ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতার আগুন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ এপ্রিল ২০১৯ ৩৪৪ বার পড়া হয়েছে

কোনো ধরনের দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা ও দামবৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে গত দুই সপ্তাহ ধরে। ব্রয়লার মুরগির দাম যেখানে ছিল কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, সেখানে কোনো কারণ ছাড়াই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে শুক্রবার তা বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। খোদ টিসিবির মূল্য তালিকায়ও এক মাসের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮ শতাংশ বেশি দেখানো হয়েছে।

এছাড়া কক ও পাকিস্তানি মুরগির দামও দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া মাছের বাজারেও চলছে বাড়তি অস্থিরতা। রুই, পাঙ্গাশ, শিং, পাবদা, টেংরা- সব মাছই ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে নগরবাসীকে। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৪৮০ থেকে ৫০০ এবং খাসির মাংস কেজিপ্রতি ৭৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতার কথা বলা হলেও এর পেছনে কাজ করছে বছরখানেক আগে সরকার ও জনগণকে জিম্মি করে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের নিজ থেকে দাম বাড়িয়ে নেয়ার বিষয়টি।

এদিকে কোনো কারণ ছাড়াই পাঁচ লিটারের বোতলের সয়াবিন তেল ১০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রায় সব ধরনের সবজিতেও একই অবস্থা। দোকানিরা বলছেন, শীতের সবজি বিদায়ের সময়ের কারণে সরবরাহ কম এবং গ্রীষ্মের সবজি এখনও ভালোভাবে বাজারে না আসায় দাম বেশি। আসলে আমাদের দেশে কোনো কিছুর দাম বাড়ানো-কমানোর পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ থাকে না, ব্যবসায়ীদের মর্জিই এক্ষেত্রে চূড়ান্ত। বর্তমান বাজারে অস্থিরতার পেছনেও সেই মানসিকতাই কাজ করছে।

বর্তমানে আরবি জমাদিউস সানি মাস চলছে এবং দুই মাস পরই রমজান মাস। প্রতি বছরই রমজান মাস সামনে রেখে আগে থেকেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে নেয়ার অঘোষিত একটি চেষ্টা চালিয়ে থাকেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমান অস্থির বাজারের পেছনেও তেমনটি কাজ করছে কিনা, খতিয়ে দেখে আগাম ব্যবস্থা নেয়া দরকার। কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ ছাড়া নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া এবং বাজারকে অস্থির করে তোলা সভ্য সমাজের কাজ নয়।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা নিজেদের বেলায় তেমনটিই দেখে আসছি। শুধু তাই নয়, বাড়িয়ে দেয়া নিত্যপণ্যের দাম পরে সরকার অভিযান চালিয়ে কমাতে পারে না। চালের বেপরোয়া দামবৃদ্ধির সময় তেমনটিই দেখা গেছে। এ অবস্থায় সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম যৌক্তিক রাখার বিকল্প নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতার আগুন

আপডেট সময় : ১০:২০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ এপ্রিল ২০১৯

কোনো ধরনের দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা ও দামবৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে গত দুই সপ্তাহ ধরে। ব্রয়লার মুরগির দাম যেখানে ছিল কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, সেখানে কোনো কারণ ছাড়াই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে শুক্রবার তা বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। খোদ টিসিবির মূল্য তালিকায়ও এক মাসের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮ শতাংশ বেশি দেখানো হয়েছে।

এছাড়া কক ও পাকিস্তানি মুরগির দামও দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া মাছের বাজারেও চলছে বাড়তি অস্থিরতা। রুই, পাঙ্গাশ, শিং, পাবদা, টেংরা- সব মাছই ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে নগরবাসীকে। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৪৮০ থেকে ৫০০ এবং খাসির মাংস কেজিপ্রতি ৭৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতার কথা বলা হলেও এর পেছনে কাজ করছে বছরখানেক আগে সরকার ও জনগণকে জিম্মি করে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের নিজ থেকে দাম বাড়িয়ে নেয়ার বিষয়টি।

এদিকে কোনো কারণ ছাড়াই পাঁচ লিটারের বোতলের সয়াবিন তেল ১০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রায় সব ধরনের সবজিতেও একই অবস্থা। দোকানিরা বলছেন, শীতের সবজি বিদায়ের সময়ের কারণে সরবরাহ কম এবং গ্রীষ্মের সবজি এখনও ভালোভাবে বাজারে না আসায় দাম বেশি। আসলে আমাদের দেশে কোনো কিছুর দাম বাড়ানো-কমানোর পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ থাকে না, ব্যবসায়ীদের মর্জিই এক্ষেত্রে চূড়ান্ত। বর্তমান বাজারে অস্থিরতার পেছনেও সেই মানসিকতাই কাজ করছে।

বর্তমানে আরবি জমাদিউস সানি মাস চলছে এবং দুই মাস পরই রমজান মাস। প্রতি বছরই রমজান মাস সামনে রেখে আগে থেকেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে নেয়ার অঘোষিত একটি চেষ্টা চালিয়ে থাকেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমান অস্থির বাজারের পেছনেও তেমনটি কাজ করছে কিনা, খতিয়ে দেখে আগাম ব্যবস্থা নেয়া দরকার। কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ ছাড়া নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া এবং বাজারকে অস্থির করে তোলা সভ্য সমাজের কাজ নয়।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা নিজেদের বেলায় তেমনটিই দেখে আসছি। শুধু তাই নয়, বাড়িয়ে দেয়া নিত্যপণ্যের দাম পরে সরকার অভিযান চালিয়ে কমাতে পারে না। চালের বেপরোয়া দামবৃদ্ধির সময় তেমনটিই দেখা গেছে। এ অবস্থায় সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম যৌক্তিক রাখার বিকল্প নেই।