ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চাকুরীচ্যুত প্রকৌশলী নাসির বহাল তবিয়তে পায়রা বন্দরে: গড়েছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়!  Logo যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সকল দলকে নিয়ে বিএনপির যৌথসভা Logo ১০ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে বরিশাল-৩ আসনে নৌকার প্রার্থী স্বপনের মনোনয়নপত্র দাখিল Logo রাজপথ বিএনপির দখলে না থাকলেও বিটিভি  বিএনপি জামায়াতের দখলে! Logo দেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বেস্ট হোল্ডিং Logo অগ্রণী ব্যাংকের ডিজিএম সৈয়দ সালমা উসমানের বেপরোয়া দুর্নীতি! Logo বরিশালের বাকেরগঞ্জে পল্লী চিকিৎসকের ঘরে লুটপাট Logo ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন এখন করাপশনের ত্রিমুখী জুটি Logo মনোনয়নপ্রত্যাশী ৩৩৬২ জনের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন শেখ হাসিনা Logo থিয়েটার কুবি’র নেতৃত্বে সুইটি-হান্নান




‘বিয়ের পর থেকে প্রতিরাতেই আমি ধর্ষিত’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৪:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯ ৭৪ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক; 

বিয়ের দিন আমি খুব অসুস্থ ছিলাম। বিয়ের যাবতীয় ধর্মীয় আচার, অতিথি অভ্যর্থনা করতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। গায়ে ধুম জ্বর নিয়েই সব করে যাচ্ছিলাম দম দেওয়া পুতুলের মতো। রাতে যখন ঘরে ঢুকলাম, তখন আমি ক্লান্ত, অসুস্থ, পরিশ্রান্ত। জ্বরটা বেড়েছে। আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম, বিয়ের রাতের সেই চরম মুহূর্তটা আমি আমার ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে দারুণ উপভোগ করব। কিন্তু সেদিন আমার সেই সামর্থ্য ছিল না। কিন্তু সেই একটা রাতেই যেন সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল। অসুস্থ শরীরটাকেই ছিঁড়ে খেল তথাকথিত স্বামী।

ওপরের কাহিনীটি দিল্লির বৃন্দা নামে মহিলার। বিবাহিত জীবনেও প্রতি মুহূর্তে কী ভাবে ধর্ষিত হন মহিলারা, তারই নৃশংস নজির বৃন্দা। ইন্টারনেট দুনিয়ায় বৃন্দার খোলা চিঠি ফেলে দিয়েছে আলোড়ন। কী ভাবে বিয়ের প্রথম রাত থেকেই স্বামীর নির্মম লালসার শিকার হয়েছেন তিনি. খোলা চিঠিতে লিখেছেন সবই। উদ্দেশ্য, সমাজের ভয়ে মুখ খুলতে না-পারা সেই সব অত্যাচারিত মহিলাদের সজাগ করা। পাঠকদের জন্য রইল বৃন্দার সেই খোলা চিঠি।

বৃন্দা লিখছেন,
আমি সব সময়ই ভেবেছিলাম, স্বামীকে খুব ভালোবাসব। দেহ, মন- সব কিছুই তাঁকে দেব। কিন্তু বিয়ের প্রথম রাতেই আমি হয়ে গেলাম স্রেফ একটা রক্ত মাংসের দেহ। যা নিয়ে যেমন ইচ্ছে খেলা করবে আমার স্বামী। বিয়ের দিন রাতে ঘরে ঢুকতেই আমাকে পিছন থেকে জাপটে ধরল স্বামী। আমার তখন মাথা ঘুরছে। গায়ে তীব্র জ্বর। বললাম, কাল সকালে এসব করলে হয় না। শরীরটা খুব খারাপ। হিংস্র প্রাণীর মতো কোনো কথাই সে শুনল না। আমার শরীর থেকে পোশাকগুলো কার্যত ছিঁড়ে ফেলল সে। আমি কাঁদতে শুরু করলাম। বললাম, দোহাই তোমার, আমার ভয় করছে। বলল, প্রথম দিন সবার ভয় করে। আমি নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু ও পাশবিক শক্তি দিয়ে আমাকে শুইয়ে দিল। বলল, আমি তোমার স্বামী, কিচ্ছু হবে না। আমি বললাম, আমাকে অন্তত আজকের রাতটা সময় দাও। সে বলল, অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছি, আর পারছি না। তারপর আমাকে নিয়ে মেতে গেল। ওদিকে আমার হৃদয়টাও ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।

আমি শুধু ভাবছিলাম, কিছুক্ষণ আগেও তো আমি পবিত্র ছিলাম। এক মুহূর্তে সব শেষ। আমি শুধু বললাম, তুমি এটা ঠিক করলে না। স্বামী বলল, আমি এই মুহূর্তটার জন্য অনেক দিন ধরেই অপেক্ষা করছিলাম। তারপর আমাকে জাপটে ধরল। যেন মোটা দড়ি দিয়ে আমায় বাঁধল। এবং অসম্ভব রেগে গেল। বলল, তোমাকে এই মুহূর্তটা উপভোগ করতেই হবে। তুমি এখন আমার স্ত্রী। অতএব, আমি যখন ইচ্ছে তোমার সঙ্গে সেক্স করব। যা করছি, করতে দাও। আমি ভয়ে, ঘৃণায় কুঁকড়ে গেলাম। তারপর থেকে যতবার ও আমার দেহটাকে উপভোগ করত, ততবার আমাকে অপমান করত। সব সময় শুধুই সেক্সের কথা বলত। কোনো গল্প করত না। প্রত্যেকটা দিন আমি ধর্ষিত হতাম। আমার শরীরটা থাকত বিছানায়। মনটা পড়ে থাকত অন্যদিকে। আমি মাটির পুতুলের মতো শুধু যা বলত শুনে যেতাম। ও আমায় রোজ বলত, আমি ওর যোগ্য নই। আমার যৌন চাহিদাই নেই। আচ্ছা, বিয়ে মানেই কি শুধু যৌনতা?

আমাদের সন্তানও হলো। তারপরও প্রতিরাতেই চলত ধর্ষণ। কেন জানি না, ও যখনই আমার ওপর শুতো, তখনই আমি চলে যেতাম অনেক অনেক দূরে। এই ভাবেই একদিন বুঝতে পারলাম, ও পরকীয়া করছে। অন্য নারীতে মজেছে। একদিন ওকে বোঝালাম, শুধু শরীরটাই সব। আমরা একে অপরের মনটাকে বুঝব না? একে অপরকে সম্মান করব না? না, ওর কাছে স্ত্রী মানে শুধুই যৌনসুখ। কেন বোঝাতে পারলাম না, একেই ধর্ষণ বলে। হ্যাঁ, বিয়ের পর থেকে প্রতিরাতেই আমি ধর্ষিত হই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




‘বিয়ের পর থেকে প্রতিরাতেই আমি ধর্ষিত’

আপডেট সময় : ১০:১৪:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক; 

বিয়ের দিন আমি খুব অসুস্থ ছিলাম। বিয়ের যাবতীয় ধর্মীয় আচার, অতিথি অভ্যর্থনা করতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। গায়ে ধুম জ্বর নিয়েই সব করে যাচ্ছিলাম দম দেওয়া পুতুলের মতো। রাতে যখন ঘরে ঢুকলাম, তখন আমি ক্লান্ত, অসুস্থ, পরিশ্রান্ত। জ্বরটা বেড়েছে। আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম, বিয়ের রাতের সেই চরম মুহূর্তটা আমি আমার ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে দারুণ উপভোগ করব। কিন্তু সেদিন আমার সেই সামর্থ্য ছিল না। কিন্তু সেই একটা রাতেই যেন সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল। অসুস্থ শরীরটাকেই ছিঁড়ে খেল তথাকথিত স্বামী।

ওপরের কাহিনীটি দিল্লির বৃন্দা নামে মহিলার। বিবাহিত জীবনেও প্রতি মুহূর্তে কী ভাবে ধর্ষিত হন মহিলারা, তারই নৃশংস নজির বৃন্দা। ইন্টারনেট দুনিয়ায় বৃন্দার খোলা চিঠি ফেলে দিয়েছে আলোড়ন। কী ভাবে বিয়ের প্রথম রাত থেকেই স্বামীর নির্মম লালসার শিকার হয়েছেন তিনি. খোলা চিঠিতে লিখেছেন সবই। উদ্দেশ্য, সমাজের ভয়ে মুখ খুলতে না-পারা সেই সব অত্যাচারিত মহিলাদের সজাগ করা। পাঠকদের জন্য রইল বৃন্দার সেই খোলা চিঠি।

বৃন্দা লিখছেন,
আমি সব সময়ই ভেবেছিলাম, স্বামীকে খুব ভালোবাসব। দেহ, মন- সব কিছুই তাঁকে দেব। কিন্তু বিয়ের প্রথম রাতেই আমি হয়ে গেলাম স্রেফ একটা রক্ত মাংসের দেহ। যা নিয়ে যেমন ইচ্ছে খেলা করবে আমার স্বামী। বিয়ের দিন রাতে ঘরে ঢুকতেই আমাকে পিছন থেকে জাপটে ধরল স্বামী। আমার তখন মাথা ঘুরছে। গায়ে তীব্র জ্বর। বললাম, কাল সকালে এসব করলে হয় না। শরীরটা খুব খারাপ। হিংস্র প্রাণীর মতো কোনো কথাই সে শুনল না। আমার শরীর থেকে পোশাকগুলো কার্যত ছিঁড়ে ফেলল সে। আমি কাঁদতে শুরু করলাম। বললাম, দোহাই তোমার, আমার ভয় করছে। বলল, প্রথম দিন সবার ভয় করে। আমি নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু ও পাশবিক শক্তি দিয়ে আমাকে শুইয়ে দিল। বলল, আমি তোমার স্বামী, কিচ্ছু হবে না। আমি বললাম, আমাকে অন্তত আজকের রাতটা সময় দাও। সে বলল, অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছি, আর পারছি না। তারপর আমাকে নিয়ে মেতে গেল। ওদিকে আমার হৃদয়টাও ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।

আমি শুধু ভাবছিলাম, কিছুক্ষণ আগেও তো আমি পবিত্র ছিলাম। এক মুহূর্তে সব শেষ। আমি শুধু বললাম, তুমি এটা ঠিক করলে না। স্বামী বলল, আমি এই মুহূর্তটার জন্য অনেক দিন ধরেই অপেক্ষা করছিলাম। তারপর আমাকে জাপটে ধরল। যেন মোটা দড়ি দিয়ে আমায় বাঁধল। এবং অসম্ভব রেগে গেল। বলল, তোমাকে এই মুহূর্তটা উপভোগ করতেই হবে। তুমি এখন আমার স্ত্রী। অতএব, আমি যখন ইচ্ছে তোমার সঙ্গে সেক্স করব। যা করছি, করতে দাও। আমি ভয়ে, ঘৃণায় কুঁকড়ে গেলাম। তারপর থেকে যতবার ও আমার দেহটাকে উপভোগ করত, ততবার আমাকে অপমান করত। সব সময় শুধুই সেক্সের কথা বলত। কোনো গল্প করত না। প্রত্যেকটা দিন আমি ধর্ষিত হতাম। আমার শরীরটা থাকত বিছানায়। মনটা পড়ে থাকত অন্যদিকে। আমি মাটির পুতুলের মতো শুধু যা বলত শুনে যেতাম। ও আমায় রোজ বলত, আমি ওর যোগ্য নই। আমার যৌন চাহিদাই নেই। আচ্ছা, বিয়ে মানেই কি শুধু যৌনতা?

আমাদের সন্তানও হলো। তারপরও প্রতিরাতেই চলত ধর্ষণ। কেন জানি না, ও যখনই আমার ওপর শুতো, তখনই আমি চলে যেতাম অনেক অনেক দূরে। এই ভাবেই একদিন বুঝতে পারলাম, ও পরকীয়া করছে। অন্য নারীতে মজেছে। একদিন ওকে বোঝালাম, শুধু শরীরটাই সব। আমরা একে অপরের মনটাকে বুঝব না? একে অপরকে সম্মান করব না? না, ওর কাছে স্ত্রী মানে শুধুই যৌনসুখ। কেন বোঝাতে পারলাম না, একেই ধর্ষণ বলে। হ্যাঁ, বিয়ের পর থেকে প্রতিরাতেই আমি ধর্ষিত হই।