ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

দুদকে অভিযোগ:

রাজউকের সবুজ-মলির টাকা তৈরীর আশ্চর্য কেরামতি!

বিশেষ প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ মার্চ ২০২৩ ৪৬৭ বার পড়া হয়েছে

#চাকুরী রেখে ফাইলের দালালীতে ব্যস্ত। #ফাইলে স্বাক্ষর না করলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হুমকি! #‘মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা’ নামে কোন পদ নাই।

আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের জাদুর কান্ড! জাদু বা অলৌকিক কিছু মনে হলেও ঘটনার বাস্তবতা রাজউকের দুই কর্মচারীর সম্পদের জীবন কাহিনীতে।
রাজউকের কর্মচারী অভিনন্দন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ফলো করে সংবাদ প্রচারের হলেও তেমন কিছুই হয় না তাদের। কারণ চেয়ারম্যান সাহেবের দেউলিয়া ও ধান্দাবাজি চিন্তার প্রয়াসে সকল অপরাধী বহাল তবিয়তে চাকুরী করে যাচ্ছেন নির্বিঘ্নে। দূর্নীতি ও অনিয়ম পরিচালনা করতে কর্তাব্যক্তিরা এতটাই উদাসীন যে কখনও নিম্ন স্তরের কর্মচারী দুর্নীতি নিয়ে মাথাব্যথা হয় না তাদের।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) নামক সরকারী এই প্রতিষ্ঠানকে কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রীতিমতো ‘টাকা তৈরীর কারখানায়’ পরিণত করেছে। এখানে টাকা আয়ের বিষয়ে ‘পদ-পদবী’ কোন বাধাই নয়। সম্প্রতি রাজউকের দুই কর্মচারীর নামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের কপি এ প্রতিবেদকের হাতে পৌঁছেছে।

২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর মো. আমিনুল ইসলাম নামে জনৈক ব্যক্তি রাজউকের এস্টেট ও ভূমি-২ শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর জাহিদুল ইসলাম সবুজের নামে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজউকের সর্বস্তরের কর্মচারীদের পক্ষে একই ব্যক্তির নামে দুদকে লিখিত আবেদন করেন জনৈক মো. হেলাল উদ্দীন। আবেদনকারী ভিন্ন হলেও অভিযুক্তের বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগের ধরণ একই।

অভিযোগ মতে, ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এস্টেট ও ভূমি-২ শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং রাজউক শ্রমিক কর্মচারী লীগের কার্যকরী সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সবুজ। কোটি কোটি টাকার মালিক!

সরকারী স্কেল অনুযায়ী মাত্র ২৫/৩০ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী হয়েও কীভাবে এবং কোন উপায়ে তিনি এতো টাকার মালিক হলেন- তা বোধগম্য নয়। উল্লেখিত ব্যক্তি রাজউকে কোনকিছুরই তোয়াক্কা করেন না, নিজের খেয়াল-খুশিমতো অফিস করেন তিনি। অফিসের কাজ ফেলে অধিকাংশ সময়েই বিভিন্ন ফাইলের দালালীতে ব্যস্ত থাকেন। সবুজের তদবীরকৃত ফাইলে স্বাক্ষর না করলে কর্মকর্তাদের নানা রকমের হুমকিসহ তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ক্ষেত্রবিশেষে কর্মকর্তাদেরকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল ও শারিরিক নির্যাতন করেন বলেও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে সবুজের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে আরও জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে রাজউকে যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম ও ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ সবুজের বিরুদ্ধে। গত পাঁচ বছর রাজউকের এস্টেট ও ভূমি-২ শাখায় থেকে ঘুষের রাজত্ব কায়েম করেছেন তিনি, গড়েছেন বাড়ি-গাড়ি সম্পদের পাহাড়! দাপটের সাথে অনিয়ম-দুর্নীতি করেও ধরাছোঁয়ার বাইরে সবুজ। বর্তমানে উচ্চমান সহকারী হিসেবে (অ. দা.) দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ২০২১ সালের ১১ ডিসেম্বর গনমাধ্যমে প্রকাশিত ‘‘ঘুষের ওপেন হার্ট রাজউক: প্রভাবশালীদের পেছনে রাজনীতির শক্ত খুঁটি” প্রতিবেদনে উল্লেখিত ‘৪২১’ নম্বর কক্ষটিতেই বসেন জাহিদুল ইসলাম সবুজ। এই কক্ষেই ঘুষের যাবতীয় লেনদেন হয়ে থাকে সবুজের মধ্যস্থতায়। ফাইলের নথি গায়েব থেকে শুরু করে এক প্লট একাধিকজনের কাছে বিক্রি কিংবা প্যাকেজ ঘুষ, সব জায়গায় সবুজের ক্যারিশমাটিক ছোঁয়া আছে। রাজউকে ঘুষখোর এবং ধুরন্ধর কর্মচারীদের একজন হচ্ছেন- জাহিদুল ইসলাম সবুজ এস্টেট ও ভূমি-২ শাখায় ঘুষ লেনদেনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন সবুজ। ঘুষের টাকায় রাজধানী মাদারটেক কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় ১০ কাঠা জমিতে বেজমেন্টসহ নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে একাধিক শেয়ার কিনেছেন সবুজ। গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুরেও গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। বগুড়া শেরপুরেও বাড়ি করেছেন। সবুজের একটি নোহা ব্র্যান্ডের মাইক্রোবাস আছে যার নম্বর ঢাকা মেট্রো- ৫১৮৯৩৭। এছাড়াও গাজীপুর জেলার ভবানীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ে সংলগ্ন “রাজেন্দ্র ইকো রিসো অ্যান্ড ভিলেজ” নামে ৪ তলার অত্যাধুনিক ভবনের শেয়ারহোল্ডার জাহিদুল ইসলাম সবুজ। প্রায় প্রতিরাতেই বিভিন্ন বয়সী নারীদের অশ্লীল নৃত্য আর মদের আসর বসে ওই রিসোর্টে। সেই আসরের নিয়মিত মেহমান জাহিদুল ইসলাম সবুজ। রাজউকের সামান্য বেতনের একজন কর্মচারী হয়েও রাজকীয় জীবন-যাপন করেন তিনি। কাকরাইলে অবস্থিত ‘হোটেল রাজমণি’ ‘ঈশাখা’সহ রাজধানীর অভিজাত এলাকার ‘নামীদামী’ সব ক্লাব ও বারগুলোতে নিয়মিত মদপান ও নর্তকী নিয়ে নাচানাচি করেন সবুজ। মাতাল হয়ে নর্তকীদের শরীরে দু’হাতে টাকা ছিটানো তার প্রতিদিনের নেশা।

ফাতেমা বেগম মলি: অপরদিকে রাজউক জোন-৫ এর অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও উচ্চমান সহকারী (অ. দা.) ফাতেমা বেগম মলির স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন মেহেদী হাসান নামের জনৈক ভুক্তভোগী। ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দাখিলকৃত ওই অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন চাকরি করার সুবাদে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে রাজউকের ঠিকাদারদের জিম্মি করে রেখেছেন মলি। প্রাক্কলন, চুক্তিপত্র, বোর্ড সভার কর্মপত্র, ঠিকাদারদের বিল এবং প্ল্যান পাসের নথিসহ কোন ফাইলই টাকা ছাড়া ছাড়েন না। মলির অনিয়ম দুর্নীতির কারনে ঠিকানার ও গ্রাহক হয়রানি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার মালিক ফাতেমা বেগম মলি। রাজধানীর পূর্বাচলে ১৭নং সেক্টরে ৫ কাঠার একটি প্লট, ২২ নং সেক্টরে ৫ কাঠার একটি এবং ২৭ নং সেক্টরে ৫ কাঠার আরও একটি প্লটের মালিক মলি। রাজধানীর ঝিগাতলায় ১৫/এ, ডার্লি পয়েন্টে, হাফিজুল্লাহ গ্রীণ টাওয়ারে (লেভেল ই-৫) কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ৩টি ফ্ল্যাট আছে মলির। এছাড়া নারায়ণগঞ্জসহ মলির গ্রামের বাড়ি চাঁদপরেও গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। দামী নোহা গাড়ীতে (ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৪৬১৮) চড়ে অফিসে আসেন তিনি। একজন উচ্চমান সহকারি কীভাবে ফ্ল্যাট-গাড়ি-প্লটসহ কোটি কোটি টাকার মালিক হলেন-এ প্রশ্ন রাজউকের অনেকের।

ওই অভিযোগ থেকে জানা যায়, ধনাঢ্যজন হিসেবে রাজউকে ব্যাপক পরিচিতি তিনি। মলি নিজেকে রাজউক শ্রমিক কর্মচারী লীগের ‘মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা’ দাবী করে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করেন। অথচ কাগজে-কলমে রাজউক শ্রমিক কর্মচারীলীগে ‘মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা’ নামে কোন পদই নাই। মলির ঘুষ-দুর্নীতির বিষয়ে দুদকেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং তদন্তও চলছে।

এই অভিযোগের বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম ও সবুজের ফাতেমা বেগম মলির মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কেউই ফোন রিসিভ করেননি।

এই বিষয়ে জানতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞাকে তার সরকারী নাম্বারে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

Loading

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

দুদকে অভিযোগ:

রাজউকের সবুজ-মলির টাকা তৈরীর আশ্চর্য কেরামতি!

আপডেট সময় : ১১:১৩:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ মার্চ ২০২৩

#চাকুরী রেখে ফাইলের দালালীতে ব্যস্ত। #ফাইলে স্বাক্ষর না করলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হুমকি! #‘মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা’ নামে কোন পদ নাই।

আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের জাদুর কান্ড! জাদু বা অলৌকিক কিছু মনে হলেও ঘটনার বাস্তবতা রাজউকের দুই কর্মচারীর সম্পদের জীবন কাহিনীতে।
রাজউকের কর্মচারী অভিনন্দন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ফলো করে সংবাদ প্রচারের হলেও তেমন কিছুই হয় না তাদের। কারণ চেয়ারম্যান সাহেবের দেউলিয়া ও ধান্দাবাজি চিন্তার প্রয়াসে সকল অপরাধী বহাল তবিয়তে চাকুরী করে যাচ্ছেন নির্বিঘ্নে। দূর্নীতি ও অনিয়ম পরিচালনা করতে কর্তাব্যক্তিরা এতটাই উদাসীন যে কখনও নিম্ন স্তরের কর্মচারী দুর্নীতি নিয়ে মাথাব্যথা হয় না তাদের।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) নামক সরকারী এই প্রতিষ্ঠানকে কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রীতিমতো ‘টাকা তৈরীর কারখানায়’ পরিণত করেছে। এখানে টাকা আয়ের বিষয়ে ‘পদ-পদবী’ কোন বাধাই নয়। সম্প্রতি রাজউকের দুই কর্মচারীর নামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের কপি এ প্রতিবেদকের হাতে পৌঁছেছে।

২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর মো. আমিনুল ইসলাম নামে জনৈক ব্যক্তি রাজউকের এস্টেট ও ভূমি-২ শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর জাহিদুল ইসলাম সবুজের নামে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজউকের সর্বস্তরের কর্মচারীদের পক্ষে একই ব্যক্তির নামে দুদকে লিখিত আবেদন করেন জনৈক মো. হেলাল উদ্দীন। আবেদনকারী ভিন্ন হলেও অভিযুক্তের বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগের ধরণ একই।

অভিযোগ মতে, ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এস্টেট ও ভূমি-২ শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং রাজউক শ্রমিক কর্মচারী লীগের কার্যকরী সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সবুজ। কোটি কোটি টাকার মালিক!

সরকারী স্কেল অনুযায়ী মাত্র ২৫/৩০ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী হয়েও কীভাবে এবং কোন উপায়ে তিনি এতো টাকার মালিক হলেন- তা বোধগম্য নয়। উল্লেখিত ব্যক্তি রাজউকে কোনকিছুরই তোয়াক্কা করেন না, নিজের খেয়াল-খুশিমতো অফিস করেন তিনি। অফিসের কাজ ফেলে অধিকাংশ সময়েই বিভিন্ন ফাইলের দালালীতে ব্যস্ত থাকেন। সবুজের তদবীরকৃত ফাইলে স্বাক্ষর না করলে কর্মকর্তাদের নানা রকমের হুমকিসহ তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ক্ষেত্রবিশেষে কর্মকর্তাদেরকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল ও শারিরিক নির্যাতন করেন বলেও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে সবুজের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে আরও জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে রাজউকে যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম ও ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ সবুজের বিরুদ্ধে। গত পাঁচ বছর রাজউকের এস্টেট ও ভূমি-২ শাখায় থেকে ঘুষের রাজত্ব কায়েম করেছেন তিনি, গড়েছেন বাড়ি-গাড়ি সম্পদের পাহাড়! দাপটের সাথে অনিয়ম-দুর্নীতি করেও ধরাছোঁয়ার বাইরে সবুজ। বর্তমানে উচ্চমান সহকারী হিসেবে (অ. দা.) দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ২০২১ সালের ১১ ডিসেম্বর গনমাধ্যমে প্রকাশিত ‘‘ঘুষের ওপেন হার্ট রাজউক: প্রভাবশালীদের পেছনে রাজনীতির শক্ত খুঁটি” প্রতিবেদনে উল্লেখিত ‘৪২১’ নম্বর কক্ষটিতেই বসেন জাহিদুল ইসলাম সবুজ। এই কক্ষেই ঘুষের যাবতীয় লেনদেন হয়ে থাকে সবুজের মধ্যস্থতায়। ফাইলের নথি গায়েব থেকে শুরু করে এক প্লট একাধিকজনের কাছে বিক্রি কিংবা প্যাকেজ ঘুষ, সব জায়গায় সবুজের ক্যারিশমাটিক ছোঁয়া আছে। রাজউকে ঘুষখোর এবং ধুরন্ধর কর্মচারীদের একজন হচ্ছেন- জাহিদুল ইসলাম সবুজ এস্টেট ও ভূমি-২ শাখায় ঘুষ লেনদেনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন সবুজ। ঘুষের টাকায় রাজধানী মাদারটেক কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় ১০ কাঠা জমিতে বেজমেন্টসহ নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে একাধিক শেয়ার কিনেছেন সবুজ। গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুরেও গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। বগুড়া শেরপুরেও বাড়ি করেছেন। সবুজের একটি নোহা ব্র্যান্ডের মাইক্রোবাস আছে যার নম্বর ঢাকা মেট্রো- ৫১৮৯৩৭। এছাড়াও গাজীপুর জেলার ভবানীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ে সংলগ্ন “রাজেন্দ্র ইকো রিসো অ্যান্ড ভিলেজ” নামে ৪ তলার অত্যাধুনিক ভবনের শেয়ারহোল্ডার জাহিদুল ইসলাম সবুজ। প্রায় প্রতিরাতেই বিভিন্ন বয়সী নারীদের অশ্লীল নৃত্য আর মদের আসর বসে ওই রিসোর্টে। সেই আসরের নিয়মিত মেহমান জাহিদুল ইসলাম সবুজ। রাজউকের সামান্য বেতনের একজন কর্মচারী হয়েও রাজকীয় জীবন-যাপন করেন তিনি। কাকরাইলে অবস্থিত ‘হোটেল রাজমণি’ ‘ঈশাখা’সহ রাজধানীর অভিজাত এলাকার ‘নামীদামী’ সব ক্লাব ও বারগুলোতে নিয়মিত মদপান ও নর্তকী নিয়ে নাচানাচি করেন সবুজ। মাতাল হয়ে নর্তকীদের শরীরে দু’হাতে টাকা ছিটানো তার প্রতিদিনের নেশা।

ফাতেমা বেগম মলি: অপরদিকে রাজউক জোন-৫ এর অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও উচ্চমান সহকারী (অ. দা.) ফাতেমা বেগম মলির স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন মেহেদী হাসান নামের জনৈক ভুক্তভোগী। ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দাখিলকৃত ওই অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন চাকরি করার সুবাদে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে রাজউকের ঠিকাদারদের জিম্মি করে রেখেছেন মলি। প্রাক্কলন, চুক্তিপত্র, বোর্ড সভার কর্মপত্র, ঠিকাদারদের বিল এবং প্ল্যান পাসের নথিসহ কোন ফাইলই টাকা ছাড়া ছাড়েন না। মলির অনিয়ম দুর্নীতির কারনে ঠিকানার ও গ্রাহক হয়রানি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার মালিক ফাতেমা বেগম মলি। রাজধানীর পূর্বাচলে ১৭নং সেক্টরে ৫ কাঠার একটি প্লট, ২২ নং সেক্টরে ৫ কাঠার একটি এবং ২৭ নং সেক্টরে ৫ কাঠার আরও একটি প্লটের মালিক মলি। রাজধানীর ঝিগাতলায় ১৫/এ, ডার্লি পয়েন্টে, হাফিজুল্লাহ গ্রীণ টাওয়ারে (লেভেল ই-৫) কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ৩টি ফ্ল্যাট আছে মলির। এছাড়া নারায়ণগঞ্জসহ মলির গ্রামের বাড়ি চাঁদপরেও গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। দামী নোহা গাড়ীতে (ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৪৬১৮) চড়ে অফিসে আসেন তিনি। একজন উচ্চমান সহকারি কীভাবে ফ্ল্যাট-গাড়ি-প্লটসহ কোটি কোটি টাকার মালিক হলেন-এ প্রশ্ন রাজউকের অনেকের।

ওই অভিযোগ থেকে জানা যায়, ধনাঢ্যজন হিসেবে রাজউকে ব্যাপক পরিচিতি তিনি। মলি নিজেকে রাজউক শ্রমিক কর্মচারী লীগের ‘মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা’ দাবী করে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করেন। অথচ কাগজে-কলমে রাজউক শ্রমিক কর্মচারীলীগে ‘মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা’ নামে কোন পদই নাই। মলির ঘুষ-দুর্নীতির বিষয়ে দুদকেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং তদন্তও চলছে।

এই অভিযোগের বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম ও সবুজের ফাতেমা বেগম মলির মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কেউই ফোন রিসিভ করেননি।

এই বিষয়ে জানতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞাকে তার সরকারী নাম্বারে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

Loading