ঢাকা ০৩:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

গৃহ নির্মাণে ঋণ পাবে ৪০ হাজার পরিবার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: গৃহ নির্মাণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১০ কোটি ডলারের একটি নমনীয় ঋণ অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ঋণগ্রহীতা—বিশেষ করে নারীদের জন্য সাশ্রয়ী ও দুর্যোগ-সহনশীল আবাসন ঋণের সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই ঋণ অনুমোদন। ৪০ হাজার পরিবারকে ঋণ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ (রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর) এ অনুমোদন দেয়া হয় বলে সংস্থাটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

এডিবির অর্থায়নে ‘ইনক্লুসিভ অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ফাইন্যান্স প্রজেক্ট’ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে পল্লি কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং অনুমোদিত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর (এমএফআই) মাধ্যমে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি ও জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া হবে। এসব ঋণ দিয়ে পরিবারগুলো বাড়ি নির্মাণ, মেরামত ও উন্নয়ন করতে পারবে।

এডিবি বলছে, বাংলাদেশে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের বড় ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল অনেক পরিবার প্রচলিত ব্যাংক ও বন্ধকভিত্তিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে আবাসন ঋণ পাওয়ার সুযোগ পায় না। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে এসব পরিবারের আবাসন অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো হবে।

এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বলেন, আবাসন মানুষের মর্যাদা, সুযোগ ও সহনশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে, বিশেষ করে নারীদের, আরও নিরাপদ ও দুর্যোগ সহনশীল বাড়িতে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়ে এই প্রকল্প দারিদ্র্য কমানো, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, মানব উন্নয়ন এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের ভূমিকা রাখবে।

এডিবির প্রকল্পের আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে অন্তত ৪০ হাজার পরিবারকে আবাসন ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩২ হাজার নারী এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী অন্তত ২৪ হাজার ঋণগ্রহীতা থাকবেন। প্রকল্পের আওতায় আর্থিক ও ভূমি-সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসন অধিকার সম্পর্কে ঋণগ্রহীতাদের সচেতন করা হবে। নারীদের আবাসন নিরাপত্তা জোরদার করতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার স্বামী বা স্ত্রীর বসবাসের ব্যবস্থা-সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে নথিভুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। আবাসনকে আরও দুর্যোগসহনশীল করতে বাড়ির নকশা, নির্মাণপ্রক্রিয়া এবং দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলার বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর ফলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং অন্যান্য দুর্যোগ ও চরম আবহাওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় বাড়িগুলো আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।

এডিবি জানিয়েছে, সারা দেশে আবাসন ক্ষুদ্রঋণের পরিধি দীর্ঘমেয়াদে বাড়াতে পিকেএসএফ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এ জন্য উন্নত তথ্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা, দুর্যোগঝুঁকি যাচাই, ঋণ পোর্টফোলিও পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটাল রিপোর্টিং ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের আবাসন অর্থায়ন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে এডিবি।

প্রকল্পের ১০ কোটি ডলারের অর্থায়নের মধ্যে ৪ কোটি ডলার এডিবির জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়ন থেকে দেওয়া হবে। পাশাপাশি কারিগরি সহায়তা হিসেবে আরও ৬ লাখ ডলার অনুদান দেওয়া হবে বলে জানায় সংস্থাটি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

গৃহ নির্মাণে ঋণ পাবে ৪০ হাজার পরিবার

আপডেট সময় : ০৭:৫৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: গৃহ নির্মাণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১০ কোটি ডলারের একটি নমনীয় ঋণ অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ঋণগ্রহীতা—বিশেষ করে নারীদের জন্য সাশ্রয়ী ও দুর্যোগ-সহনশীল আবাসন ঋণের সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই ঋণ অনুমোদন। ৪০ হাজার পরিবারকে ঋণ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ (রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর) এ অনুমোদন দেয়া হয় বলে সংস্থাটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

এডিবির অর্থায়নে ‘ইনক্লুসিভ অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ফাইন্যান্স প্রজেক্ট’ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে পল্লি কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং অনুমোদিত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর (এমএফআই) মাধ্যমে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি ও জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া হবে। এসব ঋণ দিয়ে পরিবারগুলো বাড়ি নির্মাণ, মেরামত ও উন্নয়ন করতে পারবে।

এডিবি বলছে, বাংলাদেশে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের বড় ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল অনেক পরিবার প্রচলিত ব্যাংক ও বন্ধকভিত্তিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে আবাসন ঋণ পাওয়ার সুযোগ পায় না। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে এসব পরিবারের আবাসন অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো হবে।

এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বলেন, আবাসন মানুষের মর্যাদা, সুযোগ ও সহনশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে, বিশেষ করে নারীদের, আরও নিরাপদ ও দুর্যোগ সহনশীল বাড়িতে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়ে এই প্রকল্প দারিদ্র্য কমানো, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, মানব উন্নয়ন এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের ভূমিকা রাখবে।

এডিবির প্রকল্পের আওতায় ২০৩১ সালের মধ্যে অন্তত ৪০ হাজার পরিবারকে আবাসন ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩২ হাজার নারী এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী অন্তত ২৪ হাজার ঋণগ্রহীতা থাকবেন। প্রকল্পের আওতায় আর্থিক ও ভূমি-সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসন অধিকার সম্পর্কে ঋণগ্রহীতাদের সচেতন করা হবে। নারীদের আবাসন নিরাপত্তা জোরদার করতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার স্বামী বা স্ত্রীর বসবাসের ব্যবস্থা-সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে নথিভুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। আবাসনকে আরও দুর্যোগসহনশীল করতে বাড়ির নকশা, নির্মাণপ্রক্রিয়া এবং দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলার বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর ফলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং অন্যান্য দুর্যোগ ও চরম আবহাওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় বাড়িগুলো আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।

এডিবি জানিয়েছে, সারা দেশে আবাসন ক্ষুদ্রঋণের পরিধি দীর্ঘমেয়াদে বাড়াতে পিকেএসএফ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এ জন্য উন্নত তথ্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা, দুর্যোগঝুঁকি যাচাই, ঋণ পোর্টফোলিও পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটাল রিপোর্টিং ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের আবাসন অর্থায়ন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে এডিবি।

প্রকল্পের ১০ কোটি ডলারের অর্থায়নের মধ্যে ৪ কোটি ডলার এডিবির জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়ন থেকে দেওয়া হবে। পাশাপাশি কারিগরি সহায়তা হিসেবে আরও ৬ লাখ ডলার অনুদান দেওয়া হবে বলে জানায় সংস্থাটি।