ঢাকা ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাসের সমস্যা ভেবে হার্ট অ্যাটাকের ৪টি নীরব সংকেত অবহেলা করলেই বিপদ Logo এবার জুলাই হত্যা মামলায় কারাগারে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি Logo বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরের মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন রাষ্ট্রপতি Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন : মীর শাহে আলম Logo নিজের নামে টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে যা বললেন মেসি! Logo আফগানিস্তানের ১০ স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা পাকিস্তানের Logo রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী Logo ট্রাম্পের সঙ্গে খলিলুর রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময় Logo মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে সস্ত্রীক প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

টাকা তুলতে আসেননি অর্ধেক গ্রাহক, নতুন আমানত এলো ২৭০০ কোটি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৬:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার আবেদন করলেও তা তুলতে আসছেন না অনেক গ্রাহক। আবেদনকারীদের তুলনায় প্রতিদিনই কম সংখ্যক গ্রাহক টাকা উত্তোলন করছেন। উল্টো ব্যাংকে নতুন করে অর্থের প্রবাহ এবং স্বাভাবিক লেনদেন অব্যাহত রয়েছে, যা গ্রাহকদের আস্থা বাড়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্যাংকটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রয়োজনে টাকা উত্তোলনের জন্য মোট ৬ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকার আবেদন করেছেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮২ জন গ্রাহক। তবে আবেদনকারীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৯০ হাজার ৯৮ জন গ্রাহক ৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন।

অর্থাৎ, টাকা উত্তোলনের আবেদন করা গ্রাহকদের প্রায় অর্ধেকই এখন পর্যন্ত তাদের অর্থ উত্তোলন করেননি। একইভাবে আবেদন করা অর্থেরও বড় একটি অংশ ব্যাংকেই রয়ে গেছে।

এদিকে, একই সময়ে (১ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর) সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আমানত এসেছে। এর বাইরে ব্যাংকটিতে নতুন হিসাব খোলার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটিতে নতুন করে ৩২ হাজার ৭৪টি হিসাব খোলা হয়েছে। এসব নতুন হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৩৭৮ কোটি টাকার নতুন আমানত এসেছে।

ব্যাংকটির কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রাহকদের একটি অংশ টাকা উত্তোলনের আবেদন করলেও প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে অর্থ তুলছেন। ফলে আবেদন করা অর্থের পুরোটা একসঙ্গে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে না। একই সময়ে নতুন আমানত আসা এবং নতুন হিসাব খোলার বিষয়টি ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ বিষয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি ব্যাংকে অর্থের প্রবাহও অব্যাহত রয়েছে। ব্যক্তিগত হিসাবগুলোতে স্বাভাবিকভাবে লেনদেন কার্যক্রম চলছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা

ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল আমানতের টাকা ফেরত দিতে তারল্য সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এই অর্থের মাধ্যমে ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে মেয়াদি আমানতের পুরো মূল টাকা এককালীন তুলে নিলে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। সে ক্ষেত্রে কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, যারা এখনই টাকা তুলবেন না এবং আমানত চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন। ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সময়ে মুনাফাসহ অর্থ জমা ও উত্তোলনের পূর্ণ সুযোগ থাকবে।

চরম অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির কারণে সংকটে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার আমানত ছিল। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবেই রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, সাময়িক এই সংকট কাটিয়ে উঠে ব্যাংকটি এখন স্বাভাবিক কার্যক্রমের দিকে ফিরছে এবং গ্রাহকদের আস্থা ধীরে ধীরে পুনর্বহাল হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

টাকা তুলতে আসেননি অর্ধেক গ্রাহক, নতুন আমানত এলো ২৭০০ কোটি

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার আবেদন করলেও তা তুলতে আসছেন না অনেক গ্রাহক। আবেদনকারীদের তুলনায় প্রতিদিনই কম সংখ্যক গ্রাহক টাকা উত্তোলন করছেন। উল্টো ব্যাংকে নতুন করে অর্থের প্রবাহ এবং স্বাভাবিক লেনদেন অব্যাহত রয়েছে, যা গ্রাহকদের আস্থা বাড়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্যাংকটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রয়োজনে টাকা উত্তোলনের জন্য মোট ৬ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকার আবেদন করেছেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮২ জন গ্রাহক। তবে আবেদনকারীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৯০ হাজার ৯৮ জন গ্রাহক ৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন।

অর্থাৎ, টাকা উত্তোলনের আবেদন করা গ্রাহকদের প্রায় অর্ধেকই এখন পর্যন্ত তাদের অর্থ উত্তোলন করেননি। একইভাবে আবেদন করা অর্থেরও বড় একটি অংশ ব্যাংকেই রয়ে গেছে।

এদিকে, একই সময়ে (১ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর) সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আমানত এসেছে। এর বাইরে ব্যাংকটিতে নতুন হিসাব খোলার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটিতে নতুন করে ৩২ হাজার ৭৪টি হিসাব খোলা হয়েছে। এসব নতুন হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৩৭৮ কোটি টাকার নতুন আমানত এসেছে।

ব্যাংকটির কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রাহকদের একটি অংশ টাকা উত্তোলনের আবেদন করলেও প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে অর্থ তুলছেন। ফলে আবেদন করা অর্থের পুরোটা একসঙ্গে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে না। একই সময়ে নতুন আমানত আসা এবং নতুন হিসাব খোলার বিষয়টি ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ বিষয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি ব্যাংকে অর্থের প্রবাহও অব্যাহত রয়েছে। ব্যক্তিগত হিসাবগুলোতে স্বাভাবিকভাবে লেনদেন কার্যক্রম চলছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা

ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল আমানতের টাকা ফেরত দিতে তারল্য সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এই অর্থের মাধ্যমে ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে মেয়াদি আমানতের পুরো মূল টাকা এককালীন তুলে নিলে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। সে ক্ষেত্রে কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, যারা এখনই টাকা তুলবেন না এবং আমানত চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন। ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সময়ে মুনাফাসহ অর্থ জমা ও উত্তোলনের পূর্ণ সুযোগ থাকবে।

চরম অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির কারণে সংকটে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার আমানত ছিল। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবেই রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, সাময়িক এই সংকট কাটিয়ে উঠে ব্যাংকটি এখন স্বাভাবিক কার্যক্রমের দিকে ফিরছে এবং গ্রাহকদের আস্থা ধীরে ধীরে পুনর্বহাল হচ্ছে।