অন্যায়ের শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের মান-মর্যাদা পুনর্বহাল এবং তাঁদের ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত সরকারের আমলে বরখাস্ত, চাকরিচ্যুত, বাধ্যতামূলক অবসর, অকালীন অবসর কিংবা স্বেচ্ছায় অবসরে যেতে বাধ্য হওয়া অনেক কর্মকর্তা চাকরি ও প্রাপ্য সুবিধা পুনর্বহালের আবেদন করেন। এর আগে একই ধরনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার ১৪১ জন বঞ্চিত কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি প্রদান করেছিল।





















