গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার কবির ও ক্যাশিয়ার এনামুল হকের বিরুদ্ধে কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ|| পর্ব –
- আপডেট সময় : ১০:২৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৭৬ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা
জুলাই বিপ্লবের পর প্রশাসনে পরিবর্তনের আলোচনা থাকলেও গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে সেই হাওয়া লাগেনি বলেই অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কায়সার কবির ও উচ্চমান সহকারী এবং শ্রমিক লীগ নেতা মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে এখানে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি শক্ত সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।
নিয়ম ভেঙে টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনা উপেক্ষা করে কায়সার কবির এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করেন। অভিযোগ রয়েছে, অন্তত ৬০টির বেশি কাজের আইডিতে কমিশনের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে এই কৌশল নেওয়া হয়। এতে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।
অভিযোগভুক্ত টেন্ডার আইডি:
১০৬০৬৮৯, ১০৭০৫৪৬, ১০৬৬৫৯৪, ১০৬৭৭২৪, ১০৬৬৬০২, ১০৬৭৭২১, ১০৭০৫৪৩, ১০৭০৫৪৫, ১০৬৭৭২৭, ১০৬৭৭২৬, ১০৬৭৭২৫, ১০৬৭৭২৩, ১০৭০৫৪০, ১০৭০৫৪৮, ১০৬৬৫৮৯, ১০৫৮০৭৮, ১০৪৫৫৪৩, ১০৪৫৫৫০, ১০৫৮৪৯৯, ১০৫৮৫০০, ১০৫৮০৮১, ১০৫৮০৮৪, ১০৬০০৮৪, ১০৪৫৫১৫, ১০৪৫৫১৮, ১০৪৫৫২১, ১০৪৫৫২২, ১০৪৫৫২৩, ১০৪৫৫২৫, ১০৪৫৫২৬, ১০৪৫৫২৭, ১০৪৫৫৩১, ১০৪৫৫৪১, ১০৪৫৫৪৬, ১০৬০০৭৭, ১০৫৮১২৪, ১০৪৩৩৫২, ১০৪৩৩৬১, ১০৪৩৩৬৭, ১০৪৩৩৭৩, ১০৪৩৪১০, ১০৪৩৪১৪, ১০৪৩৫১৫, ১০৪৩৪১৭, ১০৪৩৪১৮, ১০৪৩৪১৯, ১০৪৩৪২০, ১০৪৩৪২১, ১০৪৩৪২২, ১০৪৩৪২৪, ১০৪৩৪২৬, ১০৪৩৪২৭, ১০৪৩৪২৯, ১০৪৩৪৩০, ১০৪৩৫৩১, ১০৪৩৪৩২, ১০৪৩৪৩৩, ১০৪৩৪৩৪, ১০৪৩৪৩৫, ১০৪৩৪৩৮, ১০৪৩৪৪০, ১০৪৩৪৪১ ও ১০৪৩৪৪৩।
রাজনৈতিক আশীর্বাদ ও পোস্টিং সিন্ডিকেট
কায়সার কবিরের কর্মজীবন ঘেঁটে দেখা যায়, শুরু থেকেই তিনি বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় ছিলেন বলে অভিযোগ। সাভারে কর্মরত অবস্থায় ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত জিকে শামীমের ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী আব্দুল কাদের চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে দাবি। পরে জামালপুরে থাকাকালে আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজমের ভাইয়ের সিন্ডিকেটের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারকে বড় অঙ্কের ঘুষ দিয়ে তিনি ঢাকা রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে পোস্টিং বাগিয়ে নেন। এমনকি জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্র-জনতার ওপর দমন অভিযানে অর্থায়নের অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কায়সার কবিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
গার্ড থেকে শতকোটির মালিক
একই বিভাগের উচ্চমান সহকারী মো. এনামুল হকের উত্থান নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। ১৯৮৬ সালে মাস্টার রোলে ‘গার্ড’ হিসেবে যোগদান করা এনামুল বর্তমানে শতকোটি টাকার মালিক বলে অভিযোগ। সিবিএ রাজনীতির প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলে দাবি সূত্রের।
অভিযোগ রয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের বয়স চার বছর কমিয়ে সার্ভিস বুক সংশোধন করেন এনামুল। কাগজে-কলমে তিনি তাঁর ছোট ভাইয়ের চেয়েও কম বয়সী দেখানো হয়েছে।
বদলি, নিয়োগ ও বাসা বরাদ্দ বাণিজ্য
এনামুল হকের আয়ের বড় উৎস ছিল নিয়োগ ও পোস্টিং বাণিজ্য। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নন্দিতা রানী সাহাকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অধিদপ্তরের ১,০৭৭ জন কার্যভিত্তিক কর্মচারীকে নিয়মিত করার নামে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে প্রায় ৫ কোটি টাকা আদায় করা হয়, যার বড় অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মতিঝিল এলাকায় সরকারি বাসা দখল করে ভাড়া দেওয়া এবং বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসা চালিয়ে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও দাবি রয়েছে।
চলবে…..










