ঢাকা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাসের সমস্যা ভেবে হার্ট অ্যাটাকের ৪টি নীরব সংকেত অবহেলা করলেই বিপদ Logo এবার জুলাই হত্যা মামলায় কারাগারে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি Logo বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরের মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন রাষ্ট্রপতি Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন : মীর শাহে আলম Logo নিজের নামে টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে যা বললেন মেসি! Logo আফগানিস্তানের ১০ স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা পাকিস্তানের Logo রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী Logo ট্রাম্পের সঙ্গে খলিলুর রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময় Logo মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে সস্ত্রীক প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

মার্কিন পণ্য বর্জনের ডাক, বিকল্প সরবরাহের খোঁজে কানাডা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৮:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন পণ্য বর্জন করে কানাডীয় পণ্য কেনার প্রবণতা বাড়ছে কানাডায়। এর প্রভাব পড়ছে দেশটির সুপারমার্কেটগুলোতেও। ক্রেতাদের চাহিদার পরিবর্তনের কারণে পণ্যের উৎস স্পষ্টভাবে জানানোর পাশাপাশি নতুন নতুন দেশ ও অঞ্চল থেকে পণ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা।

কানাডীয় নাগরিকদের মার্কিন পণ্য বর্জন ও দেশীয় পণ্যের প্রতি ঝুঁকে যাওয়া নিয়ে শনিবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অন্টারিওতে স্বতন্ত্র খুচরা পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ভিন্সেস মার্কেটের প্রেসিডেন্ট জিয়ানকার্লো ত্রিমার্কি তার স্টোরে মার্কিন সবজি রাখায় ক্রেতাদের প্রচণ্ড ক্ষোভ ও ক্রোধের মুখোমুখি হয়েছেন। অনেকেই এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাকে ই-মেইল করেছেন বলে জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি সামলাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন তিনি। যেখানে তিনি প্রমাণসহ ভোক্তাদের দেখিয়েছেন, ভিন্সেস মার্কেটের বেশিরভাগ পণ্যই কানাডায় উৎপাদিত।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার তিক্ত বাণিজ্য যুদ্ধ সাধারণ ক্রেতাদের নিজের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক সচেতন করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করার পর গত বছরের শুরুর দিকে ‌‘কানাডীয় পণ্য কিনুন’’ ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এবং লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ রেখে ট্রাম্প নির্বাহী আদেশ জারি করায় এই বর্জন আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এক সাক্ষাৎকারে ত্রিমার্কি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার মার্কিন পণ্য বর্জনের আন্দোলন অনেক বেশি তীব্র হয়ে উঠছে। টরন্টোর বিভিন্ন এলাকায় থাকা তার চারটি দোকানে এখন প্রায় ৯০ শতাংশ শাকসবজি ও ফলই কানাডায় উৎপাদিত বলে জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বদলে কুইবেক থেকে স্ট্রবেরি আনছেন তিনি। তবে এসব পরিবর্তনের কারণে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বিজ্ঞাপনের বাজেট কাটছাঁট করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন কানাডীয় এই ব্যবসায়ী।

তিনি বলেন, আগে আমাদের কেবল পণ্যের গুণগত মান ও দামের ভারসাম্য রক্ষা করতে হতো। কিন্তু এখন মানের পাশাপাশি পণ্যটি কোন দেশের, তাও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হচ্ছে।

কানাডার সবচেয়ে বড় খাদ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান লবল সাময়িক বিরতির পর গত আগস্টে তাদের পণ্য বিভাগে আবারও বড় আকারে ম্যাপল পাতার বোর্ড টানানো শুরু করেছে, যাতে গ্রাহকরা খুব সহজেই কানাডীয় পণ্য চিনে নিতে পারেন।

কোন কোন পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের প্রভাব পড়েছে তা জানাতে এবং দেশীয় পণ্য চেনা সহজ করতে লবল একটি বিশেষ নির্দেশক ট্যাগ চালু করেছে। অন্যদিকে, দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম খুচরা পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মেট্রো বলেছে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় কানাডীয় পণ্যকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া অব্যাহত রাখবে তারা।

কানাডিয়ান ফেডারেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রোসারসের জননীতি ও অ্যাডভোকেসি বিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্যারি স্যান্ডস মনে করেন, কানাডীয়দের মনস্তত্ত্বে একটি স্থায়ী পরিবর্তন এসেছে।

মূল্যের দিক থেকে কানাডা বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম তাজা সবজি আমদানিকারক দেশ। সামগ্রিক আমদানির অর্ধেকেরও বেশি আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। আর এর পরই রয়েছে মেক্সিকোর অবস্থান।

তবে সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার আগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে কানাডার সবজি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ যেখানে ছিল ৬৯ শতাংশ, সেখানে সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী তা কমে ৬২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

জুলাই নাগাদ দেশটির ফল আমদানির অর্ধেকেরও বেশি আসত যুক্তরাষ্ট্র থেকে। কিন্তু গত ২১ আগস্ট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন করে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ শুরু করে।

টরন্টোর কেন্দ্রস্থলের বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী সফটওয়্যার প্রকৌশলী জন অ্যামবার্ড বলেন, তিনি যতটা সম্ভব আমেরিকান পণ্য কেনা এড়িয়ে চলেন এবং তার বদলে কানাডীয় ব্র্যান্ড ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সমর্থন করতে পছন্দ করেন। স্বদেশী পণ্য নিশ্চিত করতে তিনি নিজেই পণ্যের লেবেল ও ইন্টারনেট থেকে এই সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করেন।

অ্যামবার্ড বলেন, আমি সত্যি বিশ্বাস করি, এই কঠিন সময়ে আমাদের স্থানীয় পণ্য ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমর্থন করা উচিত। আমার ক্ষুদ্র সামর্থ্য নিয়ে এটিই আমার সহায়তার পথ।

• নতুন সরবরাহ চেইনের খোঁজে কানাডীয় ব্যবসায়ীরা
কানাডার দীর্ঘকালীন শীতকাল তাজা শাকসবজি ফলানোর জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা। ফলে খুচরা বিক্রেতারা সাধারণত গ্রিনহাউস, সংরক্ষিত মূলজাতীয় সবজি কিংবা আমদানির ওপর নির্ভর করেন; যা সাশ্রয়ী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এই মানসিকতার পরিবর্তন দেশটিকে আরও স্বনির্ভর খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

শীতকালেও উৎপাদন সচল রাখতে আগামী ১০ বছরে গ্রিনহাউস খাতে প্রায় ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে দেশটির সরকার। একইসঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ বাড়িয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টাও চলছে।

অন্টারিও ও কুইবেকের গ্রামাঞ্চলে দোকান পরিচালনা করা ব্যবসায়ী গর্ডন ডিন বলেন, তাদের দোকানে বর্তমানে মার্কিন আমদানির বদলে স্পেন, ব্রাজিল ও হন্ডুরাসের মতো দেশগুলোর পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, নতুন বিকল্প সরবরাহ চেইনগুলো একবার পাকাপোক্ত হয়ে গেলে এসব অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় ও নিরাপদ হবে। তখন আর কেউ মার্কিন সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে ফিরে তাকাবে না।

তবে ডিন বলেন, এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে খাদ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক বিধিনিষেধ ও আইনি জটিলতা থাকায় এখনও অনেক বিক্রেতাকে সীমান্ত পেরিয়ে দক্ষিণের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে।

গুয়েলফ বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মাইক ভন মাসো বলেন, জাতীয়তাবাদ এখন অর্থনৈতিক হিসেব-নিকেশকে এমন একপর্যায়ে ম্লান করে দিচ্ছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হলেই কেবল পরিবর্তন হতে পারে।

তিনি মনে করেন, মার্কিন-কানাডা সম্পর্ক হয়তো আগের জায়গায় পুরোপুরি আর নাও ফিরতে পারে। তবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিবেশ বদলালে কিংবা উত্তেজনা প্রশমিত হলে ক্রেতারা আবার কম দামের আমেরিকান পণ্যের দিকে ফিরে যেতেও পারেন।

 

সূত্র: রয়র্টাস

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

মার্কিন পণ্য বর্জনের ডাক, বিকল্প সরবরাহের খোঁজে কানাডা

আপডেট সময় : ১০:৫৮:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন পণ্য বর্জন করে কানাডীয় পণ্য কেনার প্রবণতা বাড়ছে কানাডায়। এর প্রভাব পড়ছে দেশটির সুপারমার্কেটগুলোতেও। ক্রেতাদের চাহিদার পরিবর্তনের কারণে পণ্যের উৎস স্পষ্টভাবে জানানোর পাশাপাশি নতুন নতুন দেশ ও অঞ্চল থেকে পণ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা।

কানাডীয় নাগরিকদের মার্কিন পণ্য বর্জন ও দেশীয় পণ্যের প্রতি ঝুঁকে যাওয়া নিয়ে শনিবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অন্টারিওতে স্বতন্ত্র খুচরা পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ভিন্সেস মার্কেটের প্রেসিডেন্ট জিয়ানকার্লো ত্রিমার্কি তার স্টোরে মার্কিন সবজি রাখায় ক্রেতাদের প্রচণ্ড ক্ষোভ ও ক্রোধের মুখোমুখি হয়েছেন। অনেকেই এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাকে ই-মেইল করেছেন বলে জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি সামলাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন তিনি। যেখানে তিনি প্রমাণসহ ভোক্তাদের দেখিয়েছেন, ভিন্সেস মার্কেটের বেশিরভাগ পণ্যই কানাডায় উৎপাদিত।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার তিক্ত বাণিজ্য যুদ্ধ সাধারণ ক্রেতাদের নিজের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক সচেতন করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করার পর গত বছরের শুরুর দিকে ‌‘কানাডীয় পণ্য কিনুন’’ ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এবং লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ রেখে ট্রাম্প নির্বাহী আদেশ জারি করায় এই বর্জন আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এক সাক্ষাৎকারে ত্রিমার্কি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার মার্কিন পণ্য বর্জনের আন্দোলন অনেক বেশি তীব্র হয়ে উঠছে। টরন্টোর বিভিন্ন এলাকায় থাকা তার চারটি দোকানে এখন প্রায় ৯০ শতাংশ শাকসবজি ও ফলই কানাডায় উৎপাদিত বলে জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বদলে কুইবেক থেকে স্ট্রবেরি আনছেন তিনি। তবে এসব পরিবর্তনের কারণে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বিজ্ঞাপনের বাজেট কাটছাঁট করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন কানাডীয় এই ব্যবসায়ী।

তিনি বলেন, আগে আমাদের কেবল পণ্যের গুণগত মান ও দামের ভারসাম্য রক্ষা করতে হতো। কিন্তু এখন মানের পাশাপাশি পণ্যটি কোন দেশের, তাও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হচ্ছে।

কানাডার সবচেয়ে বড় খাদ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান লবল সাময়িক বিরতির পর গত আগস্টে তাদের পণ্য বিভাগে আবারও বড় আকারে ম্যাপল পাতার বোর্ড টানানো শুরু করেছে, যাতে গ্রাহকরা খুব সহজেই কানাডীয় পণ্য চিনে নিতে পারেন।

কোন কোন পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের প্রভাব পড়েছে তা জানাতে এবং দেশীয় পণ্য চেনা সহজ করতে লবল একটি বিশেষ নির্দেশক ট্যাগ চালু করেছে। অন্যদিকে, দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম খুচরা পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মেট্রো বলেছে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় কানাডীয় পণ্যকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া অব্যাহত রাখবে তারা।

কানাডিয়ান ফেডারেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রোসারসের জননীতি ও অ্যাডভোকেসি বিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্যারি স্যান্ডস মনে করেন, কানাডীয়দের মনস্তত্ত্বে একটি স্থায়ী পরিবর্তন এসেছে।

মূল্যের দিক থেকে কানাডা বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম তাজা সবজি আমদানিকারক দেশ। সামগ্রিক আমদানির অর্ধেকেরও বেশি আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। আর এর পরই রয়েছে মেক্সিকোর অবস্থান।

তবে সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার আগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে কানাডার সবজি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ যেখানে ছিল ৬৯ শতাংশ, সেখানে সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী তা কমে ৬২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

জুলাই নাগাদ দেশটির ফল আমদানির অর্ধেকেরও বেশি আসত যুক্তরাষ্ট্র থেকে। কিন্তু গত ২১ আগস্ট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন করে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ শুরু করে।

টরন্টোর কেন্দ্রস্থলের বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী সফটওয়্যার প্রকৌশলী জন অ্যামবার্ড বলেন, তিনি যতটা সম্ভব আমেরিকান পণ্য কেনা এড়িয়ে চলেন এবং তার বদলে কানাডীয় ব্র্যান্ড ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সমর্থন করতে পছন্দ করেন। স্বদেশী পণ্য নিশ্চিত করতে তিনি নিজেই পণ্যের লেবেল ও ইন্টারনেট থেকে এই সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করেন।

অ্যামবার্ড বলেন, আমি সত্যি বিশ্বাস করি, এই কঠিন সময়ে আমাদের স্থানীয় পণ্য ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমর্থন করা উচিত। আমার ক্ষুদ্র সামর্থ্য নিয়ে এটিই আমার সহায়তার পথ।

• নতুন সরবরাহ চেইনের খোঁজে কানাডীয় ব্যবসায়ীরা
কানাডার দীর্ঘকালীন শীতকাল তাজা শাকসবজি ফলানোর জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা। ফলে খুচরা বিক্রেতারা সাধারণত গ্রিনহাউস, সংরক্ষিত মূলজাতীয় সবজি কিংবা আমদানির ওপর নির্ভর করেন; যা সাশ্রয়ী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এই মানসিকতার পরিবর্তন দেশটিকে আরও স্বনির্ভর খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

শীতকালেও উৎপাদন সচল রাখতে আগামী ১০ বছরে গ্রিনহাউস খাতে প্রায় ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে দেশটির সরকার। একইসঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ বাড়িয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টাও চলছে।

অন্টারিও ও কুইবেকের গ্রামাঞ্চলে দোকান পরিচালনা করা ব্যবসায়ী গর্ডন ডিন বলেন, তাদের দোকানে বর্তমানে মার্কিন আমদানির বদলে স্পেন, ব্রাজিল ও হন্ডুরাসের মতো দেশগুলোর পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, নতুন বিকল্প সরবরাহ চেইনগুলো একবার পাকাপোক্ত হয়ে গেলে এসব অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় ও নিরাপদ হবে। তখন আর কেউ মার্কিন সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে ফিরে তাকাবে না।

তবে ডিন বলেন, এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে খাদ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক বিধিনিষেধ ও আইনি জটিলতা থাকায় এখনও অনেক বিক্রেতাকে সীমান্ত পেরিয়ে দক্ষিণের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে।

গুয়েলফ বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মাইক ভন মাসো বলেন, জাতীয়তাবাদ এখন অর্থনৈতিক হিসেব-নিকেশকে এমন একপর্যায়ে ম্লান করে দিচ্ছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হলেই কেবল পরিবর্তন হতে পারে।

তিনি মনে করেন, মার্কিন-কানাডা সম্পর্ক হয়তো আগের জায়গায় পুরোপুরি আর নাও ফিরতে পারে। তবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিবেশ বদলালে কিংবা উত্তেজনা প্রশমিত হলে ক্রেতারা আবার কম দামের আমেরিকান পণ্যের দিকে ফিরে যেতেও পারেন।

 

সূত্র: রয়র্টাস