নকল সিগমা লিফটে গ্রাহকরা প্রতারিত, বাড়ছে দুর্ঘটনা!
- আপডেট সময় : ০৯:১৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫ ২৯৮ বার পড়া হয়েছে
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

বিশেষ প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত লিফট কোম্পানি সিগমা-র নাম, লোগো ও সুনাম অবলীলায় নকল করে দেশি বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে অসংখ্য নিম্নমানের ভুয়া লিফট। এতে শুধু সাধারণ ভোক্তাই নয়, হুমকির মুখে পড়েছে উচ্চতলা ভবনগুলোতেও জননিরাপত্তা।
বিশ্বখ্যাত Otis Elevator Company, USA-এর অনুমোদিত ব্র্যান্ড ‘SIGMA’— যার একমাত্র বাংলাদেশি অথরাইজড ডিস্ট্রিবিউটর হচ্ছে খান ব্রাদার্স ইক্যুবিল্ড লিমিটেড— সম্প্রতি অভিযোগ করেছে, বাজারে একাধিক প্রতিষ্ঠান অনুমোদনহীনভাবে সিগমা লোগো ব্যবহার করে নকল লিফট সরবরাহ করছে, যা মানহীন, বিপজ্জনক এবং প্রতারণামূলক।
ভয়াবহ প্রতারণা ও প্রতিফলন:
ব্যবসায়িক কারসাজির মাধ্যমে এই প্রতারক চক্র লিফটের দামি যন্ত্রাংশ বদলে নিম্নমানের মোটর, কন্ট্রোলার, ডোর ড্রাইভ, এসএস সিট বসিয়ে দিচ্ছে। এমনকি কিছু প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশেই নিজস্ব ওয়ার্কশপে এসব যন্ত্রাংশ তৈরি করে, পরে লিফটের বোর্ডে শুধু ‘SIGMA’ লিখে সেটিকে আসল বলে চালিয়ে দেয়। এতে ভবন মালিকরা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি লিফট ব্যবহারকারীরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন।
সরকারি উদাসীনতা:
খান ব্রাদার্স ইক্যুবিল্ড লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফায়েল কবির খান অভিযোগ করে জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, “একজন ব্যবসায়ী হিসেবে নয়, একজন সাধারণ ভোক্তা হিসেবে আমি বলছি— এই প্রতারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জনগণের জীবন নিয়ে প্রতিনিয়ত খেলা চলবে।
প্রতারণার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের Department of State থেকে Secretary of State Mr. Anthony Blinken স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তোফায়েল কবির।
জালিয়াতদের তালিকায় রয়েছে যারা:
ভুয়া SIGMA লিফট সরবরাহে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো: বাংলাদেশ বিল্ডিং অটোমেশন, মালিবাগ, ঢাকা। সিগমা এলিভেটর বাংলাদেশ লিমিটেড, দক্ষিনখান, ঢাকা। সিগমা লিফট লিমিটেড, কারওয়ান বাজার। ক্রেস্ট লিফটস লিমিটেড, মগবাজার, সিটি পাওয়ার লিফট, নামাপাড়া। সিগমা লিফট বিডি, মিরপুর। সিগমা লিফট সাংহাই, অনলাইন ভিত্তিক আজিজ লিফট টেকনোলজি লিমিটেড, মহাখালী।
এদের অনেকের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠান এখনও অবলীলায় ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
ভোক্তা অধিদপ্তরের রহস্যজনক নীরবতা:
ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম গত ১১ ফেব্রুয়ারি একটি চিঠিতে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২৩ ফেব্রুয়ারি কাওরানবাজার অফিসে হাজির হয়ে জবাব দিতে বলেন। কিন্তু অভিযোগের দিন নিজেই অনুপস্থিত থাকেন তিনি। এ ধরনের গাফিলতি শুধু রহস্যজনক নয়, বরং ভোক্তা অধিকার সুরক্ষার দায়বদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক ভুয়া স্বীকৃতি:
সিগমা ব্র্যান্ড গত অর্থ বছরে Sigma Elevator Co. Korea কর্তৃক স্বর্ণপদক অর্জন করে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ সংখ্যক লিফট সরবরাহের স্বীকৃতি। খান ব্রাদার্স এই অর্জনের অংশীদার হিসেবে গর্বিত হলেও, দেশে নকল লিফটের এমন ছড়াছড়ি সেই সুনামকে ধূলিসাৎ করছে।
তোফায়েল কবির খান বলেন, “নকলের এই ভয়াবহতা রুখতে প্রশাসনের উচিত দ্রুত ‘ভেজালবিরোধী অভিযান’ শুরু করা। সিগমার মতো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ব্র্যান্ডের স্বার্থ ও ভোক্তার জীবনরক্ষা এখন সময়ের দাবি।”
সচেতন জনগণের প্রশ্ন: ভোক্তার জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কী আছে?
প্রশাসনের উচিত দ্রুত এই জালিয়াত চক্রকে আইনের আওতায় আনা এবং ভোক্তার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের নিম্নমানের লিফট থেকে ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা, যার দায় কেউ এড়াতে পারবে না।
এই প্রতিবেদনটি একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে— যেখানে বিশ্বমানের পণ্যের ছদ্মবেশে নকল প্রযুক্তি ক্রমশ জনগণের জীবনের জন্য বিপদ ডেকে আনছে, আর দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষ রয়েছেন নীরব দর্শক হয়ে।
![]()

















