ঢাকা ০৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গণপূর্ত প্রধান প্রকৌশলীর গাড়ি চাপায় পিষ্ট সহকারী প্রকৌশলী -উত্তাল গণপূর্ত Logo শাবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ Logo সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাহিনুরের সীমাহীন সম্পদ ও অনিয়ম -পর্ব-০১ Logo তামাক সেবনের আলাদা কক্ষ বানালেন গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী: রয়েছে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ! Logo দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি: কালবে সর্বোচ্চ পদ দখলে রেখেছে আগস্টিন! Logo আইআইএফসি ও মার্কটেল বাংলাদেশ’র মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর Logo ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী Logo সর্বজনীন পেনশন প্রত্যাহারে শাবি শিক্ষক সমিতি মৌন মিছিল ও কালোব্যাজ ধারণ Logo শাবিপ্রবিতে কুমিল্লা স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo শাবিপ্রবি কেন্দ্রে সুষ্ঠভাবে গুচ্ছভর্তির তিন ইউনিটের পরীক্ষা সম্পন্ন




এবার ‘ইয়াবা আমিন’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ ৭১ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধিঃ
তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করার পর প্রকাশ্যে আসে দেশের শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার সাইফুল করিমের নাম। এর পরের ইতিহাস সবারই জানা। সাইফুল করিম এখন অতীত।

এবার একইভাবে দুদকের মামলার গ্যাঁড়াকলে পড়লেন ইয়াবা ব্যবসায় অভিযুক্ত আরেক শীর্ষ গডফাদার মোহাম্মদ আমিন ওরফে ‘ইয়াবা আমিন’। তিনি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ডেইল পাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে ও চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় নিহত স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিনের বাবা। তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর ওআর নিজাম রোড এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন।

সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মোহাম্মদ আমিনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১৯ জুন) দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক শরিফ উদ্দিন ডবলমুরিং থানায় এ মামলা করেন।

ডবলমুরিং থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার নামে মামলাটি দুদক আইন-২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি। পুলিশের দাবি, মোহাম্মদ আমিন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

গত ২২ মে দুদকের পক্ষ থেকে ইয়াবা আমিনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেয়া হয়। সম্পদের হিসাব চেয়ে তার স্ত্রীকেও নোটিশ দেয়া হয়েছে।

ডবলমুরিং থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ বলেন, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগে মোহাম্মদ আমিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজহারে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২০ জুন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এ সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন মো. আমিন। এতে আমিন নিজের নামে মোট এক কোটি ৪১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৫ টাকার অস্থাবর সম্পদ প্রদর্শন করেন। কিন্তু অনুসন্ধানে এক কোটি ৭৩ লাখ ৮২ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদের তথ্য পায় দুদক। এ ছাড়াও দুদক আরও তথ্য পায়, আমিন ৬ কোটি ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

এদিকে মামলার কথা প্রচার পাবার পর আমিনকে নিয়ে চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ চলছে। আমিনের জন্য সাইফুল করিমের মতো ভাগ্য অপেক্ষা করছে কি-না সেটাও দেখার প্রতিক্ষায় রয়েছেন টেকনাফবাসী।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২ মে সকালে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গার ১৮ নম্বর ব্রিজঘাটে কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন থানায় গিয়ে তা মোহাম্মদ আমিনের মেয়ে তাসফিয়া আমিনের বলে শনাক্ত করেন। তাসফিয়া নগরীর সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এ ঘটনায় ৩ মে মোহাম্মদ আমিন তাসফিয়ার ছেলে বন্ধু আদনানকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নামে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সোহেল (১৭), শওকত মিরাজ (১৭), আসিফ মিজান (১৭), ইমতিয়াজ ইকরাম (১৭), সুলতান (২৪) ও ফিরোজ (৩০)।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




এবার ‘ইয়াবা আমিন’

আপডেট সময় : ০৫:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯

জেলা প্রতিনিধিঃ
তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করার পর প্রকাশ্যে আসে দেশের শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার সাইফুল করিমের নাম। এর পরের ইতিহাস সবারই জানা। সাইফুল করিম এখন অতীত।

এবার একইভাবে দুদকের মামলার গ্যাঁড়াকলে পড়লেন ইয়াবা ব্যবসায় অভিযুক্ত আরেক শীর্ষ গডফাদার মোহাম্মদ আমিন ওরফে ‘ইয়াবা আমিন’। তিনি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ডেইল পাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে ও চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় নিহত স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিনের বাবা। তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর ওআর নিজাম রোড এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন।

সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মোহাম্মদ আমিনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১৯ জুন) দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক শরিফ উদ্দিন ডবলমুরিং থানায় এ মামলা করেন।

ডবলমুরিং থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার নামে মামলাটি দুদক আইন-২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি। পুলিশের দাবি, মোহাম্মদ আমিন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

গত ২২ মে দুদকের পক্ষ থেকে ইয়াবা আমিনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেয়া হয়। সম্পদের হিসাব চেয়ে তার স্ত্রীকেও নোটিশ দেয়া হয়েছে।

ডবলমুরিং থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ বলেন, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগে মোহাম্মদ আমিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজহারে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২০ জুন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এ সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন মো. আমিন। এতে আমিন নিজের নামে মোট এক কোটি ৪১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৫ টাকার অস্থাবর সম্পদ প্রদর্শন করেন। কিন্তু অনুসন্ধানে এক কোটি ৭৩ লাখ ৮২ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদের তথ্য পায় দুদক। এ ছাড়াও দুদক আরও তথ্য পায়, আমিন ৬ কোটি ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

এদিকে মামলার কথা প্রচার পাবার পর আমিনকে নিয়ে চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ চলছে। আমিনের জন্য সাইফুল করিমের মতো ভাগ্য অপেক্ষা করছে কি-না সেটাও দেখার প্রতিক্ষায় রয়েছেন টেকনাফবাসী।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২ মে সকালে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গার ১৮ নম্বর ব্রিজঘাটে কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন থানায় গিয়ে তা মোহাম্মদ আমিনের মেয়ে তাসফিয়া আমিনের বলে শনাক্ত করেন। তাসফিয়া নগরীর সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এ ঘটনায় ৩ মে মোহাম্মদ আমিন তাসফিয়ার ছেলে বন্ধু আদনানকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নামে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সোহেল (১৭), শওকত মিরাজ (১৭), আসিফ মিজান (১৭), ইমতিয়াজ ইকরাম (১৭), সুলতান (২৪) ও ফিরোজ (৩০)।