ঢাকা ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ১৭ মার্চ ও ২৬ মার্চের আহ্বায়কসহ তিনজনকে প্রত্যাহারের আহ্বান কুবি শিক্ষক সমিতির Logo সিলেটে সাইবার ট্রাইব্যুনালে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের Logo ড. ইউনূসের মামলা পর্যবেক্ষণ করছে জাতিসংঘ Logo কাভার্ডভ্যান ও অটোরিকশার সংঘর্ষে ছাত্র নিহত, আহত ৩ Logo রাজশাহীতে যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫ Logo এবার ঢাবি অধ্যাপক নাদিরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ  Logo সন্দ্বীপ থানার ওসির পিপিএম পদক লাভ Logo মালয়েশিয়ায় ১৩৪ বাংলাদেশি গ্রেফতার Logo শাবির ছাত্রীহলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্থাপন, কমবে চুরি ও বহিরাগত প্রবেশ, বাড়বে নিরাপত্তা Logo গণতন্ত্র মঞ্চের কর্মসূচিতে হামলার নিন্দা ১২ দলীয় জোটের




নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতার আগুন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ এপ্রিল ২০১৯ ১১৯ বার পড়া হয়েছে

কোনো ধরনের দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা ও দামবৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে গত দুই সপ্তাহ ধরে। ব্রয়লার মুরগির দাম যেখানে ছিল কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, সেখানে কোনো কারণ ছাড়াই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে শুক্রবার তা বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। খোদ টিসিবির মূল্য তালিকায়ও এক মাসের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮ শতাংশ বেশি দেখানো হয়েছে।

এছাড়া কক ও পাকিস্তানি মুরগির দামও দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া মাছের বাজারেও চলছে বাড়তি অস্থিরতা। রুই, পাঙ্গাশ, শিং, পাবদা, টেংরা- সব মাছই ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে নগরবাসীকে। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৪৮০ থেকে ৫০০ এবং খাসির মাংস কেজিপ্রতি ৭৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতার কথা বলা হলেও এর পেছনে কাজ করছে বছরখানেক আগে সরকার ও জনগণকে জিম্মি করে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের নিজ থেকে দাম বাড়িয়ে নেয়ার বিষয়টি।

এদিকে কোনো কারণ ছাড়াই পাঁচ লিটারের বোতলের সয়াবিন তেল ১০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রায় সব ধরনের সবজিতেও একই অবস্থা। দোকানিরা বলছেন, শীতের সবজি বিদায়ের সময়ের কারণে সরবরাহ কম এবং গ্রীষ্মের সবজি এখনও ভালোভাবে বাজারে না আসায় দাম বেশি। আসলে আমাদের দেশে কোনো কিছুর দাম বাড়ানো-কমানোর পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ থাকে না, ব্যবসায়ীদের মর্জিই এক্ষেত্রে চূড়ান্ত। বর্তমান বাজারে অস্থিরতার পেছনেও সেই মানসিকতাই কাজ করছে।

বর্তমানে আরবি জমাদিউস সানি মাস চলছে এবং দুই মাস পরই রমজান মাস। প্রতি বছরই রমজান মাস সামনে রেখে আগে থেকেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে নেয়ার অঘোষিত একটি চেষ্টা চালিয়ে থাকেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমান অস্থির বাজারের পেছনেও তেমনটি কাজ করছে কিনা, খতিয়ে দেখে আগাম ব্যবস্থা নেয়া দরকার। কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ ছাড়া নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া এবং বাজারকে অস্থির করে তোলা সভ্য সমাজের কাজ নয়।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা নিজেদের বেলায় তেমনটিই দেখে আসছি। শুধু তাই নয়, বাড়িয়ে দেয়া নিত্যপণ্যের দাম পরে সরকার অভিযান চালিয়ে কমাতে পারে না। চালের বেপরোয়া দামবৃদ্ধির সময় তেমনটিই দেখা গেছে। এ অবস্থায় সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম যৌক্তিক রাখার বিকল্প নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতার আগুন

আপডেট সময় : ১০:২০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ এপ্রিল ২০১৯

কোনো ধরনের দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা ও দামবৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে গত দুই সপ্তাহ ধরে। ব্রয়লার মুরগির দাম যেখানে ছিল কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, সেখানে কোনো কারণ ছাড়াই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে শুক্রবার তা বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। খোদ টিসিবির মূল্য তালিকায়ও এক মাসের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮ শতাংশ বেশি দেখানো হয়েছে।

এছাড়া কক ও পাকিস্তানি মুরগির দামও দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া মাছের বাজারেও চলছে বাড়তি অস্থিরতা। রুই, পাঙ্গাশ, শিং, পাবদা, টেংরা- সব মাছই ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে নগরবাসীকে। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৪৮০ থেকে ৫০০ এবং খাসির মাংস কেজিপ্রতি ৭৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতার কথা বলা হলেও এর পেছনে কাজ করছে বছরখানেক আগে সরকার ও জনগণকে জিম্মি করে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের নিজ থেকে দাম বাড়িয়ে নেয়ার বিষয়টি।

এদিকে কোনো কারণ ছাড়াই পাঁচ লিটারের বোতলের সয়াবিন তেল ১০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রায় সব ধরনের সবজিতেও একই অবস্থা। দোকানিরা বলছেন, শীতের সবজি বিদায়ের সময়ের কারণে সরবরাহ কম এবং গ্রীষ্মের সবজি এখনও ভালোভাবে বাজারে না আসায় দাম বেশি। আসলে আমাদের দেশে কোনো কিছুর দাম বাড়ানো-কমানোর পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ থাকে না, ব্যবসায়ীদের মর্জিই এক্ষেত্রে চূড়ান্ত। বর্তমান বাজারে অস্থিরতার পেছনেও সেই মানসিকতাই কাজ করছে।

বর্তমানে আরবি জমাদিউস সানি মাস চলছে এবং দুই মাস পরই রমজান মাস। প্রতি বছরই রমজান মাস সামনে রেখে আগে থেকেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে নেয়ার অঘোষিত একটি চেষ্টা চালিয়ে থাকেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমান অস্থির বাজারের পেছনেও তেমনটি কাজ করছে কিনা, খতিয়ে দেখে আগাম ব্যবস্থা নেয়া দরকার। কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ ছাড়া নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া এবং বাজারকে অস্থির করে তোলা সভ্য সমাজের কাজ নয়।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা নিজেদের বেলায় তেমনটিই দেখে আসছি। শুধু তাই নয়, বাড়িয়ে দেয়া নিত্যপণ্যের দাম পরে সরকার অভিযান চালিয়ে কমাতে পারে না। চালের বেপরোয়া দামবৃদ্ধির সময় তেমনটিই দেখা গেছে। এ অবস্থায় সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম যৌক্তিক রাখার বিকল্প নেই।