ঢাকা ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেলের হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: দুদকের অভিযোগ ও তদন্তে তোলপাড় Logo লালপুরে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেফতার Logo মোহনা টিভি দখলের অপচেষ্টা: মিরপুরে উত্তেজনা, থানায় জিডি Logo বন বিভাগে পদোন্নতি জট ও কর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগ: আদালতের হস্তক্ষেপে নতুন করে উত্তেজনা Logo জেল থেকে ফিরেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রকৌশলী জুয়েল রানা Logo থাইল্যান্ডের চিকিৎসা নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশে সেবা সম্প্রসারণে আগ্রহ ব্যাংককের বিএনএইচ হাসপাতালের Logo প্রধান প্রকৌশলীর বদলির আদেশ অমান্য, ঢাকাতেই বহাল ফ্যাসিস্টের দোসর উপসহকারী আব্দুল্লাহ-আল-মামুন Logo কক্সবাজারের রাজাঘাট রেঞ্জে বন ধ্বংসের মহোৎসব, অবৈধ করাতকলের দৌরাত্ম্যে উজাড়ের শঙ্কা Logo উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মাস্টাররোল কর্মচারীর সম্পদের পাহাড় Logo ভোলার সাবেক এসপি শরীফের বিরুদ্ধে কল্যাণ ফান্ডের দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ভিক্ষার টাকায় উপজেলা চেয়ারম্যান!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২২:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯ ২০০ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
পঞ্চম ধামে কামারখন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত এসএম শহিদুল্লাহ সবুজ বিপুল ভোটের ব্যবধানে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছেন। এলাকায় তার নামে কোনো জমিজমা, ঘর-বাড়ি কিছুই নেই।

বিভিন্ন শ্রেণি পেশার স্থানীয় ভোটারসহ দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শুভাকাঙ্ক্ষীরা অর্থনৈতিক সহযোগিতা করে নির্বাচনী খরচ চালিয়েছেন। এমনকি ভিক্ষুকরা প্রতিদিন ভিক্ষা করে যা আনতো তাও তুলে দিতেন শহিদুল্লাহ সবুজের হাতে।

এর আগে তিনি বিএনপি ও আওয়াম লীগ প্রার্থীদের হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সেবার নির্বাচিত হয়ে সামান্য জায়গা-জমি যা ছিল তা বিক্রি করে মানুষের সেবায় খরচ করেছেন।

এখন তিনি সহায় সম্বলহীন। পরিবার নিয়ে বসবাস করেন সিরাজগঞ্জ শহরের হোসেনপুর বাগানবাড়ি মহল্লায়। আদি বাড়ি কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের বড়ধুল গ্রামে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে কামারখন্দ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

তারা জানান, সহায় সম্বল বলতে শহিদুল্লাহ সবুজের কিছুই নেই। এলাকায় বাপ-দাদার কিছু জমিজমা ছিল। জনসেবা করতে গিয়ে সেগুলোও বিক্রি করে ফেলেছেন। দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন কিন্তু কোনোবারই তার টাকা ছিল না। এলাকার লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা বা চাল তুলে তার নির্বাচনী খরচ চালিয়েছেন।

বড়ধুল গ্রামের সাবেক মেম্বর ইসমাইল হোসেন (৭০) জানান, তার তো ভিটে বাড়ি কিছুই নেই। তিনি সিরাজগঞ্জে ভাড়া বাসায় থাকেন। ঠিকমতো বাড়ি ভাড়াও দিতে পারেন না।

কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি জনগণের টাকায় চলেন। নির্দিষ্ট কোনো ইনকাম নেই। বাড়িওয়ালা জানে তার কাছে বাড়ি ভাড়া দেয়ার মত তেমন সামর্থ নেই। কিন্তু সৎ ও নির্লোভ রাজনীতিক হওয়ায় সবাই তাকে ছাড় দিয়ে থাকেন।

একই গ্রামের আবদুল আউয়াল জানান, শহিদুল্লাহ সবুজ লোভ লালসার উর্ধ্বে। এর আগে তিনি ৫ বছর চেয়ারম্যান ছিলেন। তারপরও কোনো বাড়িঘর করতে পারেননি। তার বাড়িই ছিল উপজেলা অফিস। সেই জন্যই দলমত নির্বিশেষে উপজেলার সব জনগণ তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এসএম শহিদুল্লাহ সবুজকে বলেন, বাড়ি দিয়ে কী হবে। আমাকে খোঁজার জন্য জনগণকে বাড়িতে যেতে হয় না। আমিই তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেই।

তিনি আরও বলেন, আমার অফিসে কোনো পর্দা থাকবে না। আমি ভিক্ষুকের দেয়া ৭২ টাকা আর ৫ কেজি চাউল দিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছিলাম। এছাড়া আমার এলাকার মানুষসহ শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রচুর সহযোগিতা করেছেন। আমি শুধু ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি, টাকার চিন্তা করেছে জনগণ। এটা নিয়ে আমাকে কখনো ভাবতে হয়নি। জনগণের ভালোবাস ছাড়া আমার অন্য কিছুর প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ভিক্ষার টাকায় উপজেলা চেয়ারম্যান!

আপডেট সময় : ০৮:২২:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
পঞ্চম ধামে কামারখন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত এসএম শহিদুল্লাহ সবুজ বিপুল ভোটের ব্যবধানে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছেন। এলাকায় তার নামে কোনো জমিজমা, ঘর-বাড়ি কিছুই নেই।

বিভিন্ন শ্রেণি পেশার স্থানীয় ভোটারসহ দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শুভাকাঙ্ক্ষীরা অর্থনৈতিক সহযোগিতা করে নির্বাচনী খরচ চালিয়েছেন। এমনকি ভিক্ষুকরা প্রতিদিন ভিক্ষা করে যা আনতো তাও তুলে দিতেন শহিদুল্লাহ সবুজের হাতে।

এর আগে তিনি বিএনপি ও আওয়াম লীগ প্রার্থীদের হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সেবার নির্বাচিত হয়ে সামান্য জায়গা-জমি যা ছিল তা বিক্রি করে মানুষের সেবায় খরচ করেছেন।

এখন তিনি সহায় সম্বলহীন। পরিবার নিয়ে বসবাস করেন সিরাজগঞ্জ শহরের হোসেনপুর বাগানবাড়ি মহল্লায়। আদি বাড়ি কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের বড়ধুল গ্রামে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে কামারখন্দ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

তারা জানান, সহায় সম্বল বলতে শহিদুল্লাহ সবুজের কিছুই নেই। এলাকায় বাপ-দাদার কিছু জমিজমা ছিল। জনসেবা করতে গিয়ে সেগুলোও বিক্রি করে ফেলেছেন। দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন কিন্তু কোনোবারই তার টাকা ছিল না। এলাকার লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা বা চাল তুলে তার নির্বাচনী খরচ চালিয়েছেন।

বড়ধুল গ্রামের সাবেক মেম্বর ইসমাইল হোসেন (৭০) জানান, তার তো ভিটে বাড়ি কিছুই নেই। তিনি সিরাজগঞ্জে ভাড়া বাসায় থাকেন। ঠিকমতো বাড়ি ভাড়াও দিতে পারেন না।

কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি জনগণের টাকায় চলেন। নির্দিষ্ট কোনো ইনকাম নেই। বাড়িওয়ালা জানে তার কাছে বাড়ি ভাড়া দেয়ার মত তেমন সামর্থ নেই। কিন্তু সৎ ও নির্লোভ রাজনীতিক হওয়ায় সবাই তাকে ছাড় দিয়ে থাকেন।

একই গ্রামের আবদুল আউয়াল জানান, শহিদুল্লাহ সবুজ লোভ লালসার উর্ধ্বে। এর আগে তিনি ৫ বছর চেয়ারম্যান ছিলেন। তারপরও কোনো বাড়িঘর করতে পারেননি। তার বাড়িই ছিল উপজেলা অফিস। সেই জন্যই দলমত নির্বিশেষে উপজেলার সব জনগণ তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এসএম শহিদুল্লাহ সবুজকে বলেন, বাড়ি দিয়ে কী হবে। আমাকে খোঁজার জন্য জনগণকে বাড়িতে যেতে হয় না। আমিই তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেই।

তিনি আরও বলেন, আমার অফিসে কোনো পর্দা থাকবে না। আমি ভিক্ষুকের দেয়া ৭২ টাকা আর ৫ কেজি চাউল দিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছিলাম। এছাড়া আমার এলাকার মানুষসহ শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রচুর সহযোগিতা করেছেন। আমি শুধু ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি, টাকার চিন্তা করেছে জনগণ। এটা নিয়ে আমাকে কখনো ভাবতে হয়নি। জনগণের ভালোবাস ছাড়া আমার অন্য কিছুর প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।