ভোলার জেলা জজ মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৩:২৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫ ১১৭৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোলা জেলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এ এইচ এম মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, জেলার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পদে থাকা সত্ত্বেও তিনি দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে নানা অপকর্মে জড়িয়েছেন।
ছাত্রজনতার আন্দোলন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভোলা জেলা জজ আদালতের সামনে, আইনজীবী সমিতির সামনে এবং চীফ জুডিশিয়াল আদালতের সামনে ছাত্রজনতা বিক্ষোভ করে। ইতিহাসে এই প্রথমবার জেলা জজ ও আইনজীবীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আন্দোলন হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, জজ মাহমুদুর রহমান তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন।
কর্মকর্তাদের সাথে খারাপ আচরণ
অভিযোগ রয়েছে, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে তিনি বারবার অশোভন আচরণ করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনেই মামলার নথি ছুঁড়ে ফেলা এবং অপমানজনক ভাষায় কথা বলার ঘটনা ঘটেছে। সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী এসব আচরণ দণ্ডনীয় অপরাধ।
ভাংচুরের নির্দেশে জিডি
ভোলা গণপূর্ত অধিদফতর অভিযোগ করেছে, জেলা প্রশাসকের বাসভবনের পেছনের দেয়াল ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা জজ। এ ঘটনায় ভোলা সদর মডেল থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।
জামিন বাণিজ্যের অভিযোগ
জজ মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে জামিন বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক দলের আসামিদের জামিন দিতে তিনি আইনজীবীদের সাথে আঁতাত করেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ঘুষ নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে অনেক আসামি বিদেশে পালিয়ে গেছে।
সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় ব্যর্থতা
সরকারি সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব থাকলেও জজ মাহমুদুর রহমান অভিযোগ অনুযায়ী মামলা থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে সরকারের সম্পদ নামজারির আদেশ দিয়েছেন। এতে সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অসত্য বিল ভাউচার
অভিযোগ রয়েছে, উন্নয়নের নামে অসত্য তথ্য দিয়ে সরকারি অর্থ তোলা হয়েছে। বিল ভাউচার উঠলেও কাজ হয়নি। এতে সরকারি অর্থ লোপাট হয়েছে।
মামলার রায় পরিবর্তন
আইনজীবীদের সাথে যোগসাজশে মামলার রায় পরিবর্তন করারও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, ঘুষ ছাড়া ন্যায়বিচার পাওয়া যায় না। এতে ভোলা জেলার হতদরিদ্র সাধারণ মানুষ নিয়মিত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর তিনি তার সহযোগীদের মাধ্যমে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন বলে ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। আদালতের কয়েকজন কর্মচারীর মোবাইল ফোন জব্দ করেন জজ মাহমুদুর রহমান। কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।
জেলা জজের এই পদটি দেশের আইন শাসনের মর্যাদাপূর্ণ সরকারি দায়িত্বগুলোর অন্যতম একটি। কিন্তু ভোলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এ এইচ এম মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রশ্ন তুলেছে বিচার বিভাগের সুনাম ও নিরপেক্ষতা নিয়ে। স্থানীয়রা বলছেন, বিচারকের এমন আচরণ শুধু অনভিপ্রেতই নয়, আইনের চোখে অপরাধও বটে।
















