ঢাকা ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হালান্ডের জোড়া গোলে পোর্তোকে হারিয়ে সিটির শুভসূচনা Logo বাঁধনের ওপর হামলায় ফুঁসছে শোবিজ Logo হুথিদের কাছ থেকে দুই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিল ইয়েমেনি বাহিনী Logo বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ Logo হারানো সরকারি অস্ত্রের তথ্য দিলে মিলবে পুরস্কার Logo ঠিকাদারদের কাছে যিনি “মিস্টার ফাইভ পার্সেন্ট” গণপূর্তের আবুল খায়েরের দুর্নীতির আমলনামা Logo তেজগাঁওয়ের বিটিসিএলে যুবক হত্যাকাণ্ডে অঙ্গীভুত আনসার সদস্য জড়িত থাকার খবর ভিত্তিহীন Logo রাষ্ট্রপতির স‌ঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৩ মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যেসব সহযোগিতার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী

ঋণের চাপ ও বৈশ্বিক ঝুঁকিতে চ্যালেঞ্জে সেন্ট ভিনসেন্ট, সতর্ক করল আইএমএফ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ১৭৭ বার পড়া হয়েছে

হাফিজুর রহমান শফিক 
ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনসের অর্থনীতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক বৈশ্বিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিলেও দেশটির আর্থিক ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

শুক্রবার প্রকাশিত আইএমএফের ২০২৬ সালের আর্টিকেল-৪ পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়, মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশটির রাজস্ব ঘাটতি ও সরকারি ঋণ দ্রুত বেড়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় সরকারি ঋণ ৪৫ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে জিডিপির ১১৩ শতাংশে পৌঁছেছে।

আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। পর্যটন ও নির্মাণ খাত শক্তিশালী থাকলেও মহামারি-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের গতি কমে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়েছে। আগামী ২০২৬ ও ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি আরও কমে যথাক্রমে ২ দশমিক ৮ ও ২ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, ২০২৫ সালে মূল্যস্ফীতি গড়ে ০ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এলেও জ্বালানি ও পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে ২০২৬ সালের শেষে তা ২ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। পরে তা ধীরে ধীরে ২ শতাংশের কাছাকাছি স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আইএমএফ আরও জানিয়েছে, দেশটির চলতি হিসাব ঘাটতি ২০২৫ সালে জিডিপির ২০ শতাংশে পৌঁছেছে। নির্মাণসামগ্রী আমদানি বৃদ্ধি এবং পর্যটন খাতের মুনাফা বিদেশে স্থানান্তরের কারণে এই ঘাটতি বেড়েছে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই ঋণ সংকটের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। জলবায়ুজনিত দুর্যোগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতি আরও চাপে পড়তে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইএমএফ সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ঋণ ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং প্রবৃদ্ধিবান্ধব কাঠামোগত সংস্কারের সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে রূপান্তর, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং আর্থিক খাতের সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আইএমএফের নির্বাহী পরিচালকরা মনে করেন, দ্রুত ও টেকসই রাজস্ব সংস্কার ছাড়া দেশটির ঋণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে। তবে সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় অব্যাহত রাখার ওপরও তারা জোর দিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ঋণের চাপ ও বৈশ্বিক ঝুঁকিতে চ্যালেঞ্জে সেন্ট ভিনসেন্ট, সতর্ক করল আইএমএফ

আপডেট সময় : ১২:৩৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

হাফিজুর রহমান শফিক 
ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনসের অর্থনীতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক বৈশ্বিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিলেও দেশটির আর্থিক ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

শুক্রবার প্রকাশিত আইএমএফের ২০২৬ সালের আর্টিকেল-৪ পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়, মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশটির রাজস্ব ঘাটতি ও সরকারি ঋণ দ্রুত বেড়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় সরকারি ঋণ ৪৫ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে জিডিপির ১১৩ শতাংশে পৌঁছেছে।

আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। পর্যটন ও নির্মাণ খাত শক্তিশালী থাকলেও মহামারি-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের গতি কমে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়েছে। আগামী ২০২৬ ও ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি আরও কমে যথাক্রমে ২ দশমিক ৮ ও ২ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, ২০২৫ সালে মূল্যস্ফীতি গড়ে ০ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এলেও জ্বালানি ও পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে ২০২৬ সালের শেষে তা ২ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। পরে তা ধীরে ধীরে ২ শতাংশের কাছাকাছি স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আইএমএফ আরও জানিয়েছে, দেশটির চলতি হিসাব ঘাটতি ২০২৫ সালে জিডিপির ২০ শতাংশে পৌঁছেছে। নির্মাণসামগ্রী আমদানি বৃদ্ধি এবং পর্যটন খাতের মুনাফা বিদেশে স্থানান্তরের কারণে এই ঘাটতি বেড়েছে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই ঋণ সংকটের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। জলবায়ুজনিত দুর্যোগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতি আরও চাপে পড়তে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইএমএফ সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ঋণ ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং প্রবৃদ্ধিবান্ধব কাঠামোগত সংস্কারের সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে রূপান্তর, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং আর্থিক খাতের সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আইএমএফের নির্বাহী পরিচালকরা মনে করেন, দ্রুত ও টেকসই রাজস্ব সংস্কার ছাড়া দেশটির ঋণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে। তবে সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় অব্যাহত রাখার ওপরও তারা জোর দিয়েছেন।