ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

কৌশলী ও যুবলীগের দু’জন শীর্ষ নেতাকে সহ ১৫শ’ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪২:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২৪৯ বার পড়া হয়েছে

সকালের সংবাদঃ 

যুবলীগ নেতা পরিচয়ে ‘ঠিকাদার মোগল’ এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের ‘মধুভাণ্ডারের’ সুবিধাভোগী ছিলেন অনেকেই। সরকারি বড় বড় প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিতে শামীম ও সাঙ্গপাঙ্গোরা সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিতেন। এর মধ্যে দু’জন সাবেক প্রকৌশলীকেই তিনি ঘুষ দিয়েছেন দেড় হাজার কোটি টাকা। কাজ পেতে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের সদ্য সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে সম্প্রতি ঘুষ হিসেবে দিয়েছেন এক হাজার ১০০ কোটি টাকা। গণপূর্তের ঢাকা জোনের আরেক সদ্য সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাইকেও ঘুষ দিয়েছেন ৪০০ কোটি টাকা। তিনি জানান, প্রতি টেন্ডারে ৮ থেকে ১০ শতাংশ কমিশন দেওয়া লাগত তার। অনেক সময় নির্দিষ্ট কমিশনের পরও ঘুষ দিতে হতো। লাগামহীন ঘুষ-বাণিজ্যের কারণে কিছু প্রকল্পে তাকে লোকসানের মুখেও পড়তে হয়েছে।

শুক্রবার র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে শামীম এই ঘুষ-বাণিজ্যের কথা স্বীকার করেছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। গতকাল শনিবার অস্ত্র, মাদক ও মুদ্রা পাচারের দায়ে তিনটি মামলা করা হয় তার বিরুদ্ধে। মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শনিবার তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

সূত্রমতে, জিজ্ঞাসাবাদে শামীম দাবি করেছেন যে দুই প্রকৌশলী ছাড়াও যুবলীগের অন্তত দু’জন শীর্ষ নেতাকে মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিতেন তিনি। অবশ্য কাজ পেতে ওই নেতাদের নাম ভাঙাতে হতো তার। তাদের নাম ভাঙিয়ে সরকারি প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিতেন তিনি। এ ছাড়া আরও কয়েকজন বড় সরকারি কর্মকর্তাও শামীমের কমিশনভোগী ছিলেন। তাদের ব্যাপারেও তথ্য নিচ্ছেন গোয়েন্দারা।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, শামীম নিজেই কমিশনের অর্থ বণ্টন করতেন। অধিকাংশ সময় কমিশন হিসেবে নগদ টাকা দিতেন। মাঝেমধ্যে শামীমের দু’জন বিশ্বস্ত সহযোগীর মাধ্যমেও কমিশনের টাকা পৌঁছে দেওয়া হতো। শামীম প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তা ও কিছু নেতাকে ম্যানেজ করেই ‘ঠিকাদার মোগলে’ পরিণত হন।

একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম অবসরে যান। তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন সেখানে একচ্ছত্রভাবে ঠিকাদারি কাজ পেয়েছেন শামীম। তবে রফিকুল অবসরে যাওয়ার পরও গণপূর্তে শামীমের প্রভাব কমেনি। কমিশন দিয়ে তার প্রভাববলয় বজায় রাখেন তিনি। গণপূর্তে এমন কথা প্রচলিত আছে, ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিতে নানা দপ্তরে ‘তদবির’ করে রফিকুলকে প্রধান প্রকৌশলী বানিয়েছিলেন শামীম।

এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গণপূর্তের এই সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জিজ্ঞাসাবাদে শামীম স্বীকার করেন, ঢাকার বাসাবো ও নিকেতনে তার অন্তত পাঁচটি বাড়ি রয়েছে। রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট আছে। গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় তার বাড়ি রয়েছে। তবে বিদেশে সম্পদ থাকার কথা অস্বীকার করেন তিনি। তবে শামীমের বিদেশে কোনো সম্পদ আছে কি-না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। শামীম দাবি করেছেন, ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে অনেক শত্রু হয়েছে তার। তাই সব সময় একাধিক অস্ত্রধারী দেহরক্ষী নিয়ে চলতেন। বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্পে তার তিন হাজার কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অধীনে আবাসিক ভবন নির্মাণে অনিয়মের ঘটনায় শামীমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্ত হয়।

শামীম আরও জানান, ক্ষমতাসীন দলের এক শীর্ষ নেতাকে ‘সন্তুষ্ট’ রাখতে নিয়মিতই মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হতো। এর বাইরেও তার অর্থভোগীর তালিকা অনেক দীর্ঘ। শামীমের বক্তব্য এমন, ঠিকাদারি ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তার আয় করা অর্থের বড় অংশই দিতে হতো নানা রথী-মহারথীকে। ঠিকাদারি কাজ ভাগাতে অনেক সময় পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে ব্যবহার করতেন শামীম। এছাড়া সমাজের অনেক প্রভাবশালীর সঙ্গে শামীমের ছবি রয়েছে। নিজের ক্ষমতা দেখাতে এসব ছবিও ব্যবহার করতেন তিনি।

সূত্র জানায়, শুক্রবারের অভিযানের একপর্যায়ে র‌্যাব কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা চালান শামীম। তিনি অভিযান-সংশ্নিষ্টদের বিপুল অর্থ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রেফতার এড়ানোর চেষ্টা করেন। এ প্রসঙ্গে একজন কর্মকর্তা জানান, শামীম বরাবর টাকা দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে এসেছেন। ফলে তিনি একই কায়দায় র‌্যাবকেও ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। শামীম জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানান, গণপূর্তের সাবেক প্রকৌশলী মোটা অঙ্কের কমিশন নিলেও ঠিকাদারদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করতেন।

শামীম ও সফিকুল রিমান্ডে : এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এর আগে গতকাল শনিবার বিকেলে তাকে গুলশান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে র‌্যাব। এ সময় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মুদ্রা পাচার আইনে তিনটি মামলা করা হয়।

গুলশান থানার ওসি এম কামরুজ্জামান বলেন, শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে র‌্যাবের পক্ষ থেকে করা তিন মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

আদালত সূত্র জানায়, শুনানি শেষে জি কে শামীমকে মাদক ও মুদ্রা পাচার আইনের মামলায় পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তার সাত দেহরক্ষীকে অস্ত্র আইনের মামলায় চার দিনের রিমান্ডে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি ও কৃষক লীগ নেতা সফিকুল আলম ফিরোজকে অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদা আক্তার গতকাল তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে অস্ত্র আইনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমণ্ডি থানার এসআই নুর উদ্দিন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একই থানার এসআই আশিকুর রহমান ১০ দিন করে মোট ২০ দিন রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ চৌধুরী রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন চান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।

শুক্রবার বিকেলে ফিরোজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাবের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে কলাবাগান ক্রীড়া চক্রে অভিযান চালায় র‌্যাব। শুক্রবার রাতেই তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে ধানমণ্ডি থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য আইনে দুটি মামলা করেন র‌্যাব-২-এর পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ খান।

ধানমণ্ডি থানার ওসি আবদুল লতিফ জানান, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

শুক্রবারের অভিযান শেষে র‌্যাব জানায়, সেখানে ৫৭২ পিস আমেরিকার তৈরি প্লেয়িং কার্ড, একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, গন্ধহীন হলুদ রঙের নতুন ধরনের ইয়াবা পাওয়া গেছে। ক্লাবের ভেতর ক্যাসিনোর সরঞ্জাম দেখে ধারণা করা হয়, আগে ক্যাসিনো চালু ছিল।

সফিকুল আলম ফিরোজ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বায়রার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। অভিযানে তাকে ছাড়াও আটক চারজনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা ক্লাবের কর্মচারী ছিলেন।

শুক্রবার রাজধানীর নিকেতন এলাকার অফিস থেকে জি.কে.বি. কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক জি কে শামীমকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১। এ সময় বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হিসেবে রাখা ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার কাগজপত্র, নগদ এক কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ৯ হাজার মার্কিন ডলার ও ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার পাওয়া যায়। এ ছাড়াও জব্দ করা হয় আটটি বৈধ অস্ত্র ও ২৩টি ব্যাংকের ৮৩ চেক। নামে-বেনামে যেসব ব্যাংকে শামীমের অর্থ রয়েছে সে ব্যাপারে তথ্য নিচ্ছেন গোয়েন্দারা। এরই মধ্যে ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে তার এফডিআর পাওয়া গেছে।

র‌্যাব সূত্র জানায়, সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা জি কে শামীম ক্ষমতাসীন দলের ভুয়া পরিচয় দিয়ে চলাফেরা করতেন। একসময় পরিচিত ছিলেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ‘ডান হাত’ হিসেবে। ঢাকা মহানগর যুবদলের সহ-সম্পাদকও ছিলেন তিনি। তবে ক্ষমতার পালাবদলে শামীমও তার পরিচয় বদলে ফেলেন। রাতারাতি ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগে ভিড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

সবসময় তার পাহারায় থাকত নিজস্ব দেহরক্ষী। তাদের প্রত্যেকের হাতে থাকত শটগান। সেগুলো বৈধ হলেও অন্যদের হুমকি দিতে বা ভয় দেখাতে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হতো। প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত শামীমের প্রতিষ্ঠান সরকারের অন্তত ২২টি বড় প্রকল্পের কাজ করছে। ঠিকাদারি কাজের দুনিয়ায় তিনি ছিলেন অঘোষিত ‘টেন্ডার কিং’। অল্প সময়ে তার বিপুল অর্থের মালিক বনে যাওয়ার বিষয়টি বিস্ময়কর। অভিযানে তার মা আয়শা হকের নামে থাকা ১৪০ কোটি টাকার এফডিআর পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো অবৈধ পথে উপার্জন করা শামীমেরই অর্থ। কারণ তার মা সাধারণ গৃহিণী। তার অন্য কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই।

সংশ্নিষ্টরা জানান, উত্তরার আশকোনায় প্রায় ৪৫০ কোটি টাকায় র‌্যাব সদর দপ্তর, ১৩ কোটি টাকায় পোড়াবাড়ীতে র‌্যাব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ৫০০ কোটি টাকায় আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবন, ১৫০ কোটি টাকায় আগারগাঁওয়ে পঙ্গু হাসপাতালের নতুন ভবন, ৫০ কোটি টাকায় এনজিও ভবন, ১৫০ কোটি টাকায় নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল, ১২ কোটি টাকায় পাবলিক সার্ভিস কমিশন, ৩০ কোটি টাকায় বিজ্ঞান জাদুঘর, ১৫০ কোটি টাকায় সচিবালয়ের সম্প্রসারিত ভবন, ১০ কোটি টাকায় বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির, ১৫০ কোটি টাকায় হিলট্র্যাক্টস ভবন ও ১৫০ কোটি টাকায় মহাখালী শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে শামীমের প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়াও ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, ল্যাবরেটরি মেডিসিন ভবন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও কেবিনেট ভবন নির্মাণসহ বেশ কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের কাজ পেতে মোটা অঙ্কের কমিশন দিয়েছেন শামীম। রূপপুরের কাজে ১০ শতাংশ কমিশন দিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

কৌশলী ও যুবলীগের দু’জন শীর্ষ নেতাকে সহ ১৫শ’ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন

আপডেট সময় : ০৮:৪২:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সকালের সংবাদঃ 

যুবলীগ নেতা পরিচয়ে ‘ঠিকাদার মোগল’ এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের ‘মধুভাণ্ডারের’ সুবিধাভোগী ছিলেন অনেকেই। সরকারি বড় বড় প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিতে শামীম ও সাঙ্গপাঙ্গোরা সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিতেন। এর মধ্যে দু’জন সাবেক প্রকৌশলীকেই তিনি ঘুষ দিয়েছেন দেড় হাজার কোটি টাকা। কাজ পেতে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের সদ্য সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে সম্প্রতি ঘুষ হিসেবে দিয়েছেন এক হাজার ১০০ কোটি টাকা। গণপূর্তের ঢাকা জোনের আরেক সদ্য সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাইকেও ঘুষ দিয়েছেন ৪০০ কোটি টাকা। তিনি জানান, প্রতি টেন্ডারে ৮ থেকে ১০ শতাংশ কমিশন দেওয়া লাগত তার। অনেক সময় নির্দিষ্ট কমিশনের পরও ঘুষ দিতে হতো। লাগামহীন ঘুষ-বাণিজ্যের কারণে কিছু প্রকল্পে তাকে লোকসানের মুখেও পড়তে হয়েছে।

শুক্রবার র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে শামীম এই ঘুষ-বাণিজ্যের কথা স্বীকার করেছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। গতকাল শনিবার অস্ত্র, মাদক ও মুদ্রা পাচারের দায়ে তিনটি মামলা করা হয় তার বিরুদ্ধে। মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শনিবার তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

সূত্রমতে, জিজ্ঞাসাবাদে শামীম দাবি করেছেন যে দুই প্রকৌশলী ছাড়াও যুবলীগের অন্তত দু’জন শীর্ষ নেতাকে মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিতেন তিনি। অবশ্য কাজ পেতে ওই নেতাদের নাম ভাঙাতে হতো তার। তাদের নাম ভাঙিয়ে সরকারি প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিতেন তিনি। এ ছাড়া আরও কয়েকজন বড় সরকারি কর্মকর্তাও শামীমের কমিশনভোগী ছিলেন। তাদের ব্যাপারেও তথ্য নিচ্ছেন গোয়েন্দারা।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, শামীম নিজেই কমিশনের অর্থ বণ্টন করতেন। অধিকাংশ সময় কমিশন হিসেবে নগদ টাকা দিতেন। মাঝেমধ্যে শামীমের দু’জন বিশ্বস্ত সহযোগীর মাধ্যমেও কমিশনের টাকা পৌঁছে দেওয়া হতো। শামীম প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তা ও কিছু নেতাকে ম্যানেজ করেই ‘ঠিকাদার মোগলে’ পরিণত হন।

একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম অবসরে যান। তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন সেখানে একচ্ছত্রভাবে ঠিকাদারি কাজ পেয়েছেন শামীম। তবে রফিকুল অবসরে যাওয়ার পরও গণপূর্তে শামীমের প্রভাব কমেনি। কমিশন দিয়ে তার প্রভাববলয় বজায় রাখেন তিনি। গণপূর্তে এমন কথা প্রচলিত আছে, ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিতে নানা দপ্তরে ‘তদবির’ করে রফিকুলকে প্রধান প্রকৌশলী বানিয়েছিলেন শামীম।

এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গণপূর্তের এই সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জিজ্ঞাসাবাদে শামীম স্বীকার করেন, ঢাকার বাসাবো ও নিকেতনে তার অন্তত পাঁচটি বাড়ি রয়েছে। রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট আছে। গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় তার বাড়ি রয়েছে। তবে বিদেশে সম্পদ থাকার কথা অস্বীকার করেন তিনি। তবে শামীমের বিদেশে কোনো সম্পদ আছে কি-না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। শামীম দাবি করেছেন, ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে অনেক শত্রু হয়েছে তার। তাই সব সময় একাধিক অস্ত্রধারী দেহরক্ষী নিয়ে চলতেন। বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্পে তার তিন হাজার কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অধীনে আবাসিক ভবন নির্মাণে অনিয়মের ঘটনায় শামীমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্ত হয়।

শামীম আরও জানান, ক্ষমতাসীন দলের এক শীর্ষ নেতাকে ‘সন্তুষ্ট’ রাখতে নিয়মিতই মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হতো। এর বাইরেও তার অর্থভোগীর তালিকা অনেক দীর্ঘ। শামীমের বক্তব্য এমন, ঠিকাদারি ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তার আয় করা অর্থের বড় অংশই দিতে হতো নানা রথী-মহারথীকে। ঠিকাদারি কাজ ভাগাতে অনেক সময় পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে ব্যবহার করতেন শামীম। এছাড়া সমাজের অনেক প্রভাবশালীর সঙ্গে শামীমের ছবি রয়েছে। নিজের ক্ষমতা দেখাতে এসব ছবিও ব্যবহার করতেন তিনি।

সূত্র জানায়, শুক্রবারের অভিযানের একপর্যায়ে র‌্যাব কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা চালান শামীম। তিনি অভিযান-সংশ্নিষ্টদের বিপুল অর্থ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রেফতার এড়ানোর চেষ্টা করেন। এ প্রসঙ্গে একজন কর্মকর্তা জানান, শামীম বরাবর টাকা দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে এসেছেন। ফলে তিনি একই কায়দায় র‌্যাবকেও ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। শামীম জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানান, গণপূর্তের সাবেক প্রকৌশলী মোটা অঙ্কের কমিশন নিলেও ঠিকাদারদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করতেন।

শামীম ও সফিকুল রিমান্ডে : এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এর আগে গতকাল শনিবার বিকেলে তাকে গুলশান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে র‌্যাব। এ সময় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মুদ্রা পাচার আইনে তিনটি মামলা করা হয়।

গুলশান থানার ওসি এম কামরুজ্জামান বলেন, শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে র‌্যাবের পক্ষ থেকে করা তিন মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

আদালত সূত্র জানায়, শুনানি শেষে জি কে শামীমকে মাদক ও মুদ্রা পাচার আইনের মামলায় পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তার সাত দেহরক্ষীকে অস্ত্র আইনের মামলায় চার দিনের রিমান্ডে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি ও কৃষক লীগ নেতা সফিকুল আলম ফিরোজকে অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদা আক্তার গতকাল তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে অস্ত্র আইনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমণ্ডি থানার এসআই নুর উদ্দিন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একই থানার এসআই আশিকুর রহমান ১০ দিন করে মোট ২০ দিন রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ চৌধুরী রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন চান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।

শুক্রবার বিকেলে ফিরোজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাবের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে কলাবাগান ক্রীড়া চক্রে অভিযান চালায় র‌্যাব। শুক্রবার রাতেই তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে ধানমণ্ডি থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য আইনে দুটি মামলা করেন র‌্যাব-২-এর পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ খান।

ধানমণ্ডি থানার ওসি আবদুল লতিফ জানান, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

শুক্রবারের অভিযান শেষে র‌্যাব জানায়, সেখানে ৫৭২ পিস আমেরিকার তৈরি প্লেয়িং কার্ড, একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, গন্ধহীন হলুদ রঙের নতুন ধরনের ইয়াবা পাওয়া গেছে। ক্লাবের ভেতর ক্যাসিনোর সরঞ্জাম দেখে ধারণা করা হয়, আগে ক্যাসিনো চালু ছিল।

সফিকুল আলম ফিরোজ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বায়রার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। অভিযানে তাকে ছাড়াও আটক চারজনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা ক্লাবের কর্মচারী ছিলেন।

শুক্রবার রাজধানীর নিকেতন এলাকার অফিস থেকে জি.কে.বি. কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক জি কে শামীমকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১। এ সময় বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হিসেবে রাখা ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার কাগজপত্র, নগদ এক কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ৯ হাজার মার্কিন ডলার ও ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার পাওয়া যায়। এ ছাড়াও জব্দ করা হয় আটটি বৈধ অস্ত্র ও ২৩টি ব্যাংকের ৮৩ চেক। নামে-বেনামে যেসব ব্যাংকে শামীমের অর্থ রয়েছে সে ব্যাপারে তথ্য নিচ্ছেন গোয়েন্দারা। এরই মধ্যে ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে তার এফডিআর পাওয়া গেছে।

র‌্যাব সূত্র জানায়, সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা জি কে শামীম ক্ষমতাসীন দলের ভুয়া পরিচয় দিয়ে চলাফেরা করতেন। একসময় পরিচিত ছিলেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ‘ডান হাত’ হিসেবে। ঢাকা মহানগর যুবদলের সহ-সম্পাদকও ছিলেন তিনি। তবে ক্ষমতার পালাবদলে শামীমও তার পরিচয় বদলে ফেলেন। রাতারাতি ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগে ভিড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

সবসময় তার পাহারায় থাকত নিজস্ব দেহরক্ষী। তাদের প্রত্যেকের হাতে থাকত শটগান। সেগুলো বৈধ হলেও অন্যদের হুমকি দিতে বা ভয় দেখাতে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হতো। প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত শামীমের প্রতিষ্ঠান সরকারের অন্তত ২২টি বড় প্রকল্পের কাজ করছে। ঠিকাদারি কাজের দুনিয়ায় তিনি ছিলেন অঘোষিত ‘টেন্ডার কিং’। অল্প সময়ে তার বিপুল অর্থের মালিক বনে যাওয়ার বিষয়টি বিস্ময়কর। অভিযানে তার মা আয়শা হকের নামে থাকা ১৪০ কোটি টাকার এফডিআর পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো অবৈধ পথে উপার্জন করা শামীমেরই অর্থ। কারণ তার মা সাধারণ গৃহিণী। তার অন্য কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই।

সংশ্নিষ্টরা জানান, উত্তরার আশকোনায় প্রায় ৪৫০ কোটি টাকায় র‌্যাব সদর দপ্তর, ১৩ কোটি টাকায় পোড়াবাড়ীতে র‌্যাব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ৫০০ কোটি টাকায় আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবন, ১৫০ কোটি টাকায় আগারগাঁওয়ে পঙ্গু হাসপাতালের নতুন ভবন, ৫০ কোটি টাকায় এনজিও ভবন, ১৫০ কোটি টাকায় নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল, ১২ কোটি টাকায় পাবলিক সার্ভিস কমিশন, ৩০ কোটি টাকায় বিজ্ঞান জাদুঘর, ১৫০ কোটি টাকায় সচিবালয়ের সম্প্রসারিত ভবন, ১০ কোটি টাকায় বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির, ১৫০ কোটি টাকায় হিলট্র্যাক্টস ভবন ও ১৫০ কোটি টাকায় মহাখালী শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে শামীমের প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়াও ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, ল্যাবরেটরি মেডিসিন ভবন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও কেবিনেট ভবন নির্মাণসহ বেশ কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের কাজ পেতে মোটা অঙ্কের কমিশন দিয়েছেন শামীম। রূপপুরের কাজে ১০ শতাংশ কমিশন দিয়েছেন।