ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নিষিদ্ধ সংগঠনের ‘পুনর্গঠন’ বার্তা: ছাত্রলীগের নোটিশ ঘিরে প্রশ্ন ও শঙ্কা Logo দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নলীগ লুট করে আগষ্টিন শত কোটি টাকার মালিক Logo জিয়া শিশুকিশোর মেলার কেন্দ্রীয় কমিটির গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক হলেন হাফিজুর রহমান শফিক Logo জিয়া শিশু কিশোর মেলার নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা  Logo ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নুর নেওয়াজ ৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক Logo প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে শীর্ষ কর্মকর্তা আতিকুর পাহাড়সমান অভিযোগ নিয়েও বহাল Logo বদলি-বাণিজ্য ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন সিন্ডিকেট Logo রাজউকে দুর্নীতিতে আলোচনার শীর্ষে পরিচালক জাকারিয়া: ‘সেফ জন’ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ  Logo প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য Logo ‘৬ বছরে ৮৬৫০ কোটি লুটপাট : সওজে নতুন করে সক্রিয় সেই ‘ডন’ রায়হান মুস্তাফিজ!’

‘কান্ট্রি বয় লাইফস্টাইল’-এর বিরুদ্ধে গ্রাহক প্রতারণার অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৮:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ ১২২ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক: রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় অবস্থিত ‘কান্ট্রি বয় লাইফস্টাইল’ নামের একটি আড়ম্বরপূর্ণ পোশাক বিপণনকেন্দ্রকে ঘিরে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক প্রতারণা, অনিয়ম ও ভোক্তা শোষণের গুরুতর অভিযোগ। বাহ্যিক চাকচিক্য আর তথাকথিত ব্র্যান্ডেড পণ্যের মোড়কে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন, স্টিকার জালিয়াতির মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ভ্যাট আদায় এবং আমদানিকৃত পণ্যের তথ্য গোপনের মতো একাধিক অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে এসেছে, যা দেশের প্রচলিত আইন ও নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে উক্ত আউটলেট থেকে একটি শিশুদের টি-শার্ট ক্রয় করেন এক সচেতন ভোক্তা (ইনভয়েস নং: SLORD2026-0221000844)। কিন্তু একটি সাধারণ কেনাকাটার অভিজ্ঞতা খুব দ্রুতই রূপ নেয় প্রতারণার এক বিস্ময়কর বাস্তবতায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘Bambini’ (ভারতীয় ব্র্যান্ড) লেবেলযুক্ত ওই পণ্যের মূল মূল্য ট্যাগ থেকে সুচতুরভাবে আসল দাম মুছে ফেলা হয়েছে এবং তার ওপর নতুন স্টিকার লাগিয়ে অস্বাভাবিকভাবে ২,৩৫০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ধারা ৪০ অনুযায়ী, পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন বা বিকৃত করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ভুল নয় বরং একটি পরিকল্পিত মূল্য জালিয়াতির অংশ, যার মাধ্যমে ভোক্তার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি গুরুতর অনিয়ম। পণ্যের গায়ে প্রদর্শিত মূল্যের বাইরে আলাদাভাবে ২৩৫ টাকা ভ্যাট আদায় করা হয়েছে, যা প্রচলিত নিয়মের পরিপন্থী। কারণ খুচরা পর্যায়ে প্রদর্শিত মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। ফলে এই অতিরিক্ত আদায় নিছক হিসাবগত ভুল নয়, বরং ভোক্তাকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার একটি কৌশলগত প্রয়াস বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া পণ্যটি আমদানিকৃত হওয়া সত্ত্বেও তাতে কোনো বৈধ আমদানিকারকের নাম, ঠিকানা বা অনুমোদিত স্টিকার পাওয়া যায়নি। এতে করে পণ্যের উৎস, শুল্ক পরিশোধ এবং বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের তথ্য গোপন রাখা কেবল ভোক্তা অধিকার আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং জাতীয় রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক সংকেত বহন করে।

অভিযোগকারী তার অভিযোগের পক্ষে ক্রয়কৃত পণ্যের ইনভয়েস এবং ট্যাগের ছবি সংযুক্ত করেছেন, যেখানে মূল মূল্য মুছে ফেলার চিহ্ন এবং নতুন স্টিকার সংযুক্তির বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। এসব প্রমাণ প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য যথেষ্ট ভিত্তি প্রদান করে।

তবে অভিযোগকারী একাধিকবার ‘কান্ট্রি বয় লাইফস্টাইল’ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো ধরনের সাড়া পাওয়া যায়নি। বার্তা প্রেরণের পরও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা, প্রতিক্রিয়া বা অবস্থান না আসা বিষয়টিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই নীরবতা দায় এড়ানোর প্রবণতা এবং অনিয়মের প্রতি পরোক্ষ স্বীকৃতির ইঙ্গিত বহন করে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে যদি এভাবে মূল্য জালিয়াতি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ে, তবে সাধারণ ভোক্তাদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে এবং বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে ইতোমধ্যে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

‘কান্ট্রি বয় লাইফস্টাইল’-এর বিরুদ্ধে গ্রাহক প্রতারণার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:৪৮:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক: রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় অবস্থিত ‘কান্ট্রি বয় লাইফস্টাইল’ নামের একটি আড়ম্বরপূর্ণ পোশাক বিপণনকেন্দ্রকে ঘিরে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক প্রতারণা, অনিয়ম ও ভোক্তা শোষণের গুরুতর অভিযোগ। বাহ্যিক চাকচিক্য আর তথাকথিত ব্র্যান্ডেড পণ্যের মোড়কে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন, স্টিকার জালিয়াতির মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ভ্যাট আদায় এবং আমদানিকৃত পণ্যের তথ্য গোপনের মতো একাধিক অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে এসেছে, যা দেশের প্রচলিত আইন ও নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে উক্ত আউটলেট থেকে একটি শিশুদের টি-শার্ট ক্রয় করেন এক সচেতন ভোক্তা (ইনভয়েস নং: SLORD2026-0221000844)। কিন্তু একটি সাধারণ কেনাকাটার অভিজ্ঞতা খুব দ্রুতই রূপ নেয় প্রতারণার এক বিস্ময়কর বাস্তবতায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘Bambini’ (ভারতীয় ব্র্যান্ড) লেবেলযুক্ত ওই পণ্যের মূল মূল্য ট্যাগ থেকে সুচতুরভাবে আসল দাম মুছে ফেলা হয়েছে এবং তার ওপর নতুন স্টিকার লাগিয়ে অস্বাভাবিকভাবে ২,৩৫০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ধারা ৪০ অনুযায়ী, পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন বা বিকৃত করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ভুল নয় বরং একটি পরিকল্পিত মূল্য জালিয়াতির অংশ, যার মাধ্যমে ভোক্তার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি গুরুতর অনিয়ম। পণ্যের গায়ে প্রদর্শিত মূল্যের বাইরে আলাদাভাবে ২৩৫ টাকা ভ্যাট আদায় করা হয়েছে, যা প্রচলিত নিয়মের পরিপন্থী। কারণ খুচরা পর্যায়ে প্রদর্শিত মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। ফলে এই অতিরিক্ত আদায় নিছক হিসাবগত ভুল নয়, বরং ভোক্তাকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার একটি কৌশলগত প্রয়াস বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া পণ্যটি আমদানিকৃত হওয়া সত্ত্বেও তাতে কোনো বৈধ আমদানিকারকের নাম, ঠিকানা বা অনুমোদিত স্টিকার পাওয়া যায়নি। এতে করে পণ্যের উৎস, শুল্ক পরিশোধ এবং বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের তথ্য গোপন রাখা কেবল ভোক্তা অধিকার আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং জাতীয় রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক সংকেত বহন করে।

অভিযোগকারী তার অভিযোগের পক্ষে ক্রয়কৃত পণ্যের ইনভয়েস এবং ট্যাগের ছবি সংযুক্ত করেছেন, যেখানে মূল মূল্য মুছে ফেলার চিহ্ন এবং নতুন স্টিকার সংযুক্তির বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। এসব প্রমাণ প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য যথেষ্ট ভিত্তি প্রদান করে।

তবে অভিযোগকারী একাধিকবার ‘কান্ট্রি বয় লাইফস্টাইল’ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো ধরনের সাড়া পাওয়া যায়নি। বার্তা প্রেরণের পরও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা, প্রতিক্রিয়া বা অবস্থান না আসা বিষয়টিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই নীরবতা দায় এড়ানোর প্রবণতা এবং অনিয়মের প্রতি পরোক্ষ স্বীকৃতির ইঙ্গিত বহন করে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে যদি এভাবে মূল্য জালিয়াতি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ে, তবে সাধারণ ভোক্তাদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে এবং বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে ইতোমধ্যে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।