ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

ট্রাম্পের ‘অপমানজনক’ মন্তব্যের জেরে যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও ইতালির জনগণের প্রতি ‘অপমান’ আখ্যা দিয়ে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি।

আগামী ২১ ও ২২ জুন তার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে শুক্রবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গুরুতর ও অপমানজনক বক্তব্য… শুধু প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে নয়, সমগ্র ইতালিকেই অপমান করেছে।’

রোম থেকে এএফপি জানায়, ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল ‘লা সেতে’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তুলতে ‘খুবই আগ্রহী’ ছিলেন এবং তিনি ‘করুণা করেই’ তাতে সম্মত হন।

চ্যানেলটির প্রকাশিত প্রতিলিপি অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেন, ‘সে আমার সঙ্গে ছবি তুলতে খুবই চেয়েছিল। আমি তার জন্য খারাপ বোধ করেছিলাম বলেই রাজি হয়েছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো সে খুশি যে আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। আমার তার সঙ্গে কথা বলার কোনো প্রয়োজন ছিল না।’

ট্রাম্পের এ মন্তব্যকে ‘মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মেলোনি।

তিনি এক্সে লেখেন, ‘আমি কিংবা ইতালি কখনো কারও কাছে ভিক্ষা চায় না।’

কট্টর ডানপন্থী এ নেতা আরও বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিজের মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করছেন।’

তিনি বলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুদের প্রতি, কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ নেতাদের প্রতি তিনি এমন কঠোর অবস্থান দেখান না; বরং তাদের প্রতি তিনি অনেক বেশি নমনীয়।’

গত বুধবার ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন শেষে মেলোনি বলেছিলেন, সেখানে ‘খুবই ইতিবাচক পরিবেশ’ ছিল এবং ট্রাম্প ও অন্য নেতাদের মধ্যে ‘কোনো মতবিরোধ ছিল না’।

ইউরোপ ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করে আসছিলেন মেলোনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে শুরু করে।

এপ্রিল মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে তার বিরোধ তীব্র হয়, যখন তিনি পোপ লিও চতুর্দশের যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে পোপের পক্ষে অবস্থান নেন।

মেলোনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে তখন ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দেন। এর জবাবে ট্রাম্প ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, ‘আমি তাকে দেখে বিস্মিত। আমি ভেবেছিলাম তার সাহস আছে, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।’

সে সময় ইতালীয় দৈনিক কোরিয়েরে দেলা সেরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, মেলোনি ন্যাটোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেননি।

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, ইরান যুদ্ধের সময় ইতালি যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা না করায় দেশটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ট্রাম্পের ‘অপমানজনক’ মন্তব্যের জেরে যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৮:২৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও ইতালির জনগণের প্রতি ‘অপমান’ আখ্যা দিয়ে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি।

আগামী ২১ ও ২২ জুন তার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে শুক্রবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গুরুতর ও অপমানজনক বক্তব্য… শুধু প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে নয়, সমগ্র ইতালিকেই অপমান করেছে।’

রোম থেকে এএফপি জানায়, ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল ‘লা সেতে’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তুলতে ‘খুবই আগ্রহী’ ছিলেন এবং তিনি ‘করুণা করেই’ তাতে সম্মত হন।

চ্যানেলটির প্রকাশিত প্রতিলিপি অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেন, ‘সে আমার সঙ্গে ছবি তুলতে খুবই চেয়েছিল। আমি তার জন্য খারাপ বোধ করেছিলাম বলেই রাজি হয়েছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো সে খুশি যে আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। আমার তার সঙ্গে কথা বলার কোনো প্রয়োজন ছিল না।’

ট্রাম্পের এ মন্তব্যকে ‘মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মেলোনি।

তিনি এক্সে লেখেন, ‘আমি কিংবা ইতালি কখনো কারও কাছে ভিক্ষা চায় না।’

কট্টর ডানপন্থী এ নেতা আরও বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিজের মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করছেন।’

তিনি বলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুদের প্রতি, কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ নেতাদের প্রতি তিনি এমন কঠোর অবস্থান দেখান না; বরং তাদের প্রতি তিনি অনেক বেশি নমনীয়।’

গত বুধবার ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন শেষে মেলোনি বলেছিলেন, সেখানে ‘খুবই ইতিবাচক পরিবেশ’ ছিল এবং ট্রাম্প ও অন্য নেতাদের মধ্যে ‘কোনো মতবিরোধ ছিল না’।

ইউরোপ ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করে আসছিলেন মেলোনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে শুরু করে।

এপ্রিল মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে তার বিরোধ তীব্র হয়, যখন তিনি পোপ লিও চতুর্দশের যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে পোপের পক্ষে অবস্থান নেন।

মেলোনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে তখন ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দেন। এর জবাবে ট্রাম্প ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, ‘আমি তাকে দেখে বিস্মিত। আমি ভেবেছিলাম তার সাহস আছে, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।’

সে সময় ইতালীয় দৈনিক কোরিয়েরে দেলা সেরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, মেলোনি ন্যাটোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেননি।

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, ইরান যুদ্ধের সময় ইতালি যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা না করায় দেশটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হতে পারে।