ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ১৭ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত হয়েছে: সংস্কারের আশ্বাস ইশরাকের Logo চট্টগ্রাম রেলের জমি দখলে ‘অসাধু সিন্ডিকেট’: রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, লিজ নিয়েও জমি পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠান Logo নিষিদ্ধ সংগঠনের ‘পুনর্গঠন’ বার্তা: ছাত্রলীগের নোটিশ ঘিরে প্রশ্ন ও শঙ্কা Logo দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নলীগ লুট করে আগষ্টিন শত কোটি টাকার মালিক Logo জিয়া শিশুকিশোর মেলার কেন্দ্রীয় কমিটির গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক হলেন হাফিজুর রহমান শফিক Logo জিয়া শিশু কিশোর মেলার নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা  Logo ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজ ৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক Logo প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে শীর্ষ কর্মকর্তা আতিকুর পাহাড়সমান অভিযোগ নিয়েও বহাল Logo বদলি-বাণিজ্য ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন সিন্ডিকেট Logo রাজউকে দুর্নীতিতে আলোচনার শীর্ষে পরিচালক জাকারিয়া: ‘সেফ জন’ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ 

ঈশ্বর থাকেন ওই ভদ্র পল্লীতে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৪:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১ ২২৯ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক; দেশে জেঁকে বসেছে শীত। শীতে পুরো দেশ যেন যুবুথুবু অবস্থা। শৈত্য প্রবাহের নাকানি চুবানি খেয়ে মানুষের নাভিস্বাস অবস্থা। জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে এরকম শীতের মহরা বসবে তা বোধগম্য ছিলো না সাধারণ মানুষের। রাজধানীবাসী তো পুরো জানুয়ারি মাস লেপ কম্বল না গাঁয়ে দিয়েই ঘুমিয়েছে। কিন্তু, মাঘের শীত বাঘের গাঁয়েও লাগে একথা ভুললে তো চলবে না।

ঘন কুয়াশায় চারদিকে কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না। রাস্তা ঘাটে সুনশান নিরবতা। মানুষের আনাগোনা কম। দোকানগুলো বন্ধ। শীতে লেপ মুরি দিয়ে ঘুমাচ্ছে নগরবাসী। নগর জীবনে যেন একটা ঝিমুনি ভাব এসেছে।

শীতের পিঠা পুলি খেয়ে আবার শীত উদযাপন করছে সুখি মানুষেরা। খেজুর রসের নানা পদের পিঠা আর গুড়ের বাহারি সব খাবারে মানুষ শীতের আনন্দ খুঁজে নিয়েছে। কিন্তু, কেউ কি মনে রেখেছে খেটে খাওয়া করিমউদ্দিনদের কথা?

প্রতিদিনের মতো করিমউদ্দিন ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ পড়েই বের হন কাজের খোঁজে। বাড্ডায় রাস্তার মোড়ে ঝুরি কোদাল নিয়ে কতগুলো অচেনা মুখ চাতক পাখির মত চেয়ে থাকে। কেউ একজন যদি ঢেকে নেয় কাজের জন্য তবেই জুটবে দুবেলা খাবার। নয়তো আধাপেট খেয়ে নাহয় নাখেয়ে দিনটা পার করতে হবে করিমউদ্দিনের।

ঘরে অসুস্থ স্ত্রী, স্বামী হারা কন্যা, বিবাহযোগ্য আরেক কন্যা, একমাত্র নাতি সবাই বসে থাকে করিমউদ্দিনের আশায়। কখন ফিরবে চাল ঢাল নিয়ে। মাছ মাংস তো দূরের কথা কোনদিন ডিম আর আলুই যেন তাদের উৎসবের খাবার হয়ে ওঠে।

সেই করিমউদ্দিনরা কেমন আছে এই মাঘের শীতে? আমাদের তো আরাম আয়েশের শেষ নেই। শীতের পিঠার উৎসব করি। বার-বি-কিউ পার্টি করি বাসার ছাদে কিংবা কোন নামিদামি রিসোর্টে। ঠান্ডা পানি সহ্য হয় না তাই গিজারে ঠাসা আমাদের বাথরুম গুলো। আলিসান ফ্লাটে হিটারে ঢাকা পড়ে শীত।

তাই আমাদের পক্ষে কি করিমউদ্দিনদের জীবনের কষ্ট বোঝা সম্ভব? মোটেই না। এই ঘন কুয়াশায়, হাড় কাপানো শীতে করিমউদ্দিনরা কেন রাস্তার মোড়ে এসে চাতক পাখির মত চেয়ে থাকে? একটু কাজের আশায়।

এই বৃদ্ধ বয়সেও শীতকে উপেক্ষা করে যেকোন কাজ করতে রাজি। কারন, একটাই। পেটের টান। ”কাজ না করলে খামু কি? কে দেখবো আমাগো? শীত, বৃষ্টি, ঝড় তুফান যাই থাউক, আমাগো কামের ছুটি নাই। ছুটি হইলে না খাইয়া থাকন লাগবো” বলছিলেন ষাটোর্ধো করিমউদ্দিন।

এ যেন মানিক বন্দোপাধ্যায়ের ’পদ্মানদীর মাঝি’ উপন্যাসের ওই প্রবাদটা, ‘ঈশ্বর থাকেন ওই ভদ্র পল্লীতে, এখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ঈশ্বর থাকেন ওই ভদ্র পল্লীতে

আপডেট সময় : ১০:১৪:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১

অনলাইন ডেস্ক; দেশে জেঁকে বসেছে শীত। শীতে পুরো দেশ যেন যুবুথুবু অবস্থা। শৈত্য প্রবাহের নাকানি চুবানি খেয়ে মানুষের নাভিস্বাস অবস্থা। জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে এরকম শীতের মহরা বসবে তা বোধগম্য ছিলো না সাধারণ মানুষের। রাজধানীবাসী তো পুরো জানুয়ারি মাস লেপ কম্বল না গাঁয়ে দিয়েই ঘুমিয়েছে। কিন্তু, মাঘের শীত বাঘের গাঁয়েও লাগে একথা ভুললে তো চলবে না।

ঘন কুয়াশায় চারদিকে কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না। রাস্তা ঘাটে সুনশান নিরবতা। মানুষের আনাগোনা কম। দোকানগুলো বন্ধ। শীতে লেপ মুরি দিয়ে ঘুমাচ্ছে নগরবাসী। নগর জীবনে যেন একটা ঝিমুনি ভাব এসেছে।

শীতের পিঠা পুলি খেয়ে আবার শীত উদযাপন করছে সুখি মানুষেরা। খেজুর রসের নানা পদের পিঠা আর গুড়ের বাহারি সব খাবারে মানুষ শীতের আনন্দ খুঁজে নিয়েছে। কিন্তু, কেউ কি মনে রেখেছে খেটে খাওয়া করিমউদ্দিনদের কথা?

প্রতিদিনের মতো করিমউদ্দিন ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ পড়েই বের হন কাজের খোঁজে। বাড্ডায় রাস্তার মোড়ে ঝুরি কোদাল নিয়ে কতগুলো অচেনা মুখ চাতক পাখির মত চেয়ে থাকে। কেউ একজন যদি ঢেকে নেয় কাজের জন্য তবেই জুটবে দুবেলা খাবার। নয়তো আধাপেট খেয়ে নাহয় নাখেয়ে দিনটা পার করতে হবে করিমউদ্দিনের।

ঘরে অসুস্থ স্ত্রী, স্বামী হারা কন্যা, বিবাহযোগ্য আরেক কন্যা, একমাত্র নাতি সবাই বসে থাকে করিমউদ্দিনের আশায়। কখন ফিরবে চাল ঢাল নিয়ে। মাছ মাংস তো দূরের কথা কোনদিন ডিম আর আলুই যেন তাদের উৎসবের খাবার হয়ে ওঠে।

সেই করিমউদ্দিনরা কেমন আছে এই মাঘের শীতে? আমাদের তো আরাম আয়েশের শেষ নেই। শীতের পিঠার উৎসব করি। বার-বি-কিউ পার্টি করি বাসার ছাদে কিংবা কোন নামিদামি রিসোর্টে। ঠান্ডা পানি সহ্য হয় না তাই গিজারে ঠাসা আমাদের বাথরুম গুলো। আলিসান ফ্লাটে হিটারে ঢাকা পড়ে শীত।

তাই আমাদের পক্ষে কি করিমউদ্দিনদের জীবনের কষ্ট বোঝা সম্ভব? মোটেই না। এই ঘন কুয়াশায়, হাড় কাপানো শীতে করিমউদ্দিনরা কেন রাস্তার মোড়ে এসে চাতক পাখির মত চেয়ে থাকে? একটু কাজের আশায়।

এই বৃদ্ধ বয়সেও শীতকে উপেক্ষা করে যেকোন কাজ করতে রাজি। কারন, একটাই। পেটের টান। ”কাজ না করলে খামু কি? কে দেখবো আমাগো? শীত, বৃষ্টি, ঝড় তুফান যাই থাউক, আমাগো কামের ছুটি নাই। ছুটি হইলে না খাইয়া থাকন লাগবো” বলছিলেন ষাটোর্ধো করিমউদ্দিন।

এ যেন মানিক বন্দোপাধ্যায়ের ’পদ্মানদীর মাঝি’ উপন্যাসের ওই প্রবাদটা, ‘ঈশ্বর থাকেন ওই ভদ্র পল্লীতে, এখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না।’