ঢাকা ০৪:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় দুর্নীতির সাম্রাজ্য: ডিপিডিসির কামরুজ্জামান এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫ ৪১৯ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ অনুসন্ধান প্রতিবেদন | সকালের সংবাদ

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)-এর আওতাধীন মাউতাইল এনওসিএস-এর প্রভাবশালী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অর্থপাচার, ঘুষ গ্রহণ ও সিন্ডিকেট বানিজ্যের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন একটি অবিশ্বাস্য আর্থিক সাম্রাজ্য। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে তিনি এতটাই অদৃশ্য ক্ষমতার মালিক হয়ে উঠেছেন যে, এখনো কোনো আইন বা তদন্ত সংস্থা তাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারেনি।

রাজনৈতিক আশ্রয়ে ‘ঘুষ সাম্রাজ্য’

কামরুজ্জামান একজন অতি সাধারণ নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা ব্যক্তি। কিন্তু ডিপিডিসিতে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও ঠিকাদারি দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে মাউতাইল এনওসিএস কার্যালয়কে রীতিমতো সিন্ডিকেট বানিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত করেছেন তিনি।

ডিপিডিসিতে অদৃশ্য প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইল আটকে রেখে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ আদায় এখন তার নিয়মিত আয়ের উৎস। অভিযোগ রয়েছে, একটি ফাইল অনুমোদনের জন্য লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয় এবং তা না পেলে মাসের পর মাস ফাইল ঝুলিয়ে রাখা হয়।

সম্পদের পাহাড়: আয়বহির্ভূত দুর্নীতির চিত্র

সরকারি চাকুরিজীবী হিসেবে কামরুজ্জামানের প্রকৃত আয় সীমিত হলেও তার সম্পদ আজ শত কোটি টাকার কাছাকাছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় নামে–বেনামে শতাধিক বিঘা জমি কিনেছেন।

ঢাকার কাঁঠালবাগান চন্দ্রিমা ১২ নম্বর রোডে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং গুলশানে ১ কোটি টাকার ফ্ল্যাট রয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তার মালিকানায় রয়েছে ১২টিরও বেশি ফ্ল্যাট।

নিজ গ্রামের বাড়িতে নির্মাণ করেছেন বিলাসবহুল দোতলা অট্টালিকা।

তার স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনদের নামে রাজধানী ও জেলায় জমি, নগদ অর্থ, এফডিআর এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থের সন্ধান মিলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুর্নীতি

ডিপিডিসির বিভিন্ন প্রকল্পে নিম্নমানের মালামাল সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। নিজের ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে গড়ে তোলা একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্র গ্রহণ করে তিনি নিজেই অনুমোদন দেন নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ও পণ্য। এতে যেমন ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন, তেমনি রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে।

অর্থ পাচার ও পরিবারকেন্দ্রিক দুর্নীতির অভিযোগ

তদন্তে উঠে এসেছে, কামরুজ্জামান তার শ্বশুরবাড়ি এবং স্ত্রীপক্ষের একাধিক আত্মীয়ের নাম ব্যবহার করে রাজধানী ও প্রবাসে বিপুল অর্থ লেনদেন করেছেন। একাধিক বিদেশি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার তথ্য পাওয়া গেছে। জমি ক্রয়, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং নগদ অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের নীরবতা ও রহস্যজনক রক্ষাকবচ

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় স্তরের একাধিক নেতার প্রত্যক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কামরুজ্জামান আজো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। বারবার অভিযোগের পরও কোনো বিভাগীয় তদন্ত হয়নি বা তদন্ত হলেও তার ফলাফল অজানা থেকে গেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চরম আতঙ্কে কাজ করছেন অনেকে।

একজন সরকারি কর্মকর্তা কিভাবে রাজনীতির ছত্রছায়া নিয়ে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন, সেই প্রশ্ন আজ ডিপিডিসির প্রতিটি সৎ কর্মকর্তা ও দেশের জনগণের মনে। জনগণের করের টাকা, সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং প্রতিষ্ঠানিক আস্থা যারা এভাবে ব্যবহার করে দুর্নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।

সকল সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও তদন্ত সংস্থার নিকট জোর দাবি, এই বিষয়ে অবিলম্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে কামরুজ্জামানের সম্পদের উৎস ও দুর্নীতির বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হোক। দেশের বিদ্যুৎ খাতের স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থ রক্ষায় এটি এখন অপরিহার্য।

সংবাদ সংস্থার পক্ষ থেকে কামরুজ্জামান বা ডিপিডিসির কোনো প্রতিনিধির মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তারা এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। প্রয়োজনে পরবর্তী প্রতিবেদনসে তাদের বক্তব্য প্রকাশ করা হবে।

Loading

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় দুর্নীতির সাম্রাজ্য: ডিপিডিসির কামরুজ্জামান এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

আপডেট সময় : ০৭:৫১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

বিশেষ অনুসন্ধান প্রতিবেদন | সকালের সংবাদ

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)-এর আওতাধীন মাউতাইল এনওসিএস-এর প্রভাবশালী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অর্থপাচার, ঘুষ গ্রহণ ও সিন্ডিকেট বানিজ্যের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন একটি অবিশ্বাস্য আর্থিক সাম্রাজ্য। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে তিনি এতটাই অদৃশ্য ক্ষমতার মালিক হয়ে উঠেছেন যে, এখনো কোনো আইন বা তদন্ত সংস্থা তাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারেনি।

রাজনৈতিক আশ্রয়ে ‘ঘুষ সাম্রাজ্য’

কামরুজ্জামান একজন অতি সাধারণ নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা ব্যক্তি। কিন্তু ডিপিডিসিতে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও ঠিকাদারি দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে মাউতাইল এনওসিএস কার্যালয়কে রীতিমতো সিন্ডিকেট বানিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত করেছেন তিনি।

ডিপিডিসিতে অদৃশ্য প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইল আটকে রেখে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ আদায় এখন তার নিয়মিত আয়ের উৎস। অভিযোগ রয়েছে, একটি ফাইল অনুমোদনের জন্য লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয় এবং তা না পেলে মাসের পর মাস ফাইল ঝুলিয়ে রাখা হয়।

সম্পদের পাহাড়: আয়বহির্ভূত দুর্নীতির চিত্র

সরকারি চাকুরিজীবী হিসেবে কামরুজ্জামানের প্রকৃত আয় সীমিত হলেও তার সম্পদ আজ শত কোটি টাকার কাছাকাছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় নামে–বেনামে শতাধিক বিঘা জমি কিনেছেন।

ঢাকার কাঁঠালবাগান চন্দ্রিমা ১২ নম্বর রোডে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং গুলশানে ১ কোটি টাকার ফ্ল্যাট রয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তার মালিকানায় রয়েছে ১২টিরও বেশি ফ্ল্যাট।

নিজ গ্রামের বাড়িতে নির্মাণ করেছেন বিলাসবহুল দোতলা অট্টালিকা।

তার স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনদের নামে রাজধানী ও জেলায় জমি, নগদ অর্থ, এফডিআর এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থের সন্ধান মিলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুর্নীতি

ডিপিডিসির বিভিন্ন প্রকল্পে নিম্নমানের মালামাল সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। নিজের ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে গড়ে তোলা একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্র গ্রহণ করে তিনি নিজেই অনুমোদন দেন নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ও পণ্য। এতে যেমন ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন, তেমনি রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে।

অর্থ পাচার ও পরিবারকেন্দ্রিক দুর্নীতির অভিযোগ

তদন্তে উঠে এসেছে, কামরুজ্জামান তার শ্বশুরবাড়ি এবং স্ত্রীপক্ষের একাধিক আত্মীয়ের নাম ব্যবহার করে রাজধানী ও প্রবাসে বিপুল অর্থ লেনদেন করেছেন। একাধিক বিদেশি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার তথ্য পাওয়া গেছে। জমি ক্রয়, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং নগদ অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের নীরবতা ও রহস্যজনক রক্ষাকবচ

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় স্তরের একাধিক নেতার প্রত্যক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কামরুজ্জামান আজো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। বারবার অভিযোগের পরও কোনো বিভাগীয় তদন্ত হয়নি বা তদন্ত হলেও তার ফলাফল অজানা থেকে গেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চরম আতঙ্কে কাজ করছেন অনেকে।

একজন সরকারি কর্মকর্তা কিভাবে রাজনীতির ছত্রছায়া নিয়ে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন, সেই প্রশ্ন আজ ডিপিডিসির প্রতিটি সৎ কর্মকর্তা ও দেশের জনগণের মনে। জনগণের করের টাকা, সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং প্রতিষ্ঠানিক আস্থা যারা এভাবে ব্যবহার করে দুর্নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।

সকল সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও তদন্ত সংস্থার নিকট জোর দাবি, এই বিষয়ে অবিলম্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে কামরুজ্জামানের সম্পদের উৎস ও দুর্নীতির বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হোক। দেশের বিদ্যুৎ খাতের স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থ রক্ষায় এটি এখন অপরিহার্য।

সংবাদ সংস্থার পক্ষ থেকে কামরুজ্জামান বা ডিপিডিসির কোনো প্রতিনিধির মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তারা এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। প্রয়োজনে পরবর্তী প্রতিবেদনসে তাদের বক্তব্য প্রকাশ করা হবে।

Loading