ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের অঙ্গীকারঃ ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী  Logo মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির নতুন বাসের উদ্বোধন Logo মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের ভূমিকা অগ্রগণ্য: ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক Logo মঙ্গল শোভাযাত্রা – তাসফিয়া ফারহানা ঐশী Logo সাস্টিয়ান ব্রাহ্মণবাড়িয়া এর ইফতার মাহফিল সম্পন্ন Logo কুবির চট্টগ্রাম স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের ইফতার ও পূর্নমিলনী Logo অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদের মায়ের মৃত্যুতে শাবির মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্ত চিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ পরিষদের শোক প্রকাশ Logo শাবির অধ্যাপক জহীর উদ্দিনের মায়ের মৃত্যুতে উপাচার্যের শোক প্রকাশ Logo বিশ কোটিতে গণপূর্তের প্রধান হওয়ার মিশনে ‘ছাত্রদল ক্যাডার প্রকৌশলী’! Logo দূর্নীতির রাক্ষস ফায়ার সার্ভিসের এডি আনোয়ার!




রক্ত দিয়ে কেনা মহান একুশ আজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২০:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ৯৫ বার পড়া হয়েছে

আসমাউলহুসনা, ঢাকা:

ভাষা মানে, “বোল, আকুতি, মুক্তি, মায়ের মুখের শব্দ- সোনা যাদুমণি রে, ভাষা মানে মাতৃভাষা। অ” তে অর্জন ম – মোদের, গ’ য়ে গরব — মোদের গরব, মোদের আশা আ মরি বাংলাভাষা….
একুশ মানে মাথা না নোয়ানো। আজ ৮ই ফাল্গুন ১৪২৭, ২১ শে ফেব্রুয়ারি ২০২১। অনবদ্য অর্জন আর গৌরবের এই দিনটি আমাদের ভাষা দিবস,শহীদ দিবস এবং একই সাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসেবে পালিত হচ্ছে। শহীদ মিনার চত্ত্বর সেজেছে অক্ষরে অক্ষরে। বিদ্রোহী ধবনি, ফিনকি দিয়ে গড়িয়ে পড়া ভাষা শহীদদের রক্তের আওয়াজ, ৫২ র” র‍্যালীতে ছোড়া পুলিশের বুলেটের শব্দ যেন আজ আরো একবার তাজা হয়ে উঠেছে শহীদ মিনারের দেয়ালে দেয়ালে! প্রতিটি অক্ষর কথা বলছে! মায়ের সাথে শিশু এসেছে, মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দেয়া ভাষা শহীদের চত্ত্বর শহীদ মিনারে। উঠতি কিশোর – কিশোরী অবাক হয়ে দেখছে বাংলায় লেখা দেয়াল লিখন!! সারাটা চত্তর আলপনায় আঁকিয়েছে – আঁকিয়েরা!

ইতিহাস বলছে, স্বাধীন বাংলার জন্মের শুরুটা হয়েছিল আসলে বায়ান্নতেই। বাংলা অক্ষর গুলো ছিল স্বাধীনতাকামী বাঙালির লালিত গোপন সোপান।
মি. জিন্নাহর যখন বলেছিল ঊদুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, ” মাতৃভাষা বাংলা চাই” – দাবিতে সেদিন সালাম বরকত রফিক জাব্বার শফিউলদের রক্তে ভিজেছিল রাজপথ! জ্বলে ওঠা আগুনটা আর নেভেনি। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা ফিরে পেয়েছি বাংলা ভাষা ও স্বাধীন বাংলাদেশ।

তবে, ১৯৫২ তেই থেমেছিলো না ভাষার জন্য ভালোবাসা। ৫২ এর রফিক সালামেরা ফিরেছিলেন ১৯৯৯ তেও! হ্যাঁ বলছি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রধান উদ্যোক্তা ও প্রস্তাবক বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের কথা, যিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের ভাষাদিবসের গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিষ্ঠা করেন “মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভারস অব দি সোসাইটি”! বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম আরেক বাংলাদেশী- কানাডিয়ান আব্দুস সালাম সহ আরো দশজন ভিন্ন ভাষাভাষীর লোকজন নিয়ে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় গড়ে তোলেন মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভারস অব দি সোসাইটি যার ফলে আজ অবাক বিষ্ময়ে বিশ্ব জেনেছে, ভাষার সন্মানে রক্ত দেয়া একটি জাতি পৃথিবীতে আছে, তারা বাঙালীজাতি। এভাবে আমাদের ভাষা দিবস আজ সারা পৃথিবীজুড়েই ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি নিয়ে International mother language day বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে, যেখানে লেখা রয়েছে The Idea to Celebrate International Mother Language Day was the Initiative of Bangladesh – হ্যাঁ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম উদ্যোগী দেশ বাংলাদেশ। এ বিষয়ে শনিবার ২০ শে ফেব্রুয়ারি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে একুশে পদক অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে কানাডা প্রবাসী সালাম-রফিক ২১কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস করার প্রস্তাব করেন ইউনেস্কো তে, কিন্তু জাতিসংঘের কোনোও সদস্য রাষ্ট্রের এটা প্রস্তাব করার কথা বলেন তারা – আমরা এটা জানতে পেরে সঙেগ সঙেগ সিদ্ধান্ত নিলাম জাতিসংঘে প্রস্তাব দেয়ার। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এই স্বীকৃতি দেয় এবং ২০০০ সাল থেকে সব দেশে এটি পালিত হচ্ছে। সেই থেকে ২১ শে ফেব্রুয়ারি আমাদেরই।

আজ মহান ২১ ” এর প্রথম প্রহর রাত ১২ঃ০১ মিনিটে ভাষা শহীদদের প্রতি সন্মান প্রদর্শন করে, শহীদমিনারে পুস্পস্তবক দেয়ার মধ্য দিয়ে ২১’ ২০২১ এর আনুষ্ঠানিকতার শুরু হয়। তবে করোনা কালীন সচেতনা মাথায় রেখে সাংগঠনিক পযায়ে একসাথে পাঁচজন এবং ব্যাক্তিগত ভাবে একত্রে দুজন একসাথে পুস্পস্তবক দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছেন। অনান্য আনুষ্ঠানিকতার প্রভাত ফেরী সহ আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় ফাতিহা ও কোরান পাঠ সহ দেশের সকল উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। দেশের সকল সরকারি আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান সহ সকল স্কুল- কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশন গুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

একুশ উপলক্ষে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যাবস্থা যেমন থাকবে ; ২১ শে ফেব্রুয়ারির ২০২১, বকশীবাজার, জজগ্ননাথহল ক্রসিং সড়ক টি এস সি শিববাড়ি মোড় ক্রসিং ও ফুলার রোড যান চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে।
এবং ভোর ৫টা থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে নিউমার্কেট ক্রসিং, কাটাবন ক্রসিং থেকে নীলক্ষেত ক্রসিং এবং ফুলবাড়িয়া থেকে চানখারপুল ক্রসিং পর্যন্ত সব যাত্রীবাহী গাড়ি প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এবং দুপুর দুইটা থেকে নীলক্ষেত, পলাশীমোড় ফুলার রোড, ববকশীবাজার চানখারপুল, দোয়েলচত্বর হাইকোর্ট টি এস সি শাহবাগ ইন্টারসেকসান গুলো রোড ব্লকের গাড়ি ডাইভারশান দেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




রক্ত দিয়ে কেনা মহান একুশ আজ

আপডেট সময় : ০৯:২০:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আসমাউলহুসনা, ঢাকা:

ভাষা মানে, “বোল, আকুতি, মুক্তি, মায়ের মুখের শব্দ- সোনা যাদুমণি রে, ভাষা মানে মাতৃভাষা। অ” তে অর্জন ম – মোদের, গ’ য়ে গরব — মোদের গরব, মোদের আশা আ মরি বাংলাভাষা….
একুশ মানে মাথা না নোয়ানো। আজ ৮ই ফাল্গুন ১৪২৭, ২১ শে ফেব্রুয়ারি ২০২১। অনবদ্য অর্জন আর গৌরবের এই দিনটি আমাদের ভাষা দিবস,শহীদ দিবস এবং একই সাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসেবে পালিত হচ্ছে। শহীদ মিনার চত্ত্বর সেজেছে অক্ষরে অক্ষরে। বিদ্রোহী ধবনি, ফিনকি দিয়ে গড়িয়ে পড়া ভাষা শহীদদের রক্তের আওয়াজ, ৫২ র” র‍্যালীতে ছোড়া পুলিশের বুলেটের শব্দ যেন আজ আরো একবার তাজা হয়ে উঠেছে শহীদ মিনারের দেয়ালে দেয়ালে! প্রতিটি অক্ষর কথা বলছে! মায়ের সাথে শিশু এসেছে, মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দেয়া ভাষা শহীদের চত্ত্বর শহীদ মিনারে। উঠতি কিশোর – কিশোরী অবাক হয়ে দেখছে বাংলায় লেখা দেয়াল লিখন!! সারাটা চত্তর আলপনায় আঁকিয়েছে – আঁকিয়েরা!

ইতিহাস বলছে, স্বাধীন বাংলার জন্মের শুরুটা হয়েছিল আসলে বায়ান্নতেই। বাংলা অক্ষর গুলো ছিল স্বাধীনতাকামী বাঙালির লালিত গোপন সোপান।
মি. জিন্নাহর যখন বলেছিল ঊদুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, ” মাতৃভাষা বাংলা চাই” – দাবিতে সেদিন সালাম বরকত রফিক জাব্বার শফিউলদের রক্তে ভিজেছিল রাজপথ! জ্বলে ওঠা আগুনটা আর নেভেনি। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা ফিরে পেয়েছি বাংলা ভাষা ও স্বাধীন বাংলাদেশ।

তবে, ১৯৫২ তেই থেমেছিলো না ভাষার জন্য ভালোবাসা। ৫২ এর রফিক সালামেরা ফিরেছিলেন ১৯৯৯ তেও! হ্যাঁ বলছি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রধান উদ্যোক্তা ও প্রস্তাবক বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের কথা, যিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের ভাষাদিবসের গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিষ্ঠা করেন “মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভারস অব দি সোসাইটি”! বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম আরেক বাংলাদেশী- কানাডিয়ান আব্দুস সালাম সহ আরো দশজন ভিন্ন ভাষাভাষীর লোকজন নিয়ে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় গড়ে তোলেন মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভারস অব দি সোসাইটি যার ফলে আজ অবাক বিষ্ময়ে বিশ্ব জেনেছে, ভাষার সন্মানে রক্ত দেয়া একটি জাতি পৃথিবীতে আছে, তারা বাঙালীজাতি। এভাবে আমাদের ভাষা দিবস আজ সারা পৃথিবীজুড়েই ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি নিয়ে International mother language day বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে, যেখানে লেখা রয়েছে The Idea to Celebrate International Mother Language Day was the Initiative of Bangladesh – হ্যাঁ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম উদ্যোগী দেশ বাংলাদেশ। এ বিষয়ে শনিবার ২০ শে ফেব্রুয়ারি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে একুশে পদক অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে কানাডা প্রবাসী সালাম-রফিক ২১কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস করার প্রস্তাব করেন ইউনেস্কো তে, কিন্তু জাতিসংঘের কোনোও সদস্য রাষ্ট্রের এটা প্রস্তাব করার কথা বলেন তারা – আমরা এটা জানতে পেরে সঙেগ সঙেগ সিদ্ধান্ত নিলাম জাতিসংঘে প্রস্তাব দেয়ার। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এই স্বীকৃতি দেয় এবং ২০০০ সাল থেকে সব দেশে এটি পালিত হচ্ছে। সেই থেকে ২১ শে ফেব্রুয়ারি আমাদেরই।

আজ মহান ২১ ” এর প্রথম প্রহর রাত ১২ঃ০১ মিনিটে ভাষা শহীদদের প্রতি সন্মান প্রদর্শন করে, শহীদমিনারে পুস্পস্তবক দেয়ার মধ্য দিয়ে ২১’ ২০২১ এর আনুষ্ঠানিকতার শুরু হয়। তবে করোনা কালীন সচেতনা মাথায় রেখে সাংগঠনিক পযায়ে একসাথে পাঁচজন এবং ব্যাক্তিগত ভাবে একত্রে দুজন একসাথে পুস্পস্তবক দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছেন। অনান্য আনুষ্ঠানিকতার প্রভাত ফেরী সহ আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় ফাতিহা ও কোরান পাঠ সহ দেশের সকল উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। দেশের সকল সরকারি আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান সহ সকল স্কুল- কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশন গুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

একুশ উপলক্ষে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যাবস্থা যেমন থাকবে ; ২১ শে ফেব্রুয়ারির ২০২১, বকশীবাজার, জজগ্ননাথহল ক্রসিং সড়ক টি এস সি শিববাড়ি মোড় ক্রসিং ও ফুলার রোড যান চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে।
এবং ভোর ৫টা থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে নিউমার্কেট ক্রসিং, কাটাবন ক্রসিং থেকে নীলক্ষেত ক্রসিং এবং ফুলবাড়িয়া থেকে চানখারপুল ক্রসিং পর্যন্ত সব যাত্রীবাহী গাড়ি প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এবং দুপুর দুইটা থেকে নীলক্ষেত, পলাশীমোড় ফুলার রোড, ববকশীবাজার চানখারপুল, দোয়েলচত্বর হাইকোর্ট টি এস সি শাহবাগ ইন্টারসেকসান গুলো রোড ব্লকের গাড়ি ডাইভারশান দেয়া হবে।