ঢাকা ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এবার গ্র্যামির দৌড়ে ‘ধুরন্ধর ২’ Logo রিকশাচালক থেকে মুচি, ১ নভেম্বর থেকে সবাই বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে পারবেন Logo প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত ও গ্রেপ্তার করতে হবে: আখতার হোসেন Logo ৩৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ Logo ককরোচ পার্টির কর্মসূচি : দিল্লিতে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ আটক ১০০০ Logo মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক: তারেক রহমান Logo মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo যাত্রাবাড়ীতে বাসে তল্লাশি, ৯ হাজার ই’য়া’বা’স’হ গ্রে’প্তা’র ২ Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল 

গরু চুরির অপবাদে মুক্তিযোদ্ধাকে বেঁধে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্যাতন!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ২৯৮ বার পড়া হয়েছে

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ছেলের বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ তুলে আকবর আলী ওরফে ধনী (৮০) নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে দড়ি দিয়ে বেধে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় মামলার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ভুক্তভোগী ওই মুক্তিযোদ্ধা।

শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের জাওরানী এলাকায় চেয়ারম্যানের বাড়িতে এই ঘটনাটি ঘটেছে। এদিকে এর আগে গত বছরের ১৬ মে চেয়ারম্যানের ওই বাড়িতে এক যুবুককে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের পর ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়।

নির্যাতনের শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী ধনী উত্তর জাওরানী গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া সে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। আর অভিযুক্ত মহির উদ্দিন ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এই ঘটনার মত আরও অনেক ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।
জানাগেছে, ওই ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী ধনীর ছেলের বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ তুলে গ্রাম পুলিশ মুক্তিযোদ্ধার নিজ বাড়ি থেকে জোড় করে তুলে নিয়ে যায় চেয়ারম্যানের বাড়িতে। এরপর চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশ মিলে জোড় পূর্বক ওই মুক্তিযোদ্ধাকে চেয়ারের সাথে দড়ি দিয়ে হাত বেঁধে রাখেন। এরপর চলে নির্যাতন। বিষয়টি নিয়ে জানা-জানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমোলচনার সৃষ্টি হয়। এর এক পর্যায়ে স্থানীয় ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের চাপে মুক্তিযোদ্ধা ধনীর হাতের বাঁধন খুলে দেওয়া হয়।

ওই এলাকার নাম প্রকাশ্যে অনিশ্চুক একাধিক স্থানীয়রা বলেন, ওই মুক্তিযোদ্ধার ছেলে গরু চুরি করছে। এমন অভিযোগ তুলে বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী ধনীকে গ্রাম পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে চেয়ারের সাথে দঁড়ি দিয়ে বেধে রাখা হয়। পরে জমাটবদ্ধ স্থানীয়দের রোষানলে মুক্তিযোদ্ধার হাতের বাধন খুলে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী ধনী বলেন, আমার ছেলে নাকি গরু চুরি করেছে। এমন অভিযোগ তুলে আমার বাড়িতে এসে চেয়ারম্যান ও চৌকিদার জোর পূর্বক আমাকে তুলে নিয়ে যায় চেয়ারম্যানের বাড়িতে। কোন কিছু না বলেই চেয়ারে বসিয়ে দড়ি দিয়ে হাত বেধে ফেলে। আমি লজ্জায় মাথা নিচু করে বসে থাকি বলেই হাউমাউ করে কান্না শুরু করেন তিনি। চোখের জল মুচতে মুচতে তিনি শুধু একটাই কথা বলেন দেশ স্বাধীন করে শেষ বয়সে আমি এই পেলাম। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন বলেন, মুক্তিযোদ্ধাকে কোন মারধর করা হয়নি। তার ছেলে গরু চোর সে জন্য তাকে ডাকা হয়েছিলো। আপনি পরিষদ বাদ দিয়ে নিজ বাড়িতে বিচার সালিশ করে কেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তার কোন সদুত্তোর মেলেনি। এর আগেও আপনার ওই বাসায় এক যুবককে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের পর ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো চেষ্টা করেন এমন প্রশ্ন করা হলে তারও কোন উত্তর দেননি তিনি।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১৬ মে নুরুজ্জামান নামে এক যুবককে চেয়ারম্যানের ওই বাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের পর ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো চেষ্টা করেন চেয়ারম্যানের ছেলে জাহাঙ্গীর ও ভাই মনসুর হেলাল। আর সেই ঘটনার মামলায় বর্তমানে তারা জামিনে আছেন। এ দিকে গত বছর ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৩জন গ্রাম পুলিশ মাদকদ্রব্য নিয়ে পুলিশের নিকট আটক হয়। তাদের মামলা চলমান রয়েছে।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

গরু চুরির অপবাদে মুক্তিযোদ্ধাকে বেঁধে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্যাতন!

আপডেট সময় : ০৩:০৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ছেলের বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ তুলে আকবর আলী ওরফে ধনী (৮০) নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে দড়ি দিয়ে বেধে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় মামলার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ভুক্তভোগী ওই মুক্তিযোদ্ধা।

শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের জাওরানী এলাকায় চেয়ারম্যানের বাড়িতে এই ঘটনাটি ঘটেছে। এদিকে এর আগে গত বছরের ১৬ মে চেয়ারম্যানের ওই বাড়িতে এক যুবুককে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের পর ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়।

নির্যাতনের শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী ধনী উত্তর জাওরানী গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া সে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। আর অভিযুক্ত মহির উদ্দিন ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এই ঘটনার মত আরও অনেক ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।
জানাগেছে, ওই ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী ধনীর ছেলের বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ তুলে গ্রাম পুলিশ মুক্তিযোদ্ধার নিজ বাড়ি থেকে জোড় করে তুলে নিয়ে যায় চেয়ারম্যানের বাড়িতে। এরপর চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশ মিলে জোড় পূর্বক ওই মুক্তিযোদ্ধাকে চেয়ারের সাথে দড়ি দিয়ে হাত বেঁধে রাখেন। এরপর চলে নির্যাতন। বিষয়টি নিয়ে জানা-জানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমোলচনার সৃষ্টি হয়। এর এক পর্যায়ে স্থানীয় ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের চাপে মুক্তিযোদ্ধা ধনীর হাতের বাঁধন খুলে দেওয়া হয়।

ওই এলাকার নাম প্রকাশ্যে অনিশ্চুক একাধিক স্থানীয়রা বলেন, ওই মুক্তিযোদ্ধার ছেলে গরু চুরি করছে। এমন অভিযোগ তুলে বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী ধনীকে গ্রাম পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে চেয়ারের সাথে দঁড়ি দিয়ে বেধে রাখা হয়। পরে জমাটবদ্ধ স্থানীয়দের রোষানলে মুক্তিযোদ্ধার হাতের বাধন খুলে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী ধনী বলেন, আমার ছেলে নাকি গরু চুরি করেছে। এমন অভিযোগ তুলে আমার বাড়িতে এসে চেয়ারম্যান ও চৌকিদার জোর পূর্বক আমাকে তুলে নিয়ে যায় চেয়ারম্যানের বাড়িতে। কোন কিছু না বলেই চেয়ারে বসিয়ে দড়ি দিয়ে হাত বেধে ফেলে। আমি লজ্জায় মাথা নিচু করে বসে থাকি বলেই হাউমাউ করে কান্না শুরু করেন তিনি। চোখের জল মুচতে মুচতে তিনি শুধু একটাই কথা বলেন দেশ স্বাধীন করে শেষ বয়সে আমি এই পেলাম। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন বলেন, মুক্তিযোদ্ধাকে কোন মারধর করা হয়নি। তার ছেলে গরু চোর সে জন্য তাকে ডাকা হয়েছিলো। আপনি পরিষদ বাদ দিয়ে নিজ বাড়িতে বিচার সালিশ করে কেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তার কোন সদুত্তোর মেলেনি। এর আগেও আপনার ওই বাসায় এক যুবককে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের পর ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো চেষ্টা করেন এমন প্রশ্ন করা হলে তারও কোন উত্তর দেননি তিনি।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১৬ মে নুরুজ্জামান নামে এক যুবককে চেয়ারম্যানের ওই বাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের পর ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো চেষ্টা করেন চেয়ারম্যানের ছেলে জাহাঙ্গীর ও ভাই মনসুর হেলাল। আর সেই ঘটনার মামলায় বর্তমানে তারা জামিনে আছেন। এ দিকে গত বছর ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৩জন গ্রাম পুলিশ মাদকদ্রব্য নিয়ে পুলিশের নিকট আটক হয়। তাদের মামলা চলমান রয়েছে।