ঢাকা ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ১১৯ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রায় দুই বছরেরও কম সময় ক্ষমতায় থাকার পর সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। নীতিগত অবস্থান থেকে একাধিকবার সরে আসা ও জনসমর্থনে বড় ধরনের পতনের মধ্যেই তার এ সিদ্ধান্ত এলো।

স্টারমারের পদত্যাগের ফলে এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে ব্রিটেন।

১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে আবেগঘন ভাষণে স্টারমার বলেন, ‘আমি যে সিদ্ধান্তই নিয়েছি, সবই ছিল আমার প্রিয় দেশকে সবার আগে রাখার জন্য। সে কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

তিনি জানান, মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া জুলাইয়ে শুরু হবে। উত্তরসূরি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন।

গ্রীষ্মকালীন বিরতির পর, সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট অধিবেশনে ফেরার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব নেবেন।

স্টারমারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অভিজ্ঞ রাজনীতিক অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপনির্বাচনে জয় পাওয়ার পর, সোমবার বার্নহ্যামের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে পার্লামেন্টে তার প্রত্যাবর্তন ঘটছে এবং দলীয় নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়ার পথও পরিষ্কার হচ্ছে।

স্টারমার বলেন, ‘নেতৃত্ব নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকব। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

সপ্তাহের শেষ পর্যন্তও তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে অনড় ছিলেন।

দলীয় চ্যালেঞ্জ ও পদত্যাগের দাবির মুখেও তিনি দীর্ঘদিন সেই অবস্থান ধরে রাখেন।

তবে একের পর এক কেলেঙ্কারি এবং উচ্চপর্যায়ের পদত্যাগের ঘটনায় তার ও লেবার পার্টির ওপর চাপ ক্রমেই বেড়ে যায়।

তার বহুল প্রত্যাশিত এই ঘোষণাটি এসেছে ব্রেক্সিট গণভোটের দশম বার্ষিকীর ঠিক একদিন আগে।

ওই গণভোটের ফলেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হয় এবং দেশটিতে প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের নজিরবিহীন ধারা শুরু হয়।

স্টারমারের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার বড় জয় পেয়ে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটায়।

তবে পরে তার সরকার নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। কল্যাণ ভাতা কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনাÑ এ ধরনে বিভিন্ন কারণে তার মেয়াদ সংকটে পড়ে।

মার্চ মাসে প্রয়াত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের পরিচিত সহযোগী হিসেবে পরিচিত পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সিদ্ধান্ত তাকে প্রায় ক্ষমতাচ্যুতির মুখে ঠেলে দেয়।

এ ছাড়া অভিবাসনবিরোধী কট্টর ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে দলের দ্রুত উত্থানও তিনি ঠেকাতে পারেননি। মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে দলটি লেবারকে পরাজিত করলে স্টারমারের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

পদত্যাগের ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমার উত্তরসূরিকেও আমি পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন দেব। কারণ আমি জানি, তিনি এমন একটি ব্রিটেনের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, যা দুই বছর আগে আমি যে ব্রিটেনের দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও ন্যায়সঙ্গত।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

আপডেট সময় : ১১:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রায় দুই বছরেরও কম সময় ক্ষমতায় থাকার পর সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। নীতিগত অবস্থান থেকে একাধিকবার সরে আসা ও জনসমর্থনে বড় ধরনের পতনের মধ্যেই তার এ সিদ্ধান্ত এলো।

স্টারমারের পদত্যাগের ফলে এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে ব্রিটেন।

১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে আবেগঘন ভাষণে স্টারমার বলেন, ‘আমি যে সিদ্ধান্তই নিয়েছি, সবই ছিল আমার প্রিয় দেশকে সবার আগে রাখার জন্য। সে কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

তিনি জানান, মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া জুলাইয়ে শুরু হবে। উত্তরসূরি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন।

গ্রীষ্মকালীন বিরতির পর, সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট অধিবেশনে ফেরার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব নেবেন।

স্টারমারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অভিজ্ঞ রাজনীতিক অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপনির্বাচনে জয় পাওয়ার পর, সোমবার বার্নহ্যামের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে পার্লামেন্টে তার প্রত্যাবর্তন ঘটছে এবং দলীয় নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়ার পথও পরিষ্কার হচ্ছে।

স্টারমার বলেন, ‘নেতৃত্ব নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকব। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

সপ্তাহের শেষ পর্যন্তও তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে অনড় ছিলেন।

দলীয় চ্যালেঞ্জ ও পদত্যাগের দাবির মুখেও তিনি দীর্ঘদিন সেই অবস্থান ধরে রাখেন।

তবে একের পর এক কেলেঙ্কারি এবং উচ্চপর্যায়ের পদত্যাগের ঘটনায় তার ও লেবার পার্টির ওপর চাপ ক্রমেই বেড়ে যায়।

তার বহুল প্রত্যাশিত এই ঘোষণাটি এসেছে ব্রেক্সিট গণভোটের দশম বার্ষিকীর ঠিক একদিন আগে।

ওই গণভোটের ফলেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হয় এবং দেশটিতে প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের নজিরবিহীন ধারা শুরু হয়।

স্টারমারের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার বড় জয় পেয়ে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটায়।

তবে পরে তার সরকার নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। কল্যাণ ভাতা কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনাÑ এ ধরনে বিভিন্ন কারণে তার মেয়াদ সংকটে পড়ে।

মার্চ মাসে প্রয়াত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের পরিচিত সহযোগী হিসেবে পরিচিত পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সিদ্ধান্ত তাকে প্রায় ক্ষমতাচ্যুতির মুখে ঠেলে দেয়।

এ ছাড়া অভিবাসনবিরোধী কট্টর ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে দলের দ্রুত উত্থানও তিনি ঠেকাতে পারেননি। মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে দলটি লেবারকে পরাজিত করলে স্টারমারের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

পদত্যাগের ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমার উত্তরসূরিকেও আমি পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন দেব। কারণ আমি জানি, তিনি এমন একটি ব্রিটেনের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, যা দুই বছর আগে আমি যে ব্রিটেনের দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও ন্যায়সঙ্গত।’