ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাসের সমস্যা ভেবে হার্ট অ্যাটাকের ৪টি নীরব সংকেত অবহেলা করলেই বিপদ Logo এবার জুলাই হত্যা মামলায় কারাগারে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি Logo বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরের মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন রাষ্ট্রপতি Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন : মীর শাহে আলম Logo নিজের নামে টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে যা বললেন মেসি! Logo আফগানিস্তানের ১০ স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা পাকিস্তানের Logo রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী Logo ট্রাম্পের সঙ্গে খলিলুর রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময় Logo মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে সস্ত্রীক প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

আফগানিস্তানের ১০ স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা পাকিস্তানের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তান থেকে এক দিন আগে চালানো ড্রোন হামলার জবাবে দেশটির ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার ভোরে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত কাল ২৩ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার পাক-আফগান সীমান্তবর্তী এলাকা তোরখাম এবং কোহাট জেলার সেনা ও নিরাপত্তা চৌকিগুলো লক্ষ্য করে ৮টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করে আফগান সেনাবাহিনী; তবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে সেগুলো আটকে দিয়ে ধ্বংস করে দেয় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী।

ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব দিতেই এ বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় আতাউল্লাহ তারার বলেন, “আত্মরক্ষার সার্বভৌম অধিকারচর্চার অংশ হিসেবে আফগানিস্তানের ১০টি এলাকায় বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী।”

এক্সপোস্টে তারার আরও বলেন, “এই হামলাগুলো ছিল পরিকল্পিত, সুনির্দিষ্ট, সুপরিমিত ও আনুপাতিক এবং তা কঠোরভাবে কেবল সেইসব চিহ্নিত সামরিক লক্ষ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যেগুলো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার প্রচেষ্টার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।”

সীমান্তে আফগান সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলাকে ‘পরিকল্পিত ও বেআইনি’ উল্লেখ করে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী বলেন, “এই হামলা শুধু পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগলিক অখণ্ডতার চরম লঙ্ঘনই নয় বরং আগ্রাসনের এক গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য নিদর্শন। আমরা অনেক বার সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে আফগানিস্তানকে অনুরোধ করেছি; কিন্তু সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও পাকিস্তানের ভূখণ্ডে সন্ত্রাসী হামলা পরিচালনার মাধ্যমে আফগানিস্তান পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার পথ বেছে নিয়েছে।”

তবে ১০ জায়গায় বিমান অভিযান চালানোর কথা বললেও এলাকাগুলোর নাম প্রকাশ করেননি আতাউল্লাহ তারার। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কোনো সূত্রও এলাকাগুলোর নাম জানায়নি।

পাকিস্তানের নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের। তবে তালেবান সরকার সবসময়েই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

গত কয়েক বছরে এ ইস্যুতে দুই দেশের কর্মকর্তা ও মন্ত্রী পর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে; কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা এবং কয়েকজন সেনাকে জীবিত অবস্থায় অপহরণ করে নিয়ে যায় আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী।

তালেবান সরকারকে উপযুক্ত জবাব দিতে এ ঘটনার পরপরই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করে পাকিস্তান। এ অভিযানে আওতায় টানা কয়েক দিন বিমান অভিযান পরিচালনা করে আফগানিস্তানের বেশ ক্ষয়ক্ষতিও করেছে পাক প্রতিরক্ষা বাহিনী।

তারপর গত কয়েক মাস পরস্পরকে লক্ষ্য করে হামলা করা থেকে বিরত থাকায় একপ্রকার স্থিতাবস্থা বিরাজ করছিল পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে। পরিস্থিতি ফের অশান্ত হয়ে ওঠে গত ২৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার কোহাটের পুলিশ সদর দপ্তর মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলার পর। সেই হামলায় পুলিশ সদস্যসহ ৩১ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও শতাধিক। বোমা হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সেটির দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় টিটিপি এবং তারপর থেকেই ফের উস্কে ওঠে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত।

সূত্র : ডন

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

আফগানিস্তানের ১০ স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা পাকিস্তানের

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তান থেকে এক দিন আগে চালানো ড্রোন হামলার জবাবে দেশটির ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার ভোরে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত কাল ২৩ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার পাক-আফগান সীমান্তবর্তী এলাকা তোরখাম এবং কোহাট জেলার সেনা ও নিরাপত্তা চৌকিগুলো লক্ষ্য করে ৮টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করে আফগান সেনাবাহিনী; তবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে সেগুলো আটকে দিয়ে ধ্বংস করে দেয় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী।

ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব দিতেই এ বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় আতাউল্লাহ তারার বলেন, “আত্মরক্ষার সার্বভৌম অধিকারচর্চার অংশ হিসেবে আফগানিস্তানের ১০টি এলাকায় বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী।”

এক্সপোস্টে তারার আরও বলেন, “এই হামলাগুলো ছিল পরিকল্পিত, সুনির্দিষ্ট, সুপরিমিত ও আনুপাতিক এবং তা কঠোরভাবে কেবল সেইসব চিহ্নিত সামরিক লক্ষ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যেগুলো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার প্রচেষ্টার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।”

সীমান্তে আফগান সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলাকে ‘পরিকল্পিত ও বেআইনি’ উল্লেখ করে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী বলেন, “এই হামলা শুধু পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগলিক অখণ্ডতার চরম লঙ্ঘনই নয় বরং আগ্রাসনের এক গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য নিদর্শন। আমরা অনেক বার সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে আফগানিস্তানকে অনুরোধ করেছি; কিন্তু সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও পাকিস্তানের ভূখণ্ডে সন্ত্রাসী হামলা পরিচালনার মাধ্যমে আফগানিস্তান পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার পথ বেছে নিয়েছে।”

তবে ১০ জায়গায় বিমান অভিযান চালানোর কথা বললেও এলাকাগুলোর নাম প্রকাশ করেননি আতাউল্লাহ তারার। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কোনো সূত্রও এলাকাগুলোর নাম জানায়নি।

পাকিস্তানের নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের। তবে তালেবান সরকার সবসময়েই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

গত কয়েক বছরে এ ইস্যুতে দুই দেশের কর্মকর্তা ও মন্ত্রী পর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে; কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা এবং কয়েকজন সেনাকে জীবিত অবস্থায় অপহরণ করে নিয়ে যায় আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী।

তালেবান সরকারকে উপযুক্ত জবাব দিতে এ ঘটনার পরপরই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করে পাকিস্তান। এ অভিযানে আওতায় টানা কয়েক দিন বিমান অভিযান পরিচালনা করে আফগানিস্তানের বেশ ক্ষয়ক্ষতিও করেছে পাক প্রতিরক্ষা বাহিনী।

তারপর গত কয়েক মাস পরস্পরকে লক্ষ্য করে হামলা করা থেকে বিরত থাকায় একপ্রকার স্থিতাবস্থা বিরাজ করছিল পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে। পরিস্থিতি ফের অশান্ত হয়ে ওঠে গত ২৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার কোহাটের পুলিশ সদর দপ্তর মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলার পর। সেই হামলায় পুলিশ সদস্যসহ ৩১ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও শতাধিক। বোমা হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সেটির দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় টিটিপি এবং তারপর থেকেই ফের উস্কে ওঠে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত।

সূত্র : ডন