ঢাকা ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

দরিদ্র-মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে বশেমুরবিপ্রবি প্রশাসন 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০১৯ ২৮৯ বার পড়া হয়েছে

বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি: মেধাবী – দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ,আর্থিক সহায়তা ও অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা অনুদান প্রদান করছে বশেমুরবিপ্রবি’র প্রশাসন। গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) প্রশাসন ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ছাত্র কল্যাণ তহবিল থেকে প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থীকে অর্ধকোটি টাকা চিকিৎসা অনুদান প্রদান করেছে। জানা যায়, ২০১৭ এর ১৯ ফেব্রুয়ারি বশেমুরবিপ্রবি’র সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের সন্তান সুবর্ণা মজুমদার এক দুর্ঘটনায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তাদের পক্ষে সুবর্ণার চিকিৎসা করা সম্ভব নয়; আবার ঢাকা নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করার মত আর্থিক অবস্থাও ছিল না সুবর্ণার পরিবারের। ঠিক এমন সময়ই ত্রাণকর্তারূপে মেধাবী শিক্ষার্থী সুবর্ণা মজুমদারের পাশে দাড়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন। তৎক্ষনিকভাবে সুবর্ণাকে এয়ার এম্বুলেন্সে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং ঘোষণা দেন সুবর্ণার চিকিৎসার সকল খরচ বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপাচার্যের এমন সহায়তায় সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন সুবর্ণা।

সুবর্ণার চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা চিকিৎসা অনুদান প্রদান করেছে। সুবর্ণার দুর্ঘটনার পরে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য তাৎক্ষণিকভাবে পাশে দাড়ালেও শিক্ষার্থী সহায়তার কোনো বিশেষ তহবিল না থাকায় এই বড় অঙ্কের টাকা সংগ্রহে বেশ সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। এই সমস্যার সমাধান করতে গিয়েই মূলত যাত্রা শুরু করে ‘বশেমুরবিপ্রবি দুর্যোগ ও ছাত্র কল্যাণ তহবিল।’ বর্তমানে এই তহবিল থেকে উপকৃত হচ্ছে অসংখ্য শিক্ষার্থী। তহবিল থেকে সর্বাধিক সহযোগিতাপ্রাপ্ত সুবর্ণা মজুমদার বলেন ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সহযোগিতার জন্য আজ আমি বেঁচে আছি, উপাচার্য স্যার আমাকে নতুন জীবন দান করেছেন আমি তার নিকট চিরকৃতজ্ঞ।

চিকিৎসা তহবিল থেকে সহযোগিতা প্রাপ্ত আারেক শিক্ষার্থী লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রথম বর্ষের নুরুল আমিন খান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর স্যার একজন বাবার মতো করেই প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীর পাশে থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে আসছেন। এমন আর্থিক অনুদানের উদ্যোগ স্যারের উদার মানসিকতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তার যে দায়িত্ববোধ অনেক বেশি সেটাই প্রমান করে।’ শিক্ষার্থী সহায়তা তহবিল সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের উদ্যোগেই এই তহবিল যাত্রা শুরু করে। সুবর্ণার দুর্ঘটনার পর স্যার অনুভব করেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করা প্রয়োজন আর তখন থেকেই এই তহবিল গঠনের কাজ শুরু হয়।’ এই তহবিলের অর্থের উৎস সম্পর্কে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের দেয়া ভর্তি ফি’র একটি অংশ এই তহবিলের জন্য নেয়া হয় এবং এটিই তহবিলের অর্থ সংগ্রহের একমাত্র উৎস। উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য গঠিত এই তহবিল থেকে চিকিৎসা সহায়তা ছাড়াও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি প্রদানসহ লাইব্রেরিতে পার্টটাইম কাজ করার সুযোগ প্রদান করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

দরিদ্র-মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে বশেমুরবিপ্রবি প্রশাসন 

আপডেট সময় : ০৪:২৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০১৯

বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি: মেধাবী – দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ,আর্থিক সহায়তা ও অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা অনুদান প্রদান করছে বশেমুরবিপ্রবি’র প্রশাসন। গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) প্রশাসন ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ছাত্র কল্যাণ তহবিল থেকে প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থীকে অর্ধকোটি টাকা চিকিৎসা অনুদান প্রদান করেছে। জানা যায়, ২০১৭ এর ১৯ ফেব্রুয়ারি বশেমুরবিপ্রবি’র সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের সন্তান সুবর্ণা মজুমদার এক দুর্ঘটনায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তাদের পক্ষে সুবর্ণার চিকিৎসা করা সম্ভব নয়; আবার ঢাকা নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করার মত আর্থিক অবস্থাও ছিল না সুবর্ণার পরিবারের। ঠিক এমন সময়ই ত্রাণকর্তারূপে মেধাবী শিক্ষার্থী সুবর্ণা মজুমদারের পাশে দাড়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন। তৎক্ষনিকভাবে সুবর্ণাকে এয়ার এম্বুলেন্সে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং ঘোষণা দেন সুবর্ণার চিকিৎসার সকল খরচ বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপাচার্যের এমন সহায়তায় সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন সুবর্ণা।

সুবর্ণার চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা চিকিৎসা অনুদান প্রদান করেছে। সুবর্ণার দুর্ঘটনার পরে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য তাৎক্ষণিকভাবে পাশে দাড়ালেও শিক্ষার্থী সহায়তার কোনো বিশেষ তহবিল না থাকায় এই বড় অঙ্কের টাকা সংগ্রহে বেশ সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। এই সমস্যার সমাধান করতে গিয়েই মূলত যাত্রা শুরু করে ‘বশেমুরবিপ্রবি দুর্যোগ ও ছাত্র কল্যাণ তহবিল।’ বর্তমানে এই তহবিল থেকে উপকৃত হচ্ছে অসংখ্য শিক্ষার্থী। তহবিল থেকে সর্বাধিক সহযোগিতাপ্রাপ্ত সুবর্ণা মজুমদার বলেন ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সহযোগিতার জন্য আজ আমি বেঁচে আছি, উপাচার্য স্যার আমাকে নতুন জীবন দান করেছেন আমি তার নিকট চিরকৃতজ্ঞ।

চিকিৎসা তহবিল থেকে সহযোগিতা প্রাপ্ত আারেক শিক্ষার্থী লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রথম বর্ষের নুরুল আমিন খান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর স্যার একজন বাবার মতো করেই প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীর পাশে থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে আসছেন। এমন আর্থিক অনুদানের উদ্যোগ স্যারের উদার মানসিকতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তার যে দায়িত্ববোধ অনেক বেশি সেটাই প্রমান করে।’ শিক্ষার্থী সহায়তা তহবিল সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের উদ্যোগেই এই তহবিল যাত্রা শুরু করে। সুবর্ণার দুর্ঘটনার পর স্যার অনুভব করেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করা প্রয়োজন আর তখন থেকেই এই তহবিল গঠনের কাজ শুরু হয়।’ এই তহবিলের অর্থের উৎস সম্পর্কে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের দেয়া ভর্তি ফি’র একটি অংশ এই তহবিলের জন্য নেয়া হয় এবং এটিই তহবিলের অর্থ সংগ্রহের একমাত্র উৎস। উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য গঠিত এই তহবিল থেকে চিকিৎসা সহায়তা ছাড়াও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি প্রদানসহ লাইব্রেরিতে পার্টটাইম কাজ করার সুযোগ প্রদান করা হয়।